শিরোনাম:
Network News BD
রবিবার, ১১ অক্টোবর ২০২৬
মেনু
প্রচ্ছদ

© 2026 Network News BD

ব্ল্যাক কফি নাকি গ্রিন টি?

ডেস্ক রিপোর্ট

প্রকাশিত: ১১ অক্টোবর ২০২৬, ২:২৫ PM ১৯ বার পঠিত
ব্ল্যাক কফি নাকি গ্রিন টি?

ছবি: সংগৃহীত

সকালের ঘুম ভাঙার পর এক কাপ ধোঁয়া ওঠা গরম পানীয় ছাড়া অনেকেরই দিন শুরু হতে চায় না। স্বাস্থ্যসচেতন মানুষের কাছে এই প্রাত্যহিক অভ্যাসে এখন দুধ-চিনির চায়ের জায়গা দখল করেছে ব্ল্যাক কফি কিংবা গ্রিন টি। তবে এই দুই পানীয়ের মধ্যে কোনটি সেরা, তা নিয়ে তর্কের শেষ নেই। কফিপ্রেমীদের মতে, অতিরিক্ত গ্রিন টি পান করা শরীরের জন্য ভালো নয়। আবার গ্রিন টি যাঁদের পছন্দ, তাঁরা কফিকে স্বাস্থ্যের জন্য ক্ষতিকর বলেই মনে করেন। অথচ পুষ্টিবিজ্ঞানের হিসেবে চিনি ও দুধ ছাড়া পরিমিত পরিমাণে পান করলে এই দুটি পানীয়ই আমাদের শরীরের জন্য দারুণ উপকারী। দুটোতেই ক্যালোরির পরিমাণ নামমাত্র এবং রয়েছে প্রচুর অ্যান্টি-অক্সিডেন্ট। কিন্তু প্রশ্ন হলো, শরীরের বাড়তি মেদ ঝরানো বা ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণের মতো নির্দিষ্ট লক্ষ্যে কোন পানীয়টি এগিয়ে থাকবে?

ব্ল্যাক কফির প্রধান শক্তি হলো এর ক্যাফেইন। এই উপাদানটি আমাদের মস্তিষ্কে ডোপামাইন এবং নরেপিনেফ্রিন হরমোনের নিঃসরণ বাড়িয়ে দেয়। ফলে এক চুমুক কফি পানের পরই ক্লান্তি কেটে মস্তিষ্ক সজাগ হয়ে ওঠে এবং স্মৃতিশক্তিও ভালো কাজ করে। পাশাপাশি শরীরে অ্যাড্রিনালিন হরমোনের প্রবাহ বাড়িয়ে আমাদের শারীরিক কর্মক্ষমতা ও চঞ্চলতা বাড়াতে সাহায্য করে এই পানীয়। কফিতে থাকা অ্যান্টি-অক্সিডেন্ট শরীরের ভেতরের প্রদাহ কমায় এবং কোষের ক্ষয় রোধ করে। এ ছাড়া এটি শরীরের বিপাকীয় হার বা মেটাবলিজম বাড়িয়ে দেয়, যা ওজন কমানোর প্রক্রিয়াকে সহজ করে তোলে। এমনকি বেশ কিছু গবেষণায় দেখা গেছে, টাইপ-২ ডায়াবেটিসে আক্রান্ত রোগীদের জন্যও ব্ল্যাক কফি বেশ উপকারী।

অন্যদিকে, গ্রিন টি বা সবুজ চায়ের মূল জাদু লুকিয়ে আছে এর ক্যাটেকিন নামক অ্যান্টি-অক্সিডেন্টে। এটি শরীরের প্রদাহ দূর করে সার্বিক সুস্থতা বজায় রাখতে বড় ভূমিকা রাখে। পুষ্টিবিদদের মতে, গ্রিন টি শরীরের বিপাকক্রিয়া ত্বরান্বিত করে বাড়তি চর্বি গলাতে দারুণ সাহায্য করে। এতে ক্যাফেইনের পাশাপাশি এল-থিয়ানিন নামের একধরনের অ্যামিনো অ্যাসিড থাকে। এই দুই উপাদান মিলে মস্তিষ্কের কার্যকারিতা বাড়ায়, কাজের মনোযোগ ধরে রাখে এবং মনমেজাজ ফুরফুরে করে তোলে। এ ছাড়া রক্তের খারাপ কোলেস্টেরল কমিয়ে ভালো কোলেস্টেরলের মাত্রা বাড়াতে এবং শরীরে ইনসুলিনের কার্যকারিতা উন্নত করতে গ্রিন টি অত্যন্ত কার্যকর।

ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণের ক্ষেত্রে এই দুই পানীয়ের তুলনামূলক বিচার করলে দেখা যায়, দুটোই প্রায় ক্যালোরিশূন্য হওয়ায় ডায়াবেটিস রোগীদের জন্য নিরাপদ। কফিতে থাকা প্রাকৃতিক উদ্ভিজ্জ উপাদান শরীরে গ্লুকোজের বিপাকক্রিয়া উন্নত করে এবং ইনসুলিনের কর্মক্ষমতা বাড়িয়ে টাইপ-২ ডায়াবেটিসের ঝুঁকি কমায়। আবার গ্রিন টি-তে থাকা ইজিসিজি (EGCG) নামক বিশেষ ক্যাটেকিন শরীরের ইনসুলিন রেজিস্ট্যান্স কমিয়ে রক্তে শর্করার সমতা বজায় রাখে। তবে ডায়াবেটিস রোগীদের ক্ষেত্রে কফি পানে কিছুটা সতর্ক থাকা জরুরি। কারণ, কফির ক্যাফেইন কারও কারও ক্ষেত্রে সাময়িকভাবে রক্তে শর্করার মাত্রা বাড়িয়ে দিতে পারে। তাই ডায়াবেটিস থাকলে চিকিৎসকের পরামর্শ নিয়েই কফি পান করা বুদ্ধিমানের কাজ।

ওজন কমানোর দৌড়েও ব্ল্যাক কফি এবং গ্রিন টি একে অপরের যোগ্য প্রতিদ্বন্দ্বী। কফি পান করলে বেশ কিছুক্ষণ পেট ভরা অনুভূত হয়, যা আমাদের অযথা বা অতিরিক্ত খাবার খাওয়ার প্রবণতা কমিয়ে দেয়। তা ছাড়া ব্যায়াম বা শরীরচর্চার আগে এক কাপ ব্ল্যাক কফি পান করলে শরীরে বাড়তি শক্তি পাওয়া যায় এবং দ্রুত ক্যালোরি পোড়ে। অন্যদিকে, গ্রিন টি-তে ক্যাফেইনের মাত্রা কম থাকলেও এর বিশেষ অ্যান্টি-অক্সিডেন্ট শরীরে নতুন করে মেদ জমতে দেয় না।

দিনশেষে আপনার শরীরের প্রয়োজন এবং জীবনযাত্রার ওপরই নির্ভর করবে আপনি কোন পানীয়টি বেছে নেবেন। যদি শরীরচর্চার আগে তাৎক্ষণিক শক্তি চান, ক্ষুধা নিয়ন্ত্রণে রাখতে চান এবং দ্রুত ক্যালোরি পোড়াতে চান, তবে ব্ল্যাক কফি আপনার জন্য সেরা পছন্দ। আর যদি অতিরিক্ত ক্যাফেইন এড়িয়ে খুব স্বাভাবিকভাবে মেদ ঝরাতে চান, হৃদ্‌যন্ত্র ভালো রাখতে চান এবং ইনসুলিনের কার্যকারিতা বাড়াতে চান, তবে প্রতিদিনের তালিকায় অনায়াসেই রাখতে পারেন গ্রিন টি।

মন্তব্য করুন

আজকের নামাজের সময়সূচি (ঢাকা)

সময় লোড হচ্ছে...

ADVERTISEMENT

ফেসবুকে আমরা

প্রতিদিনের খবর ইমেইলে

লিংক কপি হয়েছে!