মো. শরীফুল ইসলাম:
বাংলাদেশের সব চাকরির নিয়োগ পরীক্ষা শুধু রাজধানীতে আয়োজন না করে বিভাগীয় শহরে নেওয়া উচিত। দেশের প্রত্যন্ত অঞ্চলের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে অধ্যয়নরত অনেক চাকরিপ্রার্থীর পক্ষে সব সময় রাজধানীতে এসে নিয়োগ পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করা সম্ভব হয় না। চাকরিপ্রার্থীদের মধ্যে অনেকের আর্থিক অবস্থা বেশ সংকটাপন্ন। অনেকে টিউশনির টাকা জমিয়ে, কেউবা ধারদেনা করে পরীক্ষার উদ্দেশ্যে রাজধানীতে আসেন। রাজধানীতে এসে তাঁদের আশ্রয়ের ঠিকানা খুঁজে পাওয়াও মুশকিল হয়ে পড়ে। এতে চাকরিপ্রার্থীদের চরম আর্থিক ক্ষতি ও ভোগান্তি পোহাতে হয়। যাতায়াত ও আবাসনের এই অতিরিক্ত খরচের ভয়ে অনেক শিক্ষার্থী চাকরির নিয়োগ পরীক্ষায় আবেদনই করেন না, যা তাঁদের মধ্যে গভীর হতাশার জন্ম দেয়।
রাজধানীতে সব চাকরির নিয়োগ পরীক্ষা আয়োজনের ফলে একসঙ্গে প্রায় দুই থেকে তিন লাখ চাকরিপ্রার্থীর আগমন ঘটে। এতে রাজধানীর পরিবহন ও আবাসনব্যবস্থার ওপর অতিরিক্ত চাপ সৃষ্টি হয়। দেশের সব বিভাগীয় শহরে পরীক্ষার আয়োজন করলে কেবল ঢাকার ওপরই চাপ কমবে তা নয়, বরং চাকরিপ্রার্থীদের সময় ও অর্থের ব্যয় অনেকটাই কমে যাবে।
সময়ের সঙ্গে জনসংখ্যা বহুগুণ বৃদ্ধি পেলেও সেই অনুযায়ী মানুষের জীবনযাত্রার মান বাড়েনি। প্রত্যন্ত অঞ্চলের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোতে অনেক সময় পর্যাপ্ত সুযোগ সুবিধা না থাকায় শিক্ষার্থীরা ভর্তি হতে চান না, ফলে আসন ফাঁকা থেকেই যায়। বিকেন্দ্রীকরণের মাধ্যমে বিভাগীয় শহরে এসব পরীক্ষার আয়োজন করা হলে প্রান্তিক পর্যায়ের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোরও গুরুত্ব বাড়বে। দেশের বিভিন্ন পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের ভর্তি পরীক্ষা যেখানে বিভাগীয় শহরে নেওয়া হচ্ছে, সেখানে সরকারি চাকরির নিয়োগ পরীক্ষার ক্ষেত্রেও একই পথ অনুসরণ করা এখন সময়ের দাবিতে পরিণত হয়েছে।
হয়তো দেশব্যাপী এসব পরীক্ষার আয়োজন করা কিছুটা ব্যয়বহুল হবে, কিন্তু বেকার তরুণদের ভোগান্তি ও আর্থিক ক্ষতির কথা বিবেচনা করে এই উদ্যোগ নেওয়া জরুরি। এ বিষয়ে বাংলাদেশ পাবলিক সার্ভিস কমিশন ও সংশ্লিষ্ট ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের দৃষ্টি আকর্ষণ করছি।
শিক্ষার্থী, রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগ ঢাকা সেন্ট্রাল ইউনিভার্সিটি।
