শিরোনাম:
Network News BD
মঙ্গলবার, ২৭ অক্টোবর ২০২৬
মেনু
প্রচ্ছদ

© 2026 Network News BD

কুয়াকাটায় জলোচ্ছ্বাস আর বন্ধুত্বের মেলবন্ধনে মুখর স্মৃতির পসরা

ক্যাম্পাস ডেস্ক

ক্যাম্পাস ডেস্ক

প্রকাশিত: ২৬ অক্টোবর ২০২৬, ১০:০৮ PM ৩৫ বার পঠিত
কুয়াকাটায় জলোচ্ছ্বাস আর বন্ধুত্বের মেলবন্ধনে মুখর স্মৃতির পসরা

ছবি: লেখকের সৌজন্যে

তৌফিকুর ইসলাম শিশির:

দিনটি ছিল সেপ্টেম্বরের ২৩ তারিখ। গোপালগঞ্জ বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিভাগের উদ্যোগে আয়োজন করা হয় কুয়াকাটা সমুদ্রসৈকতে শিক্ষা সফর। কুয়াকাটা বাংলাদেশের দক্ষিণ পশ্চিমাঞ্চলের পটুয়াখালী জেলার লতাচাপলী ইউনিয়নে অবস্থিত একটি প্রাকৃতিক সৈকত। বিভাগের জ্যেষ্ঠ শিক্ষার্থীদের নির্দেশনায় সন্ধ্যার মধ্যেই ক্যাম্পাসে জড়ো হতে শুরু করেন সবাই। আমি বাগেরহাট থেকে যাতায়াত করায় ক্যাম্পাসে পৌঁছাতে কিছুটা রাত হয়ে যায়। ক্যাম্পাসে পৌঁছে দেখি, প্রসাধনসামগ্রীর দোকানের সামনে প্রথম বর্ষের নবীন শিক্ষার্থীরা অপেক্ষায় আছেন। বিশ্ববিদ্যালয়ে ক্লাস শুরুর মাত্র দুই মাসের মাথায় এমন একটি আয়োজনে অংশ নিতে পেরে তাঁদের চোখেমুখে ছিল দারুণ উচ্ছ্বাস। চা তরঙ্গের নিচে অপেক্ষা করছিলেন আমার বন্ধুরাও। হঠাৎ বৃষ্টিতে অনেকের আসতে দেরি হলেও বৃষ্টি থামার পর জ্যেষ্ঠ শিক্ষার্থী ও বন্ধুরা একে একে এসে জড়ো হন। রাত ১২টা পেরিয়ে ২৪ তারিখে পা দিতেই আমাদের ৯৬ জনের দলটি দুটি বাসে করে কুয়াকাটার উদ্দেশে রওনা হয়।

বাস ছাড়ার পর গান আর আড্ডায় মেতে ওঠেন সবাই। একপর্যায়ে বাস বিরতি নিলে হালকা নাশতা সেরে নিই আমরা। বাসে ফেরার পর বিভাগের সভাপতি ও আমাদের সম্মানিত শিক্ষক বদরুল ইসলাম স্যার সবার হাতে চিপস তুলে দেন। দীর্ঘ তিন ঘণ্টার হইচই আর আনন্দে আমার ও বন্ধু মুক্তার গলা ভেঙে যাওয়ার উপক্রম। যাত্রাপথে কখন যে ঘুমিয়ে পড়েছি, তা আর মনে নেই। ঘুম ভাঙতেই দেখি আমরা গন্তব্যে পৌঁছে গেছি। বাস থেকে নেমে হোটেলে গিয়ে ব্যাগ রেখেই ভোর ৭টার দিকে বন্ধুদের নিয়ে বেরিয়ে পড়ি সমুদ্রের পানে। সমুদ্রের সামনে দাঁড়িয়ে মনে পড়ছিল গত বছর এক ভাইয়ের সঙ্গে এখানে আসার কথা। তবে এবারের অনুভূতি সম্পূর্ণ আলাদা, কারণ এবার সঙ্গে আছেন বিভাগের সব বন্ধু, বড় ভাইবোন ও দুজন সম্মানিত শিক্ষক।

