শিরোনাম:
Network News BD
বৃহস্পতিবার, ২৯ অক্টোবর ২০২৬
মেনু
প্রচ্ছদ

© 2026 Network News BD

যৌতুক, মোহরানা ও মেজবান: চট্টগ্রামের সামাজিক প্রথা ও কিছু জিজ্ঞাসা

নেটওয়ার্ক নিউজ বিডি

প্রকাশিত: ২৯ অক্টোবর ২০২৬, ১০:০২ AM ১৭ বার পঠিত
যৌতুক, মোহরানা ও মেজবান: চট্টগ্রামের সামাজিক প্রথা ও কিছু জিজ্ঞাসা

নেটওয়ার্ক নিউজ বিডি সম্পাদিত

আব্দুল্লাহ আল মুজাহিদ:

চাটগাঁইয়া পরিচয় আমাদের গর্ব। আমাদের ভাষা আন্তরিকতা আতিথেয়তা সবকিছুরই সৌন্দর্য আছে। কিন্তু দুঃখের বিষয় আমাদের এই আশীর্বাদগুলো এখন অনেক ক্ষেত্রে অভিশাপে পরিণত হচ্ছে। ঐতিহ্যের নামে আমরা এমন কিছু বিষয়কে সামাজিক নিয়ম বানিয়ে ফেলছি যেগুলো নিয়ে গর্ব করার বদলে আমাদের লজ্জা পাওয়া উচিত।

সবার আগে শুরু করা যাক যৌতুক নিয়ে। বর্তমান সময়ে বাংলাদেশের যৌতুকপ্রবণ জেলাগুলোর মধ্যে চট্টগ্রামের অবস্থান ঠিক কত নম্বরে তার নির্ভরযোগ্য পরিসংখ্যান হয়তো নেই। কিন্তু চট্টগ্রামের বিয়ের বাজারে যৌতুকের নামে যে লেনদেন চাপ আর প্রত্যাশার সংস্কৃতি আছে তা অস্বীকার করার উপায় নেই। তথাকথিত ভদ্র লাইনটি হলো অনরা দিলে এগিন কি আঁরা ব্যাবার গইজ্জুম নে এগিন তো অনর মাইয়্যেরলাই দিবেন দে। এই একটি লাইনের আড়ালে লুকিয়ে থাকে একটি পরিবারের লোভ একটি অযোগ্য ও নিষ্কর্মা ছেলের অক্ষমতা ঢাকার সর্বোচ্চ চেষ্টা আর মেয়ের বাবার পকেটের ওপর অবাধ অধিকার ফলানোর মানসিকতা। কয় পদের ফার্নিচার দিয়েছে ফ্রিজ দিয়েছে কি না মেয়ের বাবা আর কী কী দিতে পারবেন এসব প্রশ্নের উত্তর খুঁজতে খুঁজতে এমন অবস্থা হয় যেন মেয়ের মা বাবা মেয়ে জন্ম দিয়ে বিরাট কোনো অপরাধ করে ফেলেছেন। এরপর আছে ছয়মাসি ফল ঈদের কাপড় ঈদের গরু ছাগল দেওয়ার অলিখিত নিয়ম। এগুলো যেন আর উপহার নেই একেকটি অলিখিত কিস্তি।

এরপর আসে মোহরানা নিয়ে আমাদের সামাজিক ব্যবসা। মোহরানা নারীর অধিকার। এটি কোনো দয়া দাক্ষিণ্য নয় কোনো উপহারও নয়। কিন্তু এই অধিকারকে লোকদেখানো প্রতিযোগিতার হাতিয়ার বানানো হচ্ছে। মেয়ের গায়ের রং ফর্সা মানে মোহরানা তিরিশ লাখ আর শারীরিক গঠন সুন্দর মানেই পঞ্চাশ লাখ। মনে হয় বিয়ের আগে মেয়ের সৌন্দর্যের সঙ্গে মোহরানার একটি শেয়ারবাজার চালু আছে। কেউ একবারও চিন্তা করেন না যার সঙ্গে মেয়ের বিয়ে দিচ্ছেন তার এই মোহরানা পরিশোধ করার সামর্থ্য আছে কি না। মোহরানা ঠিক করার সময় লাখ লাখ টাকার হিসাব আর পরিশোধ করার সময় শুরু হয় টালবাহানা। অথচ এরাই নিজেদের অনেক বড় ঈমানদার ভাবেন জান্নাতের আশা করেন কিন্তু মোহরানা পরিশোধ না করেই সংসার শুরু করে দেন। আগে থেকেই পরিকল্পনা থাকে সংসার শুরু করি পরে বউয়ের পা ধরে মোহরানা মাফ চেয়ে নেব। বিয়ের আগে যে টাকা দেওয়ার সামর্থ্য নেই সেই টাকা নিয়ে বড় বড় কথা বলার কোনো দরকার নেই।

সর্বশেষ প্রসঙ্গ মেজবান। চাটগাঁইয়ারা গরুর মাংস পছন্দ করেন এবং মেজবান আমাদের অন্যতম ঐতিহ্য ও আতিথেয়তার প্রতীক। কিন্তু এই খাদ্যপ্রেমকে প্রদর্শন করতে করতে আমরা এমন জায়গায় নিয়ে যাচ্ছি যেখানে অনেকের কাছে মেজবান দেওয়া আর সামাজিক প্রতিযোগিতায় টিকে থাকা প্রায় একই বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে। যে আয়োজনের উদ্দেশ্য মানুষের আপ্যায়ন সেখানে গরিব অসহায় মানুষই যদি সবার শেষে খেতে পান তাহলে এই আয়োজনের সামাজিক সৌন্দর্যটা কোথায় থাকে। আমাদের আপত্তি ঐতিহ্যে নয় আপত্তি ঐতিহ্যের নামে প্রতিযোগিতায়।

এখনো যদি কেউ মনে করেন এগুলো সবই নিরীহ প্রথা আর এর পেছনে কোনো সামাজিক চাপ বা আর্থিক ক্ষতি নেই তাহলে তিনি বাস্তবতা থেকে অনেক দূরে আছেন। একটু চোখ মেলে তাকালেই দেখা যায় এই যৌতুকের কারণে কত মেয়ের বিয়ে আটকে থাকে কত পরিবার ঋণে ডুবে যায় কত যোগ্য ছেলে আর্থিক অক্ষমতা বা সামাজিক প্রত্যাশার কারণে সঠিক সময়ে বিয়ে করতে পারেন না। চাটগাঁইয়া পরিচয় আমাদের গর্ব। কিন্তু এই পরিচয়ের দোহাই দিয়ে অন্যায়কে বৈধতা দেওয়ার কোনো মানে হয় না। ভালো প্রথাগুলো ধরে রাখুন খারাপগুলো বর্জন করুন। যৌতুকের বিরুদ্ধে দাঁড়ান মোহরানাকে নারীর প্রকৃত অধিকার হিসেবে সম্মান করুন আর মেজবান দিন নিজের সামর্থ্য অনুযায়ী লোক দেখানোর জন্য নয়।

 শিক্ষার্থী, সাতকানিয়া সরকারি কলেজ আদুনগর, লোহাগাড়া, চট্টগ্রাম।

মন্তব্য করুন

আজকের নামাজের সময়সূচি (ঢাকা)

সময় লোড হচ্ছে...

ADVERTISEMENT

ফেসবুকে আমরা

প্রতিদিনের খবর ইমেইলে

লিংক কপি হয়েছে!