শিরোনাম:
Network News BD
বৃহস্পতিবার, ২৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬
মেনু
প্রচ্ছদ

© 2026 Network News BD

স্বাধীনতার স্বপ্ন ও বৈষম্যহীন আগামীর বাংলাদেশ

ডেস্ক রিপোর্ট

প্রকাশিত: ২৫ মার্চ ২০২৬, ১:৫৯ PM ৮ বার পঠিত
স্বাধীনতার স্বপ্ন ও বৈষম্যহীন আগামীর বাংলাদেশ

ছবি: সংগৃহীত

স্বাধীনতা শুধু একটি শব্দ মাত্র নয়, এটি একটি স্বাধীন জাতির আত্মপরিচয় এবং জীবনের সবচেয়ে মূল্যবান সম্পদ। তরুণ প্রজন্মের কাছে স্বাধীনতা শব্দটি সামনের দিকে এগিয়ে যাওয়ার এক অনন্ত প্রেরণা হিসেবে কাজ করে। ১৯৭১ সালের মহান মুক্তিযুদ্ধের মধ্য দিয়ে অর্জিত এই স্বাধীনতার আজ ৫৫ বছর পূর্ণ হলো। ২০২৬ সালে দাঁড়িয়ে যখন আমরা আমাদের জাতীয় জীবনের প্রাপ্তি ও অপ্রাপ্তির হিসাব মেলাতে যাই, তখন দেখতে পাই না পাওয়ার তালিকাটি এখনো অনেক দীর্ঘ। স্বাধীনতার এতগুলো বছর পেরিয়ে যাওয়ার পরও আমাদের অনেক কাঙ্ক্ষিত স্বপ্ন এখনো শুধু স্বপ্নই রয়ে গেছে। আমরা এখনো নানা রকম সীমাবদ্ধতা আর হতাশার বেড়াজালে আবদ্ধ হয়ে আছি।

দীর্ঘ সময় ধরে রাজনৈতিক অস্থিরতা, মতপ্রকাশের স্বাধীনতাহীনতা এবং রাষ্ট্রের প্রতিটি স্তরে জবাবদিহিতার চরম অভাব আমাদের ক্রমাগত পিছিয়ে রেখেছে। এই দমবন্ধ করা পরিস্থিতি থেকে মুক্তির জন্য ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট ছাত্র এবং জনতার এক ঐতিহাসিক অভ্যুত্থানের মধ্য দিয়ে স্বৈরাচারী সরকারের পতন ঘটে। সেই গণঅভ্যুত্থান আমাদের নতুন করে স্বাধীনভাবে বাঁচার এবং একটি বৈষম্যহীন সমাজ গড়ার স্বপ্ন দেখতে শিখিয়েছে। কিন্তু বর্তমান সময়ের প্রেক্ষাপটে দাঁড়িয়েও আমাদের স্বীকার করতে হবে যে, সমাজ থেকে সব ধরনের বৈষম্য এখনো পুরোপুরি দূর হয়নি। ধর্মীয় ও রাজনৈতিক রেষারেষি, সামাজিক বৈষম্য এবং নারী ও পুরুষের মধ্যকার বৈষম্য এখনো আমাদের নিত্যদিনের ঘটনা। স্বাধীন দেশে এখনো বারবার নারীদের নিরাপত্তার প্রশ্ন ওঠে, যা একটি জাতির জন্য অত্যন্ত লজ্জাজনক। পুরুষতান্ত্রিক মানসিকতা থেকে বেরিয়ে এসে সবার সমান অধিকার নিশ্চিত করার মাধ্যমেই কেবল আমরা পরবর্তী প্রজন্মকে একটি নিরাপদ, সুস্থ ও সুন্দর দেশ উপহার দিতে পারব। তাই সব ধরনের বিভেদ ভুলে দেশের স্বার্থে আমাদের সবাইকে কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে কাজ করতে হবে। সরকারি ও বেসরকারি প্রতিটি খাতকে স্বচ্ছ এবং জবাবদিহিতার আওতায় আনতে হবে, যাতে সমাজের সর্বস্তরে ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠিত হয়।

এই সমস্যাগুলো সমাধানের অন্যতম প্রধান হাতিয়ার হলো শিক্ষা এবং চিকিৎসাব্যবস্থার আমূল পরিবর্তন সাধন। দেশের শিক্ষাব্যবস্থাকে শুধু পুঁথিগত বিদ্যার মধ্যে সীমাবদ্ধ রাখলে আর চলবে না। এখনকার সময়ের দাবি অনুযায়ী শিক্ষাকে হতে হবে কারিগরি, বাস্তবমুখী এবং বিশ্বমানের গবেষণাকেন্দ্রিক। শিক্ষাক্ষেত্রে পূর্ণ সমতা বজায় রেখে দেশের একেবারে প্রত্যন্ত অঞ্চলেও উন্নতমানের শিক্ষাব্যবস্থা পৌঁছে দিতে হবে। পড়াশোনার পাশাপাশি শিক্ষার্থীদের বিভিন্ন ধরনের সহশিক্ষামূলক দক্ষতা অর্জনের পর্যাপ্ত সুযোগ করে দিতে হবে। এর ফলে বেকারত্ব দূর করা সম্ভব হবে এবং তরুণদের জন্য নতুন কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরি হবে। অন্যদিকে চিকিৎসাক্ষেত্রের বৈষম্যও আমাদের বড় চিন্তার বিষয়। সরকারি এবং বেসরকারি হাসপাতালগুলোর সমন্বিত প্রচেষ্টায় এমন একটি চিকিৎসাব্যবস্থা গড়ে তুলতে হবে, যেখানে একজন পথশিশু থেকে শুরু করে সমাজের প্রতিটি স্তরের মানুষ সহজলভ্য এবং উন্নত চিকিৎসা পাবে।

স্বাধীনতার এতগুলো বছর পর আজ আমাদের চাওয়া খুব বেশি কিছু নয়। আমরা সবাই মিলে এমন একটি উন্নত দেশের স্বপ্ন দেখি, যেখানে ধর্ম, বর্ণ কিংবা লিঙ্গভেদে কোনো মানুষের প্রতি কোনো ধরনের বৈষম্য থাকবে না। দেশের প্রতিটি মানুষের নিজস্ব বাকস্বাধীনতা থাকবে এবং রাষ্ট্র প্রতিটি নাগরিকের মৌলিক অধিকার নিশ্চিত করবে। তরুণ প্রজন্মের হাত ধরেই এমন একটি বাসযোগ্য, নিরাপদ এবং স্বপ্নের বাংলাদেশ গড়ে উঠবে, এটাই হোক এবারের স্বাধীনতা দিবসের নীরব প্রতিজ্ঞা।


লেখক: রিকমা আক্তার
শিক্ষার্থী, মুমিনুন্নিসা সরকারি মহিলা কলেজ, ময়মনসিংহ।

মন্তব্য করুন

আজকের নামাজের সময়সূচি (ঢাকা)

সময় লোড হচ্ছে...

ADVERTISEMENT

ফেসবুকে আমরা

প্রতিদিনের খবর ইমেইলে

লিংক কপি হয়েছে!