শিরোনাম:
Network News BD
শুক্রবার, ৩০ অক্টোবর ২০২৬
মেনু
প্রচ্ছদ

© 2026 Network News BD

বিশ্ব লেমুর দিবস আজ

ডেস্ক রিপোর্ট

প্রকাশিত: ৩০ অক্টোবর ২০২৬, ১০:০৩ AM ১৮ বার পঠিত
বিশ্ব লেমুর দিবস আজ

ছবি: সংগৃহীত

স্তন্যপায়ী প্রাণীদের মধ্যে প্রাইমেট বর্গটি বেশ বৈচিত্র্যময়। মানুষ, বানর কিংবা বনমানুষ সবাই এই দলের অংশ। তবে এদের সবার চেয়ে একটু আলাদা এবং প্রাচীন একটি প্রাণী হলো লেমুর। নীল চোখের এই অদ্ভুত সুন্দর প্রাণীটিকে টিকিয়ে রাখার আকুল আবেদন নিয়ে প্রতি বছর অক্টোবরের শেষ শুক্রবার পালিত হয় বিশ্ব লেমুর দিবস।

পৃথিবীর আর কোথাও নয়, কেবল আফ্রিকার দ্বীপরাষ্ট্র মাদাগাস্কারেই দেখা মেলে এই প্রাণীর। এখন পর্যন্ত ১১২টি ভিন্ন প্রজাতির লেমুরের সন্ধান পেয়েছেন বিজ্ঞানীরা। অন্যান্য প্রাইমেটদের সঙ্গে এদের মূল পার্থক্য হলো এদের ভেজা নাক। এই নাকের সাহায্যে ঘ্রাণ নিয়ে এরা যেমন খাবারের বিষক্রিয়া বা নিরাপত্তা যাচাই করে, তেমনি নিজেদের দলের সদস্যদেরও সহজেই চিনে নেয়। প্রজাতিভেদে এদের খাদ্যাভ্যাসও বেশ বৈচিত্র্যময়। এরা মূলত ফলমূল, পোকামাকড় কিংবা গাছের কষ খেয়ে বেঁচে থাকে।

লেমুরের জীবনযাপন এবং শারীরিক গঠন যে কাউকে অবাক করবে। পৃথিবীর সবচেয়ে প্রাচীন এই প্রাইমেটদের মধ্যে মানুষের বাইরে একমাত্র এদেরই নীল চোখ রয়েছে। আকারের দিক থেকেও এদের বৈচিত্র্য চোখে পড়ার মতো। সবচেয়ে ছোট লেমুরের ওজন যেখানে আধ কেজিরও কম, সেখানে সবচেয়ে বড়টির ওজন প্রায় নয় কেজি পর্যন্ত হতে পারে। এদের সমাজব্যবস্থার একটি দারুণ দিক হলো এটি মাতৃতান্ত্রিক, অর্থাৎ পুরুষ নয় বরং নারী লেমুররাই দলকে নেতৃত্ব দেয়। শুধু তাই নয়, বনের জীববৈচিত্র্য রক্ষায় এরা দারুণ ভূমিকা রাখে। বনভূমির আনাচে কানাচে বীজ ছড়িয়ে দিয়ে প্রকৃতির ভারসাম্য বজায় রাখতে লেমুরের জুড়ি মেলা ভার।

এত সব বৈচিত্র্য আর সৌন্দর্যের পরও এক চরম বিষাদময় সত্য হলো, লেমুর আজ পৃথিবীর সবচেয়ে বিপন্ন স্তন্যপায়ী প্রাণী। এদের প্রায় ৯৮ শতাংশ প্রজাতিই আজ বিলুপ্তির হুমকিতে রয়েছে, যার মধ্যে ৩১ শতাংশের অবস্থা অত্যন্ত সংকটাপন্ন। সবচেয়ে পরিচিত প্রজাতি রিং-টেইলড বা আংটির মতো লেজযুক্ত লেমুরের অবস্থাও বেশ করুণ। গত ১৭ বছরে এদের সংখ্যা ৯৫ শতাংশ কমে গেছে। বর্তমানে পৃথিবীতে উন্মুক্ত অবস্থায় মাত্র দুই থেকে আড়াই হাজার রিং-টেইলড লেমুর বেঁচে আছে।

বিলুপ্তির এই ভয়াবহতা থেকে লেমুরকে বাঁচাতে ২০১৪ সালে মাদাগাস্কারের রাজধানী আন্তানানারিভোতে অধ্যাপক জোনাহ রাতসিম্বাজাফি বিশ্ব লেমুর উৎসবের সূচনা করেন। তার মূল লক্ষ্য ছিল মাদাগাস্কারের এই অমূল্য প্রাণীটির বিষয়ে মানুষকে সচেতন করা। পরের বছর থেকেই বিশ্বের বিভিন্ন চিড়িয়াখানা ও সংরক্ষণবাদী সংগঠনগুলো এই উদ্যোগের সঙ্গে যুক্ত হয়। সেই থেকে উৎসবের সঙ্গে মিল রেখে দিনটি বিশ্ব লেমুর দিবস হিসেবে বিশ্বব্যাপী স্বীকৃতি পায়। দিনটি উপলক্ষে বর্তমানে পৃথিবীজুড়ে নানা সচেতনতামূলক প্রদর্শনী, চিত্রাঙ্কন প্রতিযোগিতা, কনসার্ট ও কুচকাওয়াজের আয়োজন করা হয়। সাধারণ মানুষ হিসেবে আমরাও চাইলে এই প্রাণীদের রক্ষায় ভূমিকা রাখতে পারি। লেমুর সম্পর্কে জানা, এদের সংরক্ষণে কাজ করা সংগঠনগুলোকে সাহায্য করা কিংবা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সচেতনতা বাড়ানোর মতো উদ্যোগগুলো এদের টিকিয়ে রাখতে সাহায্য করতে পারে। অ্যানিমেটেড চলচ্চিত্র ‘মাদাগাস্কার’ বা ‘দ্য পেঙ্গুইনস অব মাদাগাস্কার’ দেখে শিশুরাও এই প্রাণীটির সঙ্গে পরিচিত হতে পারে। প্রকৃতির ভারসাম্য রক্ষায় অনন্য এই প্রাণীটি যেন পৃথিবী থেকে চিরতরে হারিয়ে না যায়, তা নিশ্চিত করা এখন আমাদের সবার দায়িত্ব।

মন্তব্য করুন

আজকের নামাজের সময়সূচি (ঢাকা)

সময় লোড হচ্ছে...

ADVERTISEMENT

ফেসবুকে আমরা

প্রতিদিনের খবর ইমেইলে

লিংক কপি হয়েছে!