সকালের নাশতা সেরে কিছুক্ষণ পর শিক্ষকদের সঙ্গে নিয়ে আমরা আবার সৈকতে যাই। শুরু হয় ছবি তোলা ও ভিডিও করার পর্ব। বদরুল স্যার আমাদের নানা ভঙ্গিতে ছবি তোলার দিকনির্দেশনা দেন। ছবি তোলার একপর্যায়ে সবাই মিলে লাফ দিয়ে ক্যামেরাবন্দী হই, যেন যেমন খুশি তেমন লাফাও পর্ব। ছবি তোলা শেষে দুপুরে খাবার খেয়ে হোটেলে ফিরে ফ্রেশ হয়ে নিই। বিকেলে খেলার সামগ্রী নিয়ে আবারও সৈকতে হাজির হই আমরা। শিক্ষা সফরে এসে খেলাধুলা হবে না, তা কি হয়! দড়ি টানাটানি খেলায় আমাদের ইমিডিয়েট সিনিয়র আইআর ০৯ ব্যাচের আপুরা প্রথম স্থান অধিকার করেন এবং একই খেলায় আমাদের আইআর ১০ ব্যাচের বন্ধুরাও বিজয়ী হয়। খেলা শেষে সবাই ছোট ছোট দলে ভাগ হয়ে সৈকতের সৌন্দর্য উপভোগ করি। রাতে রেস্তোরাঁয় কোড়াল মাছের বারবিকিউ দিয়ে চমৎকার একটি ডিনার পর্ব শেষ করে হোটেলে ফিরে বিশ্রামে যাই।

পরদিন শুক্রবার সকালে উঠে নাশতা সেরে টমটমে করে আমরা সবাই চলে যাই ঝাউবনে। সেখানে সমুদ্রের পাড়ে দোলনায় দোল খাওয়া আর ঢেউয়ের সঙ্গে মিতালিতে মেতে ওঠেন অনেকে। সমুদ্রে আমার বন্ধু অনিক একটি বড় বোয়াল মাছ ধরে সবাইকে চমকে দেয়। সেখান থেকে দুপুরের খাবার সেরে আমরা যাই তিন নদীর মোহনায়। সামনে সুন্দরবন আর চারপাশের অপরূপ দৃশ্য আমাদের মুগ্ধ করে। সেখানে আইআর ১০ ব্যাচের আমরা কয়েকজন মিলে ভবিষ্যতের স্মৃতি হিসেবে বেশ কিছু ভিডিও ধারণ করি। মোহনা থেকে ফিরে সৈকতে স্যারের জন্য অপেক্ষা করতে থাকি। স্যার এসে আমাদের নির্দেশ দেন যেন আমরা দলবদ্ধ হয়ে নিরাপদে কেনাকাটা করি। স্যারের পরামর্শমতো টুকটাক কেনাকাটা আর রাতের খাবার শেষ করে আমরা হোটেলের দিকে পা বাড়াই। রাত ১২টার দিকে বাস ছাড়লে আবারও সেই শান্তির ঘুম এবং চোখ খুলতেই দেখি আমাদের প্রিয় ক্যাম্পাস।

সুন্দর ও সুশৃঙ্খলভাবে এই শিক্ষা সফর সফল করার জন্য আয়োজক কমিটির সবার প্রতি গভীর শ্রদ্ধা ও ভালোবাসা। বিশেষ কৃতজ্ঞতা জানাই আমাদের বিভাগের সভাপতি বদরুল ইসলাম স্যারকে, যাঁর নির্দেশনায় এমন চমৎকার একটি আয়োজন সম্ভব হয়েছে। আনন্দমুখর এমন আয়োজন প্রতিবছরই যেন অনুষ্ঠিত হয়, এটাই আমাদের প্রত্যাশা।

শিক্ষার্থী, আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিভাগ, গোপালগঞ্জ বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়, গোপালগঞ্জ।

মন্তব্য করুন

আজকের নামাজের সময়সূচি (ঢাকা)

সময় লোড হচ্ছে...

ADVERTISEMENT

ফেসবুকে আমরা

প্রতিদিনের খবর ইমেইলে

লিংক কপি হয়েছে!