শিরোনাম:
Network News BD
বৃহস্পতিবার, ২৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬
মেনু
প্রচ্ছদ

© 2026 Network News BD

উন্নয়নের আড়ালে থাকা প্রান্তিক জনপদ ও শিক্ষার্থীদের ভাবনা

ক্যাম্পাস ডেস্ক

ক্যাম্পাস ডেস্ক

প্রকাশিত: ৩ মে ২০২৬, ৭:৫১ PM ১১ বার পঠিত
উন্নয়নের আড়ালে থাকা প্রান্তিক জনপদ ও শিক্ষার্থীদের ভাবনা

গ্রাফিক্স: নেটওয়ার্ক নিউজ বিডি

দেশের প্রত্যন্ত অঞ্চলগুলো যেন হাজারো সমস্যার আবর্তে জরাজীর্ণ। জনদুর্ভোগ আর ভোগান্তি সেখানকার মানুষের নিত্যদিনের সঙ্গী। উন্নয়ন ও সংস্কারের নানা উদ্যোগ নেওয়া হলেও সঠিক তদারকির অভাবে তা প্রায়শই মাঠপর্যায় পর্যন্ত পৌঁছায় না। এর ফলে সবচেয়ে বেশি বিপাকে পড়েন নিম্ন ও মধ্যবিত্তরা। গ্রামীণ জনপদের এসব দৈনন্দিন সংকট ও বাস্তবতা সাতকানিয়া সরকারি কলেজের শিক্ষার্থীদের সাথে কথা বলে তাদের অভিমত জানাচ্ছেন তরুণ লেখক মুহিবুল হাসান রাফি।

কৃষকের নীরব কান্না
রবিউল হাসান আদিল

বাংলাদেশ কৃষিপ্রধান দেশ। এই কৃষিপ্রধান বাংলাদেশে মোট জনসংখ্যার একটি বিশাল অংশ কৃষিকাজের সঙ্গে জড়িত থাকলেও, দুঃখজনক হলেও সত্য যে দেশের অর্থনীতির এই মূল চালিকাশক্তি অর্থাৎ কৃষকদের পেশাগত সুরক্ষা দেওয়ার কোনো আইনি কাঠামো এখনো অবধি তৈরি হয়নি। বিঘা বিঘা জমি চাষ করতে গিয়ে ব্যাংক বা বীমা কোম্পানি থেকে তাঁরা যে চড়া সুদে ঋণ গ্রহণ করেন, ফসল ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার পর এই ঋণের বোঝা কৃষকের স্বপ্নকে আরও ভঙ্গুর করে দেয়। আর এই ঋণের বোঝা বহন করতে গিয়ে অনেক হতদরিদ্র কৃষককে আত্মহত্যার পথও বেছে নিতে হয়। সার, বীজ, কীটনাশক থেকে শুরু করে সেচের জন্য প্রয়োজনীয় উপকরণের বাজারদর গত কয়েক বছরে যে পরিমাণ বৃদ্ধি পেয়েছে, সে তুলনায় কৃষকের উৎপাদিত ফসলের দাম বৃদ্ধি পায়নি। ফলে চাষাবাদ অনেক ক্ষেত্রে লাভের চেয়ে লোকসানের খাতায় নাম লিখিয়েছে। সংবাদপত্র খুললেই প্রায়শই দেখা মেলে ‘ঋণের দায়ে কৃষকের আত্মহত্যা’র মতো হৃদয়বিদারক শিরোনাম। যা কোনো বিচ্ছিন্ন ঘটনা নয়, বরং এটি আমাদের কৃষি ব্যবস্থার গভীর সংকটেরই পরিণতি। বাংলাদেশে কৃষি জমির পরিসংখ্যান অনুযায়ী, ২০২০ থেকে ২০২৩ সাল পর্যন্ত জমি তুলনামূলক হারে হ্রাস পেয়েছে ১% (যা বিগত দশকে সর্বোচ্চ)। মোট আবাদযোগ্য জমি ৩,৬২,২৯,০০০ একর বা ৮৮.২৯ লক্ষ হেক্টর। মোট সেচকৃত জমি ৭৯.৪৪ হেক্টর ও আবাদযোগ্য পতিত জমি ৪.৫২ হেক্টর। এছাড়া মাথাপিছু আবাদি জমি ০.২৬ একর বা ০.১০ হেক্টর। ঘরবাড়ি, রাস্তাঘাট নির্মাণসহ নানা কারণে প্রতিবছর প্রায় ৮০ হাজার হেক্টর জমি অকৃষি খাতে চলে যাচ্ছে। প্রতিদিন কমছে প্রায় ২১৯ হেক্টর আবাদি জমি। প্রতিবছর প্রায় ১% হারে কৃষি জমি হারিয়ে যাচ্ছে। কৃষকের এই নীরব কান্না থামাতে হলে প্রয়োজন কৃষকের সাথে সরাসরি ভোক্তার সম্পর্ক স্থাপন ও বিনা সুদে চাষাবাদের জন্য কৃষি বীমার বাস্তবায়ন।

