শিরোনাম:
Network News BD
বুধবার, ২৮ অক্টোবর ২০২৬
মেনু
প্রচ্ছদ

© 2026 Network News BD

অসহায় মানুষের মুখে হাসি ফোটাচ্ছেন নাবিলা জান্নাত

ইবনে আবদুর রব

প্রকাশিত: ২৮ অক্টোবর ২০২৬, ৯:৩৩ AM ৪৪ বার পঠিত
অসহায় মানুষের মুখে হাসি ফোটাচ্ছেন নাবিলা জান্নাত

ছবি: সংগৃহীত

​মানুষের বিপদে পাশে দাঁড়ানো, অসহায় মানুষের মুখে হাসি ফোটানো এবং সমাজের সুবিধাবঞ্চিত মানুষের জন্য কাজ করার মধ্যেই মানবিকতার প্রকৃত পরিচয়। এমনই মানবিক চিন্তা ও স্বেচ্ছাসেবামূলক কর্মকাণ্ডের সঙ্গে যুক্ত রয়েছেন নাবিলা জান্নাত। বাসস্থানহীন মানুষের আশ্রয়ের ব্যবস্থা থেকে শুরু করে রক্তদান কার্যক্রম, শীতবস্ত্র বিতরণ, সুবিধাবঞ্চিত শিশুদের শিক্ষা, খাদ্যসহায়তা, পরিবেশ সংরক্ষণ ও দুর্যোগে ত্রাণ কার্যক্রমসহ বিভিন্ন উদ্যোগে তাঁর সম্পৃক্ততা সমাজসেবার প্রতি তাঁর আগ্রহ ও দায়িত্ববোধের পরিচয় বহন করে।

​অসহায় মানুষের আশ্রয় ও চিকিৎসায় সহযোগিতা
মাথা গোঁজার ঠাঁই নেই এমন অসহায় মানুষের জন্য দুটি ঘর নির্মাণের উদ্যোগে সহযোগিতা করেছেন নাবিলা জান্নাত। বিভিন্ন উপায়ে সহযোগিতা সংগ্রহ করে বাসস্থানের ব্যবস্থা করার মাধ্যমে অসহায় পরিবারের জীবনে স্বস্তি ফিরিয়ে আনার চেষ্টা করেছেন তিনি। এ ছাড়া রক্তের অভাবে কোনো রোগী যেন প্রয়োজনীয় চিকিৎসা থেকে বঞ্চিত না হন, সে লক্ষ্যেও রক্তদান কার্যক্রমে যুক্ত ছিলেন তিনি। বিনা মূল্যে রক্তদাতা খুঁজে দেওয়া, রক্ত সংগ্রহে সহযোগিতা এবং মানুষকে স্বেচ্ছায় রক্তদানে উৎসাহিত করার পাশাপাশি অসুস্থ ও অসহায় মানুষকে চিকিৎসকের কাছে নেওয়া এবং চিকিৎসার প্রয়োজনে আর্থিক সহযোগিতার ব্যবস্থা করতেও ভূমিকা রেখেছেন।

​শীতবস্ত্র, খাদ্য ও ঈদের আনন্দ ভাগাভাগি
শীতের তীব্রতায় অসহায় মানুষ যখন কষ্টে দিন কাটান, তখন তাঁদের পাশে দাঁড়াতে ব্যক্তিগত ও পারিবারিক উদ্যোগে একাধিকবার কম্বল বিতরণ করেছেন নাবিলা জান্নাত। রমজানে অসচ্ছল পরিবারের মধ্যে বাজারসামগ্রী বিতরণ এবং ঈদে অসহায় পরিবারের সদস্য ও শিশুদের নতুন পোশাক দেওয়ার উদ্যোগেও যুক্ত ছিলেন তিনি। পাশাপাশি নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের উচ্চমূল্যে বিপাকে পড়া মানুষের জন্য এক টাকার বিনিময়ে বাজার কার্যক্রমে অংশ নিয়েছেন। এসব উদ্যোগের মূল লক্ষ্য ছিল অসহায় মানুষের দৈনন্দিন কষ্ট কিছুটা কমানো এবং তাঁদের মুখে হাসি ফোটানো।

​সুবিধাবঞ্চিত শিশুদের শিক্ষা ও আনন্দ আয়োজন
আর্থিক অসচ্ছলতার কারণে অনেক শিশু পড়াশোনার সুযোগ থেকে বঞ্চিত হয়। এমন শিশুদের শিক্ষার সুযোগ করে দিতে সহযোগিতা করেছেন নাবিলা জান্নাত। তাঁর উদ্যোগের লক্ষ্য ছিল সুবিধাবঞ্চিত শিশুদের শিক্ষার আলোয় আলোকিত করা এবং তাদের সুন্দর ভবিষ্যৎ গড়ার পথ সুগম করা। এ ছাড়া জেলেপল্লির শিশুদের মধ্যে খাবার বিতরণ এবং ঈদের আগে মেহেদি উৎসবের মাধ্যমে তাদের আনন্দ দেওয়ার উদ্যোগেও অংশ নিয়েছেন তিনি। যেসব শিশু আর্থিক সংকটের কারণে ঈদের সাজসজ্জা ও আনন্দ থেকে বঞ্চিত হয়, তাদের মুখে হাসি ফোটাতেই ছিল এসব আয়োজনের উদ্দেশ্য।

