শিরোনাম:
Network News BD
মঙ্গলবার, ২৭ অক্টোবর ২০২৬
মেনু
প্রচ্ছদ

© 2026 Network News BD

ক্ষুধামুক্ত বিশ্বের প্রত্যাশায় শিক্ষার্থীদের ভাবনা

নেটওয়ার্ক নিউজ বিডি

প্রকাশিত: ২৭ অক্টোবর ২০২৬, ১১:১১ AM ২৭ বার পঠিত
ক্ষুধামুক্ত বিশ্বের প্রত্যাশায় শিক্ষার্থীদের ভাবনা

কৃষি প্রযুক্তির অভাবনীয় উন্নতি আর উপচে পড়া উৎপাদনের এই যুগেও বিশ্বজুড়ে প্রতিদিন কোটি কোটি মানুষ খালি পেটে ঘুমাতে যান। জাতিসংঘের তথ্যমতে বিশ্বের বিপুল পরিমাণ খাদ্য যখন অপচয় হচ্ছে, ঠিক তখনই একটি বড় অংশ মুখোমুখি হচ্ছে তীব্র খাদ্যসংকটের। বৈশ্বিক খাদ্যসংকট নিয়ে শিক্ষার্থীদের ভাবনা ও মতামত তুলে ধরেছেন বাংলাদেশ তরুণ কলাম লেখক ফোরাম, ইডেন মহিলা কলেজ শাখার প্রশিক্ষণবিষয়ক সম্পাদক শাম্মী শফিক জুঁই।

খাদ্য সবার অধিকার পুষ্টি নিশ্চিত হোক সবার
খাদ্য মানুষের মৌলিক চাহিদা। বেঁচে থাকার জন্য মানুষ খাদ্য গ্রহণ করে, আর সুস্থ ও কর্মক্ষম জীবন গড়ে তুলতে প্রয়োজন সুষম ও পুষ্টিকর খাবার। বাংলাদেশ কৃষিপ্রধান দেশ। এ দেশের মাটি নানা ধরনের শাকসবজি, ফলমূল, মাছ ও অন্যান্য খাদ্য উৎপাদনের উপযোগী। গ্রাম থেকে শহরে সর্বত্রই মানুষের জীবন ও জীবিকার সঙ্গে খাদ্যের সম্পর্ক নিবিড়। একটি পরিবারের প্রতিদিনের খাবারে ভাত থাকলেও সেখানে পর্যাপ্ত ডিম, মাছ কিংবা দুধের অভাব থাকতে পারে। ফলে পেট ভরলেও শরীরের প্রয়োজনীয় পুষ্টির ঘাটতি থেকে যেতে পারে। শিশুদের সঠিক বৃদ্ধি, শিক্ষার্থীদের মনোযোগ, কর্মজীবী মানুষের কর্মক্ষমতা এবং বয়স্কদের সুস্থতার জন্য প্রয়োজন সুষম খাদ্য। তবে পুষ্টিকর খাদ্য গ্রহণের ক্ষেত্রে অর্থনৈতিক সামর্থ্য একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। পরিবারের আয়, খাদ্যপণ্যের দাম ও সহজলভ্যতা মানুষের খাদ্যাভ্যাসকে প্রভাবিত করে। খাদ্য সবার অধিকার, তাই প্রবীণ, প্রতিবন্ধী ব্যক্তি ও নিম্ন আয়ের পরিবার সবার জন্য খাদ্য ও পুষ্টির নিশ্চয়তা গুরুত্বপূর্ণ। খাদ্য শুধু বেঁচে থাকার উপকরণ নয়, এটি সুস্থভাবে বেঁচে থাকার ভিত্তি।
জুহা
শিক্ষার্থী, সমাজকর্ম বিভাগ, ইডেন মহিলা কলেজ।

বিশ্বজুড়ে খাদ্যসংকট ও ক্ষুধার্ত মানুষের পাশে দাঁড়ানোর সময় এখনই
বিশ্বজুড়ে খাদ্যসংকট বর্তমানে একটি গুরুতর সমস্যা। এর ফলে কোটি কোটি মানুষ অনাহার ও অপুষ্টিতে ভুগছে। যুদ্ধ বিগ্রহ, জলবায়ু পরিবর্তনজনিত খরা ও বন্যা এবং অর্থনৈতিক সংকটের কারণে পরিস্থিতি দিন দিন আরও কঠিন হয়ে উঠছে। এই অবস্থায় ক্ষুধার্ত মানুষের পাশে দাঁড়ানো শুধু মানবিক দায়িত্ব নয়, বরং সম্মিলিত উদ্যোগেরও দাবি। খাদ্যসংকট মোকাবিলায় আমরা নিজেরাও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারি। প্রথমত খাদ্যের অপচয় কমাতে হবে এবং মানুষকে সচেতন করতে হবে। দ্বিতীয়ত পারিবারিক বাগান তৈরি ও স্থানীয় কৃষকদের সহায়তার মাধ্যমে খাদ্য উৎপাদন বাড়ানো সম্ভব। পাশাপাশি অসহায় মানুষের জন্য ত্রাণ তহবিলে অনুদান দেওয়া যেতে পারে। ডব্লিউএফপি ও ইউনিসেফের মতো আন্তর্জাতিক সংস্থার মাধ্যমে সহায়তা পৌঁছে দেওয়ার সুযোগও রয়েছে। ক্ষুধামুক্ত বিশ্ব গড়তে ব্যক্তি, সমাজ ও রাষ্ট্রকে একসঙ্গে কাজ করতে হবে।
নাসরিন আক্তার
শিক্ষার্থী, সমাজকর্ম বিভাগ, ইডেন মহিলা কলেজ।