পর্যাপ্ত চিকিৎসার অভাব
এমদাদ হোসেন

প্রত্যন্ত অঞ্চলের স্বাস্থ্যসেবার করুণ চিত্রটি কোনো পরিসংখ্যান নয়, বরং লাখো মানুষের যাপিত জীবনের এক কঠিন বাস্তবতা। প্রত্যন্ত অঞ্চলে চিকিৎসার প্রধান অন্তরায় হলো যাতায়াত ব্যবস্থা। একজন মুমূর্ষু রোগীকে হাসপাতাল নেওয়া পর্যন্ত শারীরিক অবস্থার এতটাই অবনতি ঘটে যে অনেক সময় মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। গ্রামীণ স্বাস্থ্যকেন্দ্রগুলো অধিকাংশ সময় কেবল প্রাথমিক চিকিৎসার মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকে। বিশেষজ্ঞ ডাক্তারের অভাবে জটিল রোগীদের শহরে যাওয়া ব্যতীত বিকল্প নেই। সরঞ্জামের অভাব এবং ল্যাব না থাকায় রোগীরা হাতুড়ে ডাক্তারের শরণাপন্ন হতে বাধ্য হন। বেশি ভোগান্তি পোহাতে হয় অন্তঃসত্ত্বা নারীদের। শহর ও গ্রামের এই চিকিৎসা বৈষম্য সাধারণ মানুষের মৌলিক অধিকারকে প্রতিনিয়ত প্রশ্নবিদ্ধ করছে। পর্যাপ্ত জনবল এবং তৃণমূল পর্যায়ে আধুনিক প্রযুক্তির ছোঁয়া না লাগলে গ্রামীণ জনপদে চিকিৎসার এই ভোগান্তি কেবল একটি গল্প নয়, বরং এক দীর্ঘস্থায়ী অভিশাপ হিসেবেই থেকে যাবে।

সড়কের বেহাল দশা
শহিদুল ইসলাম জিসান

যাতায়াতের জন্য প্রয়োজন সড়ক। কিন্তু প্রত্যন্ত এলাকায় সড়কের বেহাল দশা। সড়ক থাকলেও এর সংস্কারের জন্য বেশ কয়েকবার টেন্ডার হলেও মাঠ পর্যায়ে ন্যূনতম কাজ হয় না। টেন্ডার হলেও এর বেশিরভাগ অংশ ভাগবাঁটোয়ারা হয়ে পাতি নেতা থেকে শুরু করে ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা পর্যন্ত চলে যায়। একটা রাস্তা পিচঢালা করতে সময় লেগে যায় কয়েক বছর। ইট ও বালি দিয়ে রাস্তা সংস্কার করলেও সংস্কার হওয়ার কয়েক মাসের মধ্যে তা ভেঙে যায়, ভারী যান চলাচলে গর্তের সৃষ্টি হয়। ফলে জনদুর্ভোগ বাড়ে। বিশেষ করে অন্তঃসত্ত্বা নারীদের ডাক্তারের কাছে আনা-নেওয়ার ক্ষেত্রে বেশি কষ্ট পোহাতে হয়। বর্ষাকাল এলে চোখ রাঙায় প্রত্যন্ত এলাকার সড়কগুলো। অনেকাংশে সড়ক যোগাযোগ বন্ধ হয়ে যায়। শহরাঞ্চলে কিংবা বাণিজ্যিক এলাকায় সড়ক সংস্কার ও উন্নয়নের হিড়িক পড়লেও প্রত্যন্ত গ্রামাঞ্চলে এর নামমাত্র উন্নয়ন নেই। সংস্কারের হিড়িক কি আদৌ আসবে, নাকি জনদুর্ভোগ আর ভোগান্তি আরও বৃদ্ধি পাবে?