​দুর্যোগে মানুষের পাশে নাবিলা
২০২৪ সালের বন্যায় ত্রাণ সংগ্রহ কার্যক্রমে অংশ নিয়ে মানুষের দ্বারে দ্বারে সহযোগিতা চেয়েছেন নাবিলা জান্নাত। সংগৃহীত পোশাক বন্যার্তদের মধ্যে বিতরণের উদ্যোগেও যুক্ত ছিলেন তিনি। এ ছাড়া ঘূর্ণিঝড় রেমালের প্রভাবে ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের জন্য খাবার বিতরণ কার্যক্রমেও অংশ নিয়েছেন। দুর্যোগের সময় মানুষের মৌলিক চাহিদা পূরণে সহযোগিতা করা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। নিজের সুবিধার কথা না ভেবে বিপদগ্রস্ত মানুষের পাশে দাঁড়ানোর এই প্রচেষ্টা তাঁর স্বেচ্ছাসেবামূলক কর্মকাণ্ডের একটি উল্লেখযোগ্য দিক।

​বৃক্ষরোপণ ও পরিবেশ সংরক্ষণে সচেতনতা
পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষায় বৃক্ষরোপণ কর্মসূচিতে অংশ নিয়েছেন নাবিলা জান্নাত। বিভিন্ন স্কুল, মাদ্রাসা ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে গাছ লাগানোর গুরুত্ব তুলে ধরে মানুষকে বৃক্ষরোপণে উৎসাহিত করেছেন। জন্মদিন ও বিভিন্ন অনুষ্ঠানে উপহার হিসেবে গাছ দেওয়ার বিষয়টিও তিনি গুরুত্বের সঙ্গে তুলে ধরেছেন। পাশাপাশি প্লাস্টিক ও পলিথিনের ব্যবহার কমানো, পাটের ব্যাগ ব্যবহারে উৎসাহ দেওয়া এবং সুন্দরবনসহ প্রাকৃতিক পরিবেশ রক্ষার বিষয়ে সচেতনতামূলক কার্যক্রমে যুক্ত ছিলেন তিনি। পরিবেশ রক্ষায় মানুষের দৈনন্দিন অভ্যাসের পরিবর্তন কতটা গুরুত্বপূর্ণ, তা তুলে ধরাই ছিল এসব উদ্যোগের উদ্দেশ্য।

​ডেঙ্গু প্রতিরোধ ও বাল্যবিবাহবিরোধী কার্যক্রম
জনস্বাস্থ্য রক্ষায় ডেঙ্গু প্রতিরোধমূলক কর্মসূচিতে অংশ নিয়ে বাড়ির আঙিনা ও আশপাশ পরিষ্কার রাখা, পানি জমতে না দেওয়া এবং মশার বংশবিস্তার রোধে মানুষকে সচেতন করার চেষ্টা করেছেন নাবিলা জান্নাত। অন্যদিকে বাল্যবিবাহের ক্ষতিকর দিক তুলে ধরে সচেতনতামূলক সভা ও কার্যক্রমেও যুক্ত ছিলেন তিনি। অল্প বয়সে বিয়ের পরিবর্তে শিক্ষার সুযোগ নিশ্চিত করা এবং মেয়েদের স্বাবলম্বী হয়ে ওঠার গুরুত্ব সম্পর্কে মানুষকে সচেতন করার প্রচেষ্টা চালিয়েছেন।

​মানবিকতার চর্চায় এগিয়ে চলা
নাবিলা জান্নাতের স্বেচ্ছাসেবামূলক কর্মকাণ্ডের পরিধি শুধু তাৎক্ষণিক সহায়তার মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়, বরং শিক্ষা, স্বাস্থ্য, পরিবেশ ও সামাজিক সচেতনতার মতো গুরুত্বপূর্ণ ক্ষেত্রেও বিস্তৃত। অসহায় মানুষের বাসস্থান, রক্তের ব্যবস্থা, চিকিৎসাসেবা, খাদ্য ও পোশাকের সহায়তা থেকে শুরু করে শিশুদের আনন্দ এবং পরিবেশ রক্ষার উদ্যোগসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে তাঁর অংশগ্রহণ মানবিক দায়িত্ববোধের পরিচয় বহন করে। একটি সুন্দর সমাজ গড়ে তুলতে শুধু বড় আয়োজন নয়, মানুষের প্রতি মানুষের আন্তরিকতাও প্রয়োজন। কারও বিপদে পাশে দাঁড়ানো, একটি শিশুর মুখে হাসি ফোটানো কিংবা অসহায় পরিবারের কষ্ট কিছুটা কমিয়ে দেওয়াও মানবসেবার গুরুত্বপূর্ণ অংশ। মানুষের দুঃখে সহমর্মী হওয়া, অসহায় মানুষের পাশে দাঁড়ানো এবং সামর্থ্য অনুযায়ী অন্যের জীবনে ইতিবাচক পরিবর্তন আনার প্রচেষ্টাই নাবিলা জান্নাতের স্বেচ্ছাসেবামূলক কর্মকাণ্ডের মূল বার্তা। মানবতার সেবায় তাঁর এই পথচলা আরও বিস্তৃত হোক এমন প্রত্যাশা সবার।

ডিএ/

বিষয়বস্তু:

মন্তব্য করুন

আজকের নামাজের সময়সূচি (ঢাকা)

সময় লোড হচ্ছে...

ADVERTISEMENT

ফেসবুকে আমরা

প্রতিদিনের খবর ইমেইলে

লিংক কপি হয়েছে!