শিরোনাম:
Network News BD
বুধবার, ২৮ অক্টোবর ২০২৬
মেনু
প্রচ্ছদ

© 2026 Network News BD

খাদ্যের অধিকার ও পুষ্টির সংকট নিয়ে শিক্ষার্থীদের ভাবনা

রকমারি ডেস্ক

প্রকাশিত: ২৮ অক্টোবর ২০২৬, ৯:১৯ AM ৪২ বার পঠিত
খাদ্যের অধিকার ও পুষ্টির সংকট নিয়ে শিক্ষার্থীদের ভাবনা

নেটওয়ার্ক নিউজ বিডি সম্পাদিত

খাদ্য আমাদের প্রতিদিনের জীবনের অবিচ্ছেদ্য অংশ। কিন্তু খাদ্যের অপচয়, পুষ্টিহীনতা, নিরাপদ খাদ্যের অভাব ও ক্ষুধা এসব নিত্যনৈমিত্তিক ব্যাপার হয়ে দাঁড়িয়েছে। এ বিষয়ে শিক্ষার্থীদের মতামত নিচে তুলে ধরেছেন ইডেন মহিলা কলেজের শিক্ষার্থী খাদিজাতুল খোরশেদ খুশি।

ক্ষুধার বিরুদ্ধে মানুষের লড়াই
ক্ষুধার বিরুদ্ধে মানুষের লড়াই ইতিহাসে নতুন কোনো ঘটনা নয়। সভ্যতার শুরু থেকেই এটি ঘটে আসছে। মানুষের পাঁচটি মৌলিক চাহিদার মধ্যে ক্ষুধার চাহিদা অন্যতম। প্রাচীনকালে মানুষ গাছ থেকে ফলমূল সংগ্রহ করে ক্ষুধা নিবারণ করত। যুগ পরিবর্তনে বর্তমান সময়ে মানুষ বিভিন্ন কাজে নিয়োজিত হয়ে জীবনের সঙ্গে সংগ্রাম করে টাকা উপার্জন করছে প্রতিনিয়ত ক্ষুধা নিবারণের জন্য। ক্ষুধার জ্বালা সহ্য করতে না পেরে ছোট বাচ্চারাও রাস্তায় নেমে পড়ে কিছু টাকা আয় করে খাবার খাওয়ার জন্য। ধনী পরিবারে খাবারের অভাব না হলেও নিম্নবিত্ত মানুষগুলো কষ্টে দিন কাটায় একটু খাবারের অপেক্ষায়। এমনও দিন যায় তারা খাবারও পায় না। সমাজে অসহায় মানুষগুলো দ্বারে দ্বারে হাত পাতে কিছু খাবার খাবে বলে। কখনো পায় আবার কখনো পেতে ব্যর্থ হয়। ক্ষুধার যন্ত্রণায় মানুষ প্রতিদিন পাগলের মতো ছুটে বেড়ায় যেকোনো কাজের সন্ধানে। একটি ক্ষুধামুক্ত পৃথিবী গড়তে খাদ্যের উৎপাদন বাড়ানোর পাশাপাশি খাদ্যের ন্যায্য বণ্টন, মানুষের ক্রয়ক্ষমতা এবং পুষ্টিকর খাবারের সহজলভ্যতাও নিশ্চিত করা জরুরি। তবেই একটি ক্ষুধামুক্ত পৃথিবী আশা করা যায়।
সানজিদা আক্তার
শিক্ষার্থী, হিসাববিজ্ঞান বিভাগ।