মানগত শিক্ষার অভাব
তাসপিয়া সুলতানা জেমি

শিক্ষা মানুষের মৌলিক অধিকার। কিন্তু বর্তমান প্রেক্ষাপটে প্রত্যন্ত অঞ্চলে শিক্ষার মান দাঁড়িয়েছে দুর্বিষহ। সবাইকে গড়ে তোলা হচ্ছে সনদধারী হিসেবে। শিক্ষক নিয়োগের ক্ষেত্রে অনেক সময় ঘটে গড়িমসি। আবার অনেক সময় ম্যানেজিং কমিটির রোষানলে পড়ে অনেক সৎ ও যোগ্য শিক্ষক প্রস্থান করতে বাধ্য হন। প্রত্যন্ত অঞ্চলে শিক্ষকেরা শিক্ষার্থীদের প্রাইভেট পড়তে জোর খাটিয়ে বাধ্য করেন, শিক্ষার্থীরা দ্বিমত পোষণ করলে পরীক্ষায় ফেল করিয়ে দেন। প্রত্যন্ত অঞ্চলে প্রতিটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে শিক্ষকদের মাঝে চলে সিন্ডিকেট, যার প্রভাব পড়ে শিক্ষার্থীদের ওপর। টাকার নেশায় মাতোয়ারা হয়ে শিক্ষার্থীদের ন্যূনতম মূল্যবোধটুকু শেখানো হয় না। শেখানো হয় না বইয়ের বেসিকটুকু, সৃজনশীলতার উদ্ভাবন তো অনেক দূরের কথা। এতে করে ঝরে যায় অনেক গরিব মেধাবী শিক্ষার্থী, মুহূর্তেই তছনছ হয়ে ভেঙে যায় তাঁদের স্বপ্ন। সুদিন কি আদৌ আসবে?

লোডশেডিংয়ের দৌরাত্ম্য
সোমাইয়া সোলতানা তানি (সুমু)

তাপদাহে অতিষ্ঠ জনজীবন। এর মধ্যেই বেড়েছে বিদ্যুতের ভোগান্তি। বিদ্যুতের চাহিদা এক লাফে অনেক বেড়েছে। উৎপাদনের চেয়ে চাহিদা বেশি হওয়ায় লোডশেডিং করতে হচ্ছে। বিদ্যুৎ উৎপাদনে রেকর্ডের মধ্যেও দেশজুড়ে ঘণ্টায় ঘণ্টায় লোডশেডিং হচ্ছে। দিনে-রাতে সব সময়ই বিদ্যুৎ যাচ্ছে। প্রত্যন্ত অঞ্চলে দিনে-রাতে ১০ থেকে ১৫ ঘণ্টারও বেশি লোডশেডিং হয়। অনেক গ্রামে রাতে বিদ্যুৎ আসেই না। এ অবস্থায় ফুঁসে উঠেছে গ্রামের মানুষ। তেল, কয়লা বা গ্যাসের ঘাটতির কারণে বিদ্যুৎকেন্দ্রগুলো পূর্ণ শক্তিতে চলতে পারে না। পুরোনো যন্ত্রাংশ বা যান্ত্রিক ত্রুটির কারণে বিদ্যুৎ উৎপাদন বন্ধ হয়ে যায়। অনেক সময় দেখা যায় সঞ্চালন লাইনে ত্রুটির কারণে বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধ হয়ে যায়। বিভিন্ন দপ্তরে কিংবা সরকারি বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান ও শপিংমলে প্রয়োজনের তুলনায় দ্বিগুণ হারে বিদ্যুৎ অপচয় করা হয়। পর্যাপ্ত বিদ্যুৎ উৎপাদন না হওয়ায় উৎপাদিত বিদ্যুৎগুলোর বেশিরভাগই শহরাঞ্চলের চাহিদা জোগান দিচ্ছে, ফলে প্রত্যন্ত অঞ্চলের মানুষদের পোহাতে হচ্ছে চরম ভোগান্তি।

