লাখো তরুণ এবার প্রথমবারের মতো তাদের ভোটাধিকার প্রয়োগ করেছেন। নতুন ভোটারদের মধ্যে বিরাজ করছে অন্যরকম উচ্ছ্বাস, আনন্দ ও আশাবাদ। গণতান্ত্রিক এই অধিকার প্রয়োগ করতে পেরে তারা গর্বিত। তরুণদের কাছে এটি কেবল একটি নির্বাচন নয়, বরং দেশের ভবিষ্যৎ বিনির্মাণে সরাসরি অংশগ্রহণ। তাদের প্রত্যাশা, নির্বাচিত প্রতিনিধিরা তাদের মতামতের সঠিক মূল্যায়ন করবেন। একই সঙ্গে কর্মসংস্থান সৃষ্টি, শিক্ষাখাতের উন্নয়ন, দুর্নীতিমুক্ত প্রশাসন এবং সামাজিক নিরাপত্তা নিশ্চিতে তারা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবেন।
অনেকের কাছেই এটি ছিল জীবনের একটি স্মরণীয় মুহূর্ত। ভোটকেন্দ্র থেকে বেরিয়ে নিজেদের অভিজ্ঞতার কথা জানান বেশ কয়েকজন তরুণ ভোটার।
তরুণ ভোটার সাদিয়া বলেন, “গতকাল পর্যন্ত দ্বিধায় ছিলাম ভোট দেব কি না। কিন্তু পরে মনে হলো, দেশের নাগরিক হিসেবে ভোট দেওয়া আমার অধিকার ও দায়িত্ব। এটি আমার প্রথম ভোট, তাই অনুভূতিটা ছিল অন্যরকম। সুষ্ঠুভাবে ভোট দিতে পেরে আমি আনন্দিত। মূলত রাষ্ট্র সংস্কার ও নীতি পরিবর্তনের প্রত্যাশায় ভোট দিয়েছি। নেতৃত্বে যেই আসুক, আমি চাই দেশে ন্যায়বিচার ও সুশাসন প্রতিষ্ঠিত হোক। গড়ে উঠুক দুর্নীতি ও চাঁদাবাজমুক্ত বাংলাদেশ।”
রাইনা নামের আরেক ভোটার বলেন, “এই অভিজ্ঞতা আমার মধ্যে নাগরিক দায়িত্ববোধ বাড়িয়ে দিয়েছে। আমার চাওয়া একটাই—যেই ক্ষমতায় আসুক, দেশের উন্নয়ন ও সুশাসন যেন নিশ্চিত হয়।”
নিজের অভিজ্ঞতার কথা জানিয়ে নুসরাত বলেন, “আজ জীবনে প্রথমবারের মতো ভোট দিলাম। আমার ভোটকেন্দ্র ছিল আমারই বিদ্যালয়ে, যা বিষয়টিকে আমার জন্য আরও বিশেষ ও আবেগঘন করে তুলেছে। কেন্দ্রের কর্মকর্তারা অত্যন্ত আন্তরিক ছিলেন, তাই পুরো প্রক্রিয়াটি নির্বিঘ্নে সম্পন্ন করতে পেরেছি। বন্ধুদের সঙ্গে একসাথে ভোট দেওয়ার আনন্দ দিনটিকে আরও স্মরণীয় করে রেখেছে। জীবনের এই গুরুত্বপূর্ণ দিনে অংশ নিতে পেরে আমি সত্যিই গর্বিত।”
প্রথম ভোটের এই অভিজ্ঞতা তরুণদের মনে দেশপ্রেম ও দায়িত্ববোধকে আরও সুদৃঢ় করেছে। একটি গণতান্ত্রিক রাষ্ট্র গঠনে তাদের এই স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণ ইতিবাচক বার্তা দেয়। তাদের এখন একটাই চাওয়া—ক্ষমতায় যারাই আসুক, তারা যেন দেশের উন্নয়ন, বাকস্বাধীনতা ও নাগরিকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করেন।
লেখক: ফাহিমা আক্তার, শিক্ষার্থী, বেগম বদরুন্নেসা সরকারি মহিলা কলেজ, ঢাকা।
/শুভ্র