খাদ্যের অপচয় রোধে চাই ব্যক্তিগত ও সামাজিক সচেতনতা
খাদ্য মানুষের মৌলিক চাহিদা। অথচ অসচেতনতা ও দায়িত্বহীনতার কারণে প্রতিদিন প্রচুর খাবার নষ্ট হচ্ছে। একদিকে খাবার অপচয় হচ্ছে, অন্যদিকে অনেক মানুষ পর্যাপ্ত খাবার পাচ্ছে না। এ পরিস্থিতি পরিবর্তনে ব্যক্তিগত ও সামাজিক সচেতনতা অত্যন্ত জরুরি। প্রত্যেকের উচিত প্রয়োজন অনুযায়ী খাবার গ্রহণ করা এবং অতিরিক্ত খাবার নষ্ট না করা। বিয়ে, জন্মদিন ও বিভিন্ন সামাজিক অনুষ্ঠানে প্রয়োজনের অতিরিক্ত খাবার আয়োজন ও পরিবেশন থেকে বিরত থাকতে হবে। পরিবার থেকেই শিশুদের খাদ্যের মূল্য ও অপচয়ের ক্ষতিকর দিক সম্পর্কে শিক্ষা দিতে হবে। শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, গণমাধ্যম ও সামাজিক সংগঠনগুলো সচেতনতামূলক প্রচারণার মাধ্যমে মানুষকে উদ্বুদ্ধ করতে পারে। নিরাপদ অতিরিক্ত খাবার সংরক্ষণ ও অভাবী মানুষের মধ্যে বিতরণের উদ্যোগও নেওয়া প্রয়োজন। মনে রাখতে হবে খাদ্যের অপচয় রোধ শুধু ব্যক্তিগত দায়িত্ব নয়, এটি সামাজিক দায়িত্বও। সবার সম্মিলিত সচেতনতাই পারে খাদ্যের অপচয় কমিয়ে ক্ষুধামুক্ত পৃথিবী গড়তে।
মাগফেরা আখতার
শিক্ষার্থী, সমাজকর্ম বিভাগ, ইডেন মহিলা কলেজ।

জলবায়ু পরিবর্তন ও কৃষিসংকট খাদ্যনিরাপত্তার নতুন চ্যালেঞ্জ
বাংলাদেশ যেহেতু কৃষিপ্রধান দেশ, তাই জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবটা বাংলাদেশে বেশিই স্পষ্ট। জলবায়ু পরিবর্তন বাংলাদেশের কৃষকদের অনেকটা হুমকির মুখে ফেলে দেয়। কখনো অতিবৃষ্টি, অতিরিক্ত তাপমাত্রা, অতিরিক্ত লবণাক্ততা, খরা ইত্যাদি মিলিয়ে এ দেশের কৃষকদের অনেক হিমশিম খেতে হয়। কেননা অতিবৃষ্টির কারণে ফসল নষ্ট হয়, আবার পানির অভাবে জমি অনাবাদি থাকে, উপকূলীয় অঞ্চলে জমির লবণাক্ততা বৃদ্ধির ফলে উর্বরতা নষ্ট হচ্ছে। কৃষি উৎপাদন কমে গেলে বাজারে খাদ্যপণ্যের সরবরাহে ঘাটতি দেখা দিতে পারে। এর ফলে খাদ্যদ্রব্যের দাম বৃদ্ধি পায়, যা নিম্ন আয়ের মানুষের খাদ্যনিরাপত্তাকে হুমকির মুখে ফেলে। বিশেষ করে কৃষিনির্ভর পরিবারগুলো আর্থিক সংকটে পড়ে। এই সংকট মোকাবিলায় জলবায়ুসহিষ্ণু ফসলের জাত উদ্ভাবন, আধুনিক সেচব্যবস্থা, পানি সংরক্ষণ এবং কৃষকদের প্রশিক্ষণের ওপর গুরুত্ব দিতে হবে। পাশাপাশি কৃষকদের সহজ শর্তে ঋণ ও প্রয়োজনীয় প্রযুক্তি সরবরাহ নিশ্চিত করা জরুরি। টেকসই কৃষিব্যবস্থা গড়ে তুলতে পারলেই জলবায়ু পরিবর্তনের ঝুঁকি মোকাবিলা করে ভবিষ্যতের খাদ্যনিরাপত্তা নিশ্চিত করা সম্ভব।
আফরিদা ইসলাম
শিক্ষার্থী, ইসলামের ইতিহাস ও সংস্কৃতি বিভাগ, ইডেন মহিলা কলেজ।

মন্তব্য করুন

আজকের নামাজের সময়সূচি (ঢাকা)

সময় লোড হচ্ছে...

ADVERTISEMENT

ফেসবুকে আমরা

প্রতিদিনের খবর ইমেইলে

লিংক কপি হয়েছে!