ঠাকুরগাঁওয়ের রুহিয়ায় জমি কেনাবেচা ও আর্থিক লেনদেনকে কেন্দ্র করে দুই পক্ষের মধ্যে এক রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। এ ঘটনায় দায়ের করা মামলায় দুই আসামিকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। তবে আসামিদের আটকের খবর ছড়িয়ে পড়লে রুহিয়া থানা ঘেরাও করে বিক্ষোভ প্রদর্শন করে তাদের সমর্থকরা। এতে এলাকা জুড়ে তীব্র উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। পরবর্তীতে পুলিশ ও স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিদের যৌথ হস্তক্ষেপে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আসে।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, প্রায় ১৪ লাখ টাকা মূল্যে একটি জমি ক্রয়ের সমঝোতায় প্রাথমিকভাবে ৫ লাখ টাকা বায়না হিসেবে দেওয়া হয়েছিল। নির্ধারিত চুক্তি অনুযায়ী বকেয়া টাকা পরিশোধ ও রেজিস্ট্রি সম্পাদন করতে সাব-রেজিস্ট্রি অফিসে যাওয়ার পথে প্রতিপক্ষ বাঁধা সৃষ্টি করে। এর জের ধরে জমি দখল ও পূর্বশত্রুতার কারণে উভয় পক্ষের মধ্যে অতর্কিত সংঘর্ষ বাধে। এতে একাধিক ব্যক্তি গুরুতর আহত হয়ে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। এর আগে বিষয়টি স্থানীয়ভাবে মীমাংসার উদ্যোগ নেওয়া হলেও কোনো সমঝোতা হয়নি।
সংঘর্ষের ঘটনায় ভুক্তভোগী নাজমীন আক্তার বাদী হয়ে রুহিয়া থানায় একটি মামলা (মামলা নং-০৩) দায়ের করেন। মামলার প্রেক্ষিতে তাৎক্ষণিক অভিযান চালিয়ে ঘটনার সঙ্গে জড়িত থাকার অভিযোগে বেলাল হোসেন ও বদিউজ্জামান নামের দুই ভাইকে আটক করে পুলিশ। তারা রুহিয়া থানার কুজিশহুর ঘুরনগাছ এলাকার মৃত সফির উদ্দিনের ছেলে।
এদিকে, গ্রেফতারের খবর এলাকায় পৌঁছালে আসামিপক্ষের সমর্থক ও স্থানীয় একটি দল ক্ষুব্ধ হয়ে ওঠে। তারা আসামিদের অনতিবিলম্বে মুক্তির দাবিতে রুহিয়া থানা চত্বর ঘেরাও করে বিক্ষোভ শুরু করে। এতে কিছু সময়ের জন্য থানা এলাকায় থমথমে অবস্থা ও চরম উত্তেজনা সৃষ্টি হয়।
আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিকে রাখতে পুলিশ তাৎক্ষণিক নিরাপত্তা জোরদার করে। একইসঙ্গে স্থানীয় রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব ও মুরুব্বিরা বিক্ষুব্ধ জনতাকে শান্ত করেন এবং দেশের প্রচলিত আইনের প্রতি শ্রদ্ধাশীল থাকার আহ্বান জানান।
এ বিষয়ে থানা পুলিশ জানায়, সম্পূর্ণ আইনি প্রক্রিয়া অনুসরণ করেই