শিরোনাম:
Network News BD
সোমবার, ২৬ অক্টোবর ২০২৬
মেনু
প্রচ্ছদ

© 2026 Network News BD

ধূমপান কেবল ব্যক্তিগত অভ্যাস নয় এটি একটি সামাজিক ব্যাধি

নেটওয়ার্ক নিউজ বিডি

প্রকাশিত: ২৬ অক্টোবর ২০২৬, ৭:৫০ PM ১৮ বার পঠিত
ধূমপান কেবল ব্যক্তিগত অভ্যাস নয় এটি একটি সামাজিক ব্যাধি

নেটওয়ার্ক নিউজ বিডি সম্পাদিত

ইসরাত ইতু:

তামাক ও তামাকজাত দ্রব্য সেবন যে স্বাস্থ্যের জন্য ক্ষতিকর, তা নতুন করে বলার কিছু নেই। সিগারেটের প্যাকেটের গায়েই লেখা থাকে ধূমপান মৃত্যু ঘটায়। তবুও মানুষ জেনে বুঝে এই মরণনেশায় আসক্ত হচ্ছে। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার তথ্য অনুযায়ী, প্রতিবছর বিশ্বে ৮০ লাখের বেশি মানুষ তামাকজনিত কারণে মৃত্যুবরণ করে, যার মধ্যে প্রায় ১২ লাখ মানুষ পরোক্ষ ধূমপানের শিকার হয়ে মারা যায়। বাংলাদেশেও তামাকজনিত রোগে প্রতিদিন বহু মানুষের মৃত্যু হচ্ছে। এটি শুধু ব্যক্তির শারীরিক ক্ষতিই করে না, পারিবারিক ও সামাজিক অর্থনীতিতেও নেতিবাচক প্রভাব ফেলে।

বর্তমানে একটি বিষয় গভীরভাবে লক্ষ্য করা যাচ্ছে, তা হলো রাস্তাঘাট, বাজার, রেস্তোরাঁ, অফিস চত্বর, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের সামনে এমনকি গণপরিবহনের ভেতরেও অনেকে অবলীলায় ধূমপান করছেন। এটি এখন আর ব্যক্তিগত অভ্যাসের মধ্যে সীমাবদ্ধ নেই, বরং একটি সামাজিক ব্যাধি ও নাগরিক সমস্যায় পরিণত হয়েছে। অনেকেই মনে করেন ধূমপান তাঁর ব্যক্তিগত স্বাধীনতা, কিন্তু যখন তাঁর এই অভ্যাস অন্যের ক্ষতির কারণ হয়, তখন তা আর ব্যক্তিগত থাকে না।

এই অভ্যাসের সবচেয়ে ক্ষতিকর দিক হলো পরোক্ষ ধূমপান। যখন একজন ধূমপায়ী জনসমাগমস্থলে ধূমপান করেন, তখন তাঁর আশপাশে থাকা শিশু, নারী, বৃদ্ধ ও অধূমপায়ী ব্যক্তিরা বাধ্য হয়ে সেই বিষাক্ত ধোঁয়া গ্রহণ করেন। চিকিৎসাবিজ্ঞান বলছে, পরোক্ষ ধূমপান প্রত্যক্ষ ধূমপানের চেয়েও অনেক বেশি ক্ষতিকর। এর ফলে অধূমপায়ীদের মধ্যে ফুসফুস ক্যানসার, হৃদ্‌রোগ, হাঁপানি ও শ্বাসকষ্টের ঝুঁকি বহুগুণে বেড়ে যায়। বিশেষ করে শিশুদের জন্য এটি অত্যন্ত বিপজ্জনক এবং গর্ভবতী নারীরা এই ধোঁয়ার শিকার হলে গর্ভস্থ শিশুর মারাত্মক ক্ষতি হতে পারে। আমরা নিজেরা ধূমপান না করেও অন্যের ভুলের কারণে রোগে আক্রান্ত হচ্ছি, যা অত্যন্ত দুঃখজনক।

গণপরিবহনে ধূমপান একটি চরম ভোগান্তির নাম। বাস, ট্রেন বা লঞ্চে একজন যাত্রী ধূমপান করলে পুরো গাড়ির বাতাস দূষিত হয়ে যায়। অন্য যাত্রীদের শ্বাস নিতে কষ্ট হয়, দুর্গন্ধে বমি ভাব আসে। এটি অন্য যাত্রীর অধিকার ও স্বাধীনতার ওপর সরাসরি হস্তক্ষেপ। বাংলাদেশে ধূমপান ও তামাকজাত দ্রব্য ব্যবহার নিয়ন্ত্রণ আইন অনুযায়ী পাবলিক প্লেস, পাবলিক পরিবহন, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও হাসপাতালসহ সব স্থানে ধূমপান আইনত দণ্ডনীয় অপরাধ। কিন্তু দুঃখজনক হলেও সত্য, আইনের যথাযথ প্রয়োগ নেই বললেই চলে। আইন থাকা সত্ত্বেও ধূমপানকারীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে দেখা যায় না।

এই চিত্র তরুণ সমাজকে বিপথগামী করছে। যখন একজন কিশোর বা তরুণ দেখে যে রাস্তায় বা চায়ের দোকানে বড়রা ধূমপান করছে, তখন তার মধ্যেও ধূমপানের প্রতি একটি কৌতূহল ও আকর্ষণ জন্মায়। এভাবেই সে ধীরে ধীরে নেশার জগতে পা বাড়ায়। একটি সুস্থ প্রজন্ম গড়তে হলে আমাদের অবশ্যই তাদের সামনে ভালো উদাহরণ স্থাপন করতে হবে।

এই সমস্যা সমাধানে শুধু আইন দিয়ে হবে না, প্রয়োজন সমন্বিত উদ্যোগ। আইনের কঠোর প্রয়োগ নিশ্চিত করতে ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে নিয়ম অমান্যকারীদের জরিমানা করতে হবে। গণপরিবহন মালিক ও শ্রমিক সমিতিকে কঠোর নির্দেশনা দিতে হবে যেন কোনো গাড়িতে ধূমপান না হয়। পরিবার ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে ধূমপানের কুফল সম্পর্কে সচেতনতামূলক কার্যক্রম বাড়াতে হবে। ধূমপানমুক্ত এলাকার সংখ্যা বাড়াতে হবে এবং সর্বোপরি ধূমপায়ীদের নিজেদের বিবেক জাগ্রত হতে হবে।

ধূমপান শুধু ব্যক্তিগত অভ্যাস নয়, এটি একটি সামাজিক সমস্যা। এ সমস্যা সমাধানে আইনের যথাযথ প্রয়োগ, জনসচেতনতা বৃদ্ধি এবং অন্যের স্বাস্থ্যের প্রতি শ্রদ্ধাশীল হওয়া জরুরি। পরিশেষে আসুন ধূমপান থেকে বিরত থাকি, অন্যকে ধূমপানের ক্ষতি থেকে রক্ষা করি এবং একটি সুস্থ, সুন্দর ও ধূমপানমুক্ত সমাজ গড়ে তুলি।

শিক্ষার্থী, বাংলা বিভাগ, ইডেন মহিলা কলেজ।

বিষয়বস্তু:

মন্তব্য করুন

আজকের নামাজের সময়সূচি (ঢাকা)

সময় লোড হচ্ছে...

ADVERTISEMENT

ফেসবুকে আমরা

প্রতিদিনের খবর ইমেইলে

লিংক কপি হয়েছে!