অন্নের মানচিত্রে বঞ্চনা
অন্ন মানুষের কোনো দয়া নয়, বরং বেঁচে থাকার মৌলিক অধিকার। অন্নের মানচিত্রে বঞ্চনার এক অদৃশ্য সীমানা অর্থাৎ পর্যাপ্ত পরিমাণ খাদ্য থাকা সত্ত্বেও প্রত্যেকে সমানভাবে খাদ্য গ্রহণের সুযোগ না পাওয়া। এর পেছনে দায়ী মানবসৃষ্ট বিভিন্ন কাঠামো। অন্ন বঞ্চনা মানুষের সামাজিক ও অর্থনৈতিক বৈষম্যের চিত্র। বাংলাদেশ কৃষিপ্রধান দেশ হলেও খাদ্যনিরাপত্তা নিশ্চিত করা এখনো একটি গুরুত্বপূর্ণ চ্যালেঞ্জ। দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতি, নিম্ন আয়, দারিদ্র্য ও প্রাকৃতিক দুর্যোগের কারণে অনেক মানুষ পর্যাপ্ত ও পুষ্টিকর খাবার থেকে বঞ্চিত হয়। বাজারে খাদ্যদ্রব্য থাকলেও ক্রয়ক্ষমতা না থাকায় বহু মানুষ ক্ষুধা পেটে ঘুরে বেড়ায়, খাদ্য খুঁজে বেড়ায়। আবার একদিকে যেমন দেশের কিছু মানুষ বিলাসিতার নামে খাবার অপচয় করছে অন্যদিকে আরেক দল না খেতে পেয়ে খালি পেটে ঘুমিয়ে পড়ছে, যা দেশের সার্বিক উন্নয়নকে ম্লান করে দেয়। আমাদের উচিত লোকদেখানো বিলাসিতা বন্ধ করে পথশিশু বা দুস্থদের মাঝে খাবারগুলো বিতরণ করা। কেননা অন্নের মানচিত্রে বঞ্চনা দূর করতে হলে খাদ্যের সহজলভ্যতা নিশ্চিত করতে হবে।
মোছা. সুমাইয়া আফরিন
শিক্ষার্থী, দর্শন বিভাগ।

শস্যের দেশে ক্ষুধার বসতি
সুজলা সুফলা শস্য শ্যামলা আমাদের এই বাংলাদেশ। এটি ৮৮ লাখ ২৯ হাজার হেক্টর আবাদযোগ্য কৃষিজমির দেশ। প্রতিবছর কৃষকের হাড়ভাঙা কষ্টের ফলে উৎপাদিত হয় প্রচুর ধান, গম, শাকসবজি ও ফলমূল। তাত্ত্বিকভাবে যে দেশে ফসলের বাম্পার ফলন সেখানে মানুষের ক্ষুধার্ত থাকার কথা নয়। অথচ সেখানে পর্যাপ্ত পুষ্টিকর খাদ্যের অভাবে বাংলাদেশের মোট জনসংখ্যার ১১.৯ শতাংশ মানুষ অপুষ্টির শিকার। কৃষকের হাড়ভাঙা পরিশ্রমে উৎপাদিত ফসল নিয়মমাফিক সাধারণ জনগণের হাতে আসছে না। এর পেছনে রয়েছে সিন্ডিকেট, মধ্যস্বত্বভোগী দালাল এবং বাজার অব্যবস্থাপনা। অতিরিক্ত বাজার মূল্যের কারণে খেটে খাওয়া শ্রমজীবী মানুষ পর্যাপ্ত খাবার কিনতে হিমশিম খাচ্ছে। শস্যের দেশ হওয়া সত্ত্বেও ক্ষুধার্তের থালায় পৌঁছাচ্ছে না খাবার। গ্লোবাল হাঙ্গার ইনডেক্সের রিপোর্টে দেখা যায় বাংলাদেশসহ দক্ষিণ এশিয়ার দেশগুলোতে মাঝারি থেকে তীব্র মাত্রার ক্ষুধা বা অপুষ্টির উপস্থিতি রয়েছে। এমতাবস্থায় অসাধু ব্যবসায়ীদের লোলুপ দৃষ্টি থেকে কৃষকের কষ্টার্জিত ফসল নিয়মতান্ত্রিকভাবে সাধারণ জনগণের থালায় পৌঁছানোর মাধ্যমে শস্যের দেশে ক্ষুধার অবসান ঘটানো সম্ভব।
আয়েশা সিদ্দিকা
শিক্ষার্থী, রসায়ন বিভাগ।

