এই দেশ ও সমাজ যেন আমাদের নয়। ভালো মানুষের মুখোশ পরে এবং তোষামোদ করে যারা সাফল্যের শিখরে উঠতে চায়, তারা নিরপরাধ মানুষকে আঘাত করতে পিছপা হয় না। দ্বিধায় থাকা মানুষকে দমিয়ে রাখতে তারা সব ধরনের পন্থা অবলম্বন করে। যারা কটাক্ষ করতে ছাড় দেয় না, তেমন মানুষ বা সমাজ আমরা চাই না।
মনে হয় যেন এই দেশে আমাদের জন্মটাই ভুল। এই কলুষিত সমাজে আমরা কেন এসেছি, সেই উত্তর আজও অজানা। জীবদ্দশায় এর উত্তর পাওয়া যাবে কি না, তা নিয়ে সংশয় আছে। তবে সমাজব্যবস্থা ও মানুষের দৃষ্টিভঙ্গি বদলাতেই হবে। তা না হলে সাধারণ মানুষ একসময় নিয়মরীতির তোয়াক্কা না করে বিদ্রোহী হয়ে উঠবে এবং তখন সমাজের কিছুই করার থাকবে না। যতদিন পর্যন্ত সুযোগ সুবিধা ও নিয়মকানুনের ক্ষেত্রে বৈষম্য এবং দ্বি-নীতির প্রভাব থাকবে, ততদিন এই সমাজকে নিজেদের বলা কঠিন।
মামা, খালু ও চাচার জোরে অদক্ষ মানুষ যখন তরতর করে এগিয়ে যায়, তখন সমাজে দক্ষতা বা যোগ্যতার কোনো দাম থাকে না। যেখানে যোগ্যতার চেয়ে সুপারিশের জোর বেশি, সেই তথাকথিত ভদ্রসমাজ আমাদের কাম্য নয়। আমরা আমাদের অর্জিত সম্মানের ছিটেফোঁটাও যদি না পাই, তবে বিদ্রোহী হয়ে তা ছিনিয়ে নিতে কুণ্ঠাবোধ করব না। আমাদের পূর্বপুরুষেরা অধিকার আদায়ের পথ দেখিয়ে গেছেন। প্রয়োজনে আমরা সেই পথেই হাঁটব এবং স্লোগান তুলব, স্বাধীন দেশে পরাধীন সমাজের বিলুপ্তি হোক, চাচা ও খালুর নির্দয় স্থিতি স্বাধীন হোক।
উসকানিতে পা না দিয়ে সমস্যা সমাধানে সবাইকে এগিয়ে আসতে হবে। দেশপ্রেমের কথা বলা সব স্তরের মানুষকে একই নীতিমালায় যুক্ত হতে হবে। আমাদের এমন এক দেশ ও সমাজ গড়তে হবে, যেখানে কোনো দ্বি-নীতি থাকবে না এবং সবাই সম্প্রীতি ছড়াবে।
লেখক পরিচিতি: ইকরাম আকাশ, শিক্ষার্থী, সরকারি কমার্স কলেজ, চট্টগ্রাম।
