শিরোনাম:
Network News BD
সোমবার, ২ নভেম্বর ২০২৬
মেনু
প্রচ্ছদ

© 2026 Network News BD

সময়ের দর্পণে সাহিত্য: কী ভাবছেন বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষার্থীরা

শব্দশৈলী ডেস্ক

প্রকাশিত: ২ নভেম্বর ২০২৬, ১১:০২ AM ৩১ বার পঠিত
সময়ের দর্পণে সাহিত্য: কী ভাবছেন বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষার্থীরা

নেটওয়ার্ক নিউজ বিডি সম্পাদিত

একটি অক্ষর, একটি শব্দ কিংবা একটি কলম বদলে দিতে পারে ইতিহাসের গতিপথ। সাহিত্যের পাতায় পাতায় ছড়িয়ে আছে যুগে যুগে মানুষের চিন্তা, প্রতিবাদ, স্বপ্ন ও সম্ভাবনার গল্প। সময়ের পরিবর্তনের সঙ্গে সঙ্গে বদলেছে সাহিত্যের ভাষা, প্রকাশভঙ্গি ও বিষয়বৈচিত্র্য। বর্তমান প্রজন্মের চোখে সাহিত্যের অবস্থান, লেখকদের অবদান এবং ভবিষ্যৎ সাহিত্যচর্চার দিকনির্দেশনা নিয়ে কথা বলেছেন বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা। তাঁদের ভাবনা তুলে ধরেছেন ইডেন মহিলা কলেজের শিক্ষার্থী শেখ সুলতানা মীম।

অক্ষরে অক্ষরে বেঁচে থাকেন লেখক
মানুষের জীবন ক্ষণস্থায়ী, কিন্তু তার সৃষ্টির স্থায়িত্ব অনেক সময় ছাড়িয়ে যায় মৃত্যুর সীমানা। একজন লেখক তাঁর চিন্তা, অনুভূতি, অভিজ্ঞতা ও কল্পনাকে শব্দের মাধ্যমে এমনভাবে লিপিবদ্ধ করেন, যা যুগের পর যুগ মানুষের হৃদয়ে বেঁচে থাকে। সময়ের স্রোতে একদিন তাঁর শরীর মাটির সঙ্গে মিশে যায়, থেমে যায় হৃৎস্পন্দন; কিন্তু তাঁর লেখা থেমে থাকে না। বইয়ের পাতায়, পাঠকের অনুভবে এবং প্রজন্ম থেকে প্রজন্মে ছড়িয়ে পড়া চিন্তার জগতে তিনি ফিরে ফিরে আসেন। রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর, কাজী নজরুল ইসলাম কিংবা শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়, তাঁদের জীবনকাল পেরিয়ে গেলেও তাঁদের সাহিত্য আজও আমাদের ভাবায়, কাঁদায়, প্রতিবাদ করতে শেখায় এবং নতুন করে বাঁচার প্রেরণা জোগায়। একজন প্রকৃত লেখক কেবল গল্প বা কবিতা লেখেন না; তিনি সময়কে ধারণ করেন, সমাজকে প্রশ্ন করেন এবং মানুষের বিবেককে জাগিয়ে তোলেন। তাঁর কলমের কালি শুকিয়ে গেলেও অক্ষরের আবেদন কখনো ফুরিয়ে যায় না। তাই লেখকের মৃত্যু হতে পারে, কিন্তু তাঁর সৃষ্টি তাঁকে মৃত্যুর পরেও অমর করে রাখে। সত্যিই, মানুষ একদিন পৃথিবী ছেড়ে চলে যান, কিন্তু একজন লেখক বেঁচে থাকেন তাঁর অক্ষরে, তাঁর সৃষ্টিতে এবং পাঠকের হৃদয়ে।

আশিক মনজুর
শিক্ষার্থী, ইংরেজি বিভাগ, ঢাকা কলেজ।

যে কলম থামে না, যে কণ্ঠ নীরব হয় না
কলম শুধু শব্দের বাহন নয়, এটি সত্য প্রকাশের শক্তিশালী হাতিয়ার। যে কলম অন্যায়ের বিরুদ্ধে লিখতে জানে এবং যে কণ্ঠ নিপীড়িত মানুষের অধিকার আদায়ে সোচ্চার থাকে, তাকে কোনো ভয় কিংবা বাধা থামিয়ে রাখতে পারে না। সমাজের অসংগতি, বৈষম্য, দুর্নীতি ও অবিচারের বিরুদ্ধে লেখকের কলম হয়ে ওঠে প্রতিবাদের ভাষা। সত্যের পথে চলতে গিয়ে অনেক বাধা আসতে পারে তবুও একজন সচেতন লেখক তাঁর দায়িত্ব থেকে পিছিয়ে যান না। কারণ তাঁর লেখার প্রতিটি শব্দ মানুষের বিবেককে জাগ্রত করে, অন্যায়ের বিরুদ্ধে সাহস জোগায় এবং পরিবর্তনের স্বপ্ন দেখায়। যে কলম থামে না, যে কণ্ঠ নীরব হয় না, সেই কলম ও কণ্ঠই পারে সমাজকে আলোর পথে এগিয়ে নিতে। এ জন্য কলম যেন নীরব যুদ্ধের অস্ত্র হয়ে ওঠে প্রতিটি লেখকের কাছে।

আফিয়া আলম
শিক্ষার্থী, সমাজকল্যাণ বিভাগ, ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়

লেখক: সময়ের সাক্ষী, সমাজের দর্পণ
একজন লেখক শুধু শব্দের কারিগরই নন। তিনি সময়ের এক নীরব সাক্ষী এবং সমাজের দর্পণ। কারণ একজন লেখক তার আশপাশের বিভিন্ন সমস্যাগুলো গভীরভাবে পর্যবেক্ষণ করেন এবং সেগুলো শব্দের কারুকার্যের মাধ্যমে সমাজের বাস্তব চিত্র তুলে ধরেন। আয়নায় যেমন আমাদের চেহারা প্রতিফলিত হয় ঠিক তেমনি একজন লেখক লেখনীর মাধ্যমে সমাজের বাস্তব চিত্র ও অসংগতির নানা দিক তুলে ধরেন। সমাজে ঘটে যাওয়া বিভিন্ন অন্যায়, অবিচার, বৈষম্য ও অনিয়মের বিরুদ্ধে লেখক তার শব্দকে প্রতিবাদের হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করেন। তার লেখায় কখনো ফুটে ওঠে ইতিহাসের নির্মোহ চিত্র বা নিপীড়িতদের কণ্ঠস্বর। আবার কখনো ফুটে ওঠে সমাজ পরিবর্তনের দৃঢ় অঙ্গীকার, যা সমাজস্থ মানুষের বিবেককে জাগ্রত করে তোলে। মূলত লেখকের কলম মানুষ ও সমাজের মধ্যে সেতুবন্ধ তৈরির এক শক্তিশালী মাধ্যম। প্রজন্ম থেকে প্রজন্ম কিংবা সমাজের চিত্র পরিবর্তিত হলেও একজন সত্যনিষ্ঠ লেখকের লেখনী হয়ে থাকে এক পরিবর্তনের দলিল। যা মূলত সমাজের বাস্তব ও জীবন্ত প্রতিচ্ছবি এবং আগামী দিনের জন্য রেখে যাওয়া এক অমূল্য সাক্ষ্য।

উম্মে জোবায়দা
শিক্ষার্থী, সমাজবিজ্ঞান বিভাগ, ইডেন মহিলা কলেজ

ডিজিটাল যুগে লেখক: সম্ভাবনা ও সংকট
আধুনিকতার ছোঁয়া লেগেছে সাহিত্যের মতো সৃজনশীল ক্ষেত্রেও। উনিশ শতকের লেখকদের লেখা প্রকাশের জন্য প্রকাশকদের দ্বারে দ্বারে ঘুরতে হলেও, বর্তমান লেখকরা ঘরে বসেই প্রকাশকদের সাথে যোগাযোগ করতে পারছেন। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের সুবাদে তারা নিজেদের লেখা সরাসরি পাঠকদের কাছে পৌঁছে দিতে পারছেন এবং তাৎক্ষণিক মতামত পাচ্ছেন। এ ছাড়া অনলাইনের বিভিন্ন প্ল্যাটফর্মে বই বিক্রিও এখন সহজ হয়েছে, যা একসময় ছিল অলীক স্বপ্নের মতো। তবে প্রযুক্তির এই অগ্রগতির পাশাপাশি কিছু সংকটও তৈরি হয়েছে। কপিরাইট লঙ্ঘন বা পাইরেসির কারণে বিভিন্ন ওয়েবসাইটে বিনা অনুমতিতে পিডিএফ ছড়িয়ে পড়ায় লেখকরা তাঁদের ন্যায্য আর্থিক প্রাপ্তি থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন। পাশাপাশি, তরুণ প্রজন্মের মধ্যে বই পড়ার অভ্যাস কমে যাওয়া এবং কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার যত্রতত্র ব্যবহার প্রকৃত লেখকদের মৌলিক সৃজনশীলতা ও লেখকসত্তাকে ক্ষুণ্ন করছে। পরিশেষে, আধুনিক যুগ লেখকদের জন্য যেমন আশীর্বাদ তেমনি অভিশাপও বটে। তাই প্রকৃত লেখকদের উচিত প্রযুক্তির ইতিবাচক দিকগুলোকে কাজে লাগিয়ে সাহিত্যের মান অক্ষুণ্ন রাখা এবং নেতিবাচক দিকগুলো এড়িয়ে চলা।

সাব্বির হাসান নিরব
শিক্ষার্থী, রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগ, জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়

লাইক-কমেন্টের ভিড়ে প্রকৃত সাহিত্যচর্চা
বর্তমানে আধুনিকতার ছোঁয়ায় সাহিত্যচর্চা ডায়েরির পাতা থেকে উঠে এসেছে ফেসবুক কিংবা ইনস্টাগ্রামের স্ট্যাটাসে। তবে এই ভার্চুয়াল দুনিয়ায় সাহিত্য আজ একটি বড় সংকটের মুখোমুখি। বর্তমান নব্য লেখকদের একটি বড় অংশই লেখার গভীরতার চেয়ে বেশি মনোযোগী চটজলদি লাইক, কমেন্ট এবং শেয়ারের দিকে, যার মোহ লেখকের ধৈর্য ও লেখার মান দুটোই কমিয়ে দিচ্ছে। আজ থেকে প্রায় দেড় শ বছর আগে সাহিত্যসম্রাট বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় নব্য লেখকদের সতর্ক করে বলেছিলেন, “যশের জন্য লিখবেন না, যশের জন্য লিখিলে যশও হইবে না, লেখার মানও নষ্ট হইবে।” বর্তমানের লাইক-কমেন্ট হলো সেই সস্তা যশের আধুনিক রূপ। চটকদার বা ট্রেন্ডিং বিষয়ে লিখে সাময়িক প্রশংসা পাওয়া ‌গেলেও, তা কালজয়ী সাহিত্য কখনোই হয় না। প্রকৃত সাহিত্যচর্চার জন্য প্রয়োজন বঙ্কিমচন্দ্রের নির্দেশিত সেই অধ্যবসায়, সত্যনিষ্ঠা ও আত্মসংযম। তাই স্ক্রিনের ভার্চুয়াল প্রশংসা বা অ্যালগরিদমের দাসত্ব ছেড়ে সমাজমঙ্গল ও আত্মশুদ্ধির উদ্দেশ্যে মনের তাগিদ থেকে লেখাই হোক নব্য লেখকদের মূল লক্ষ্য।

জান্নাত বুলবুল পৌষি
শিক্ষার্থী, সমাজবিজ্ঞান বিভাগ, ইডেন মহিলা কলেজ

মন্তব্য করুন

আজকের নামাজের সময়সূচি (ঢাকা)

সময় লোড হচ্ছে...

ADVERTISEMENT

ফেসবুকে আমরা

প্রতিদিনের খবর ইমেইলে

লিংক কপি হয়েছে!