খাদ্য আছে পুষ্টি কোথায়
একদিকে খাদ্যের থালা অন্যদিকে পুষ্টির অপূর্ণতা দৃশ্যই আমাদের বাস্তবতা। খাদ্যের উপস্থিতি যখন পুষ্টির নিশ্চয়তা দিতে পারে না, তখন তা আর আমাদের সুস্থতার জন্য ইতিবাচক ভূমিকা রাখে না। কিন্তু সুস্থতা এবং কর্মক্ষম জীবনের জন্য কেবল খাদ্যের প্রাপ্যতাই যথেষ্ট নয়, প্রয়োজন পুষ্টির। খাদ্যে শর্করা, আমিষ, স্নেহ, ভিটামিন ও খনিজ লবণ সঠিক পরিমাণে না থাকলে সে সকল খাদ্য ক্ষুধা মেটালেও দেহের জন্য স্বাস্থ্যকর নয়। খাদ্যে পুষ্টিহীনতা এবং অস্বাস্থ্যকর জীবনযাপনের জন্য বর্তমানে ডায়াবেটিস, থাইরয়েড ইত্যাদি স্থায়ী রোগ মহামারি আকার ধারণ করেছে। এর ফলে ব্যক্তিগত সুস্থতার পাশাপাশি দেশের উৎপাদনশীলতা ও মানবসম্পদ উন্নয়নও বাধাগ্রস্ত হয়। খাদ্যে ভেজাল পুষ্টিহীনতার সমস্যাকে আরও উসকে দিচ্ছে। ক্ষতিকর রাসায়নিক ও নিম্নমানের উপাদান মিশ্রিত খাবার শরীরের স্বাভাবিক পুষ্টি গ্রহণে ব্যাঘাত ঘটিয়ে নানা স্বাস্থ্যঝুঁকি বাড়ায়। ফলে বাহ্যিকভাবে পর্যাপ্ত খাবার গ্রহণ করলেও মানুষ পুষ্টিহীনতার শিকার হতে পারে। তাই কেবল খাদ্যের প্রাপ্যতা নিশ্চিত করে নয় বরং খাদ্যের প্রয়োজনীয় পুষ্টি সরবরাহ করার মাধ্যমে একটি স্বাস্থ্যকর প্রজন্ম তৈরি করতে হবে। তাই কেবল অন্নের প্রাচুর্যে নয়, পুষ্টির পরিপূর্ণতাই আমাদের দেবে এক সমৃদ্ধ ও সম্ভাবনাময় জাতির সন্ধান।
সিমিকা হাসান
শিক্ষার্থী, রসায়ন বিভাগ।

নিরাপদ খাদ্য ও ভেজালমুক্ত জীবনের প্রত্যাশা
খাদ্য মানুষের বেঁচে থাকার প্রধান অবলম্বন। সুস্থ ও সুন্দর জীবনের জন্য নিরাপদ খাদ্যের কোনো বিকল্প নেই। কিন্তু খাদ্যে ভেজাল মেশানোর প্রবণতা জনস্বাস্থ্যের জন্য গুরুতর হুমকি হয়ে দাঁড়িয়েছে। অধিক মুনাফার লোভে অসাধু ব্যবসায়ীরা খাদ্যে ক্ষতিকর রাসায়নিক দ্রব্য মেশাচ্ছে। ফল পাকাতে রাসায়নিকের অপব্যবহার, মরা মাছ মুরগি এমনকি মেয়াদোত্তীর্ণ খাদ্য বিক্রি মানুষের জীবনকে ঝুঁকির মুখে ফেলছে। ফলে ক্যানসার, কিডনির প্রদাহ ও যকৃতের রোগসহ নানা জটিলতা দেখা দিচ্ছে। নিরাপদ খাদ্য নিশ্চিত করতে আইন প্রয়োগের পাশাপাশি নিয়মিত বাজার তদারকি, মোবাইল কোর্ট পরিচালনা, ভেজালবিরোধী অভিযান এবং অপরাধীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করতে হবে। সরকার, ব্যবসায়ী ও সাধারণ মানুষের সম্মিলিত প্রচেষ্টায় গড়ে উঠুক ভেজালমুক্ত বাংলাদেশ যেখানে প্রতিটি মানুষ নিশ্চিন্তে খাদ্য গ্রহণ করতে পারবে এবং সুস্থ জীবনযাপনের প্রত্যাশা পূরণ হবে।
সেতু রায়
শিক্ষার্থী, অর্থনীতি বিভাগ।

মন্তব্য করুন

আজকের নামাজের সময়সূচি (ঢাকা)

সময় লোড হচ্ছে...

ADVERTISEMENT

ফেসবুকে আমরা

প্রতিদিনের খবর ইমেইলে

লিংক কপি হয়েছে!