সামাজিক কুপ্রথা ও কুসংস্কার
মোহাম্মদ আকিব

প্রত্যন্ত এলাকায় কিছু প্রাচীন সামাজিক কুপ্রথা ও কুসংস্কার এখনো সাধারণ মানুষের নিত্যদিনের অন্যতম ভোগান্তির কারণ। অসুস্থতায় সুচিকিৎসার বদলে এখনো অনেকে তথাকথিত ঝাড়ফুঁক কিংবা তাবিজ-পানিপড়ার ওপর নির্ভর করেন। ফলে রোগীর অবস্থা আরও আশঙ্কাজনক হয়ে পড়ে। সাপের কামড়ে ওঝার কাছে গিয়ে বিষ তোলা, কালো জাদুর জন্য হাট বসানো ইত্যাদি কুসংস্কার রীতিতে অনেক কিছু মান্য করা হয়, যা অযৌক্তিক ও লৌকিকতা নামে আখ্যা দেওয়া যায়। উচ্চশিক্ষার প্রভাব বিস্তার না করে কন্যা সন্তানকে তাড়াতাড়ি বিয়ে দেওয়াকে মাথার বোঝা হালকা হওয়া মনে করা হয়। অল্প বয়সে বিয়ের কারণে মেয়েদের জীবন বিষাদে ভরপুর হয়ে ওঠে। নারী উন্নয়নের বাধা হয়ে দাঁড়ায় অল্প বয়সে বিয়ে, তার চেয়ে বেশি পীড়া দেয় যৌতুকের জন্য নির্যাতন। বাড়ি থেকে বের হওয়ার সময় মোরগের ডাক, খালি কলস, ঝাঁটা, খালি গোয়াল এগুলো দেখলে অশুভ বলে আখ্যা দেওয়া, অশুভ দৃষ্টি কিংবা খারাপ নজর, জিন-ভূতের ভর করা এখনো প্রত্যন্ত এলাকার ও গ্রামীণ মানুষের স্বাভাবিক জীবনযাত্রায় প্রতিবন্ধকতা তৈরি করছে। ভ্রান্ত ধারণা দূরীভূত করে অন্ধকারাচ্ছন্ন কুসংস্কারমুক্ত সমাজ গড়তে পারলে প্রত্যন্ত এলাকায় প্রকৃত উন্নয়ন সম্ভব।

বিঃদ্রঃ প্রবন্ধ, নিবন্ধ, সাক্ষাৎকার ও প্রতিক্রিয়ায় প্রকাশিত মতামত লেখকের নিজস্ব দৃষ্টিভঙ্গি ও বিশ্লেষণের প্রতিফলন। এগুলো নেটওয়ার্ক নিউজ বিডি‘র সম্পাদকীয় নীতি বা অবস্থানের সঙ্গে সর্বদা মিল নাও থাকতে পারে। প্রকাশিত লেখায় উপস্থাপিত ব্যাখ্যা-বিশ্লেষণ, তথ্য-উপাত্ত এবং রাজনৈতিক, অর্থনৈতিক বা আইনগতসহ সংশ্লিষ্ট বিষয়সমূহের যথার্থতা ও মতামতের দায়িত্ব লেখকের নিজস্ব; নেটওয়ার্ক নিউজ বিডি কর্তৃপক্ষের অবস্থান নিরপেক্ষ।

মন্তব্য করুন

আজকের নামাজের সময়সূচি (ঢাকা)

সময় লোড হচ্ছে...

ADVERTISEMENT

ফেসবুকে আমরা

প্রতিদিনের খবর ইমেইলে

লিংক কপি হয়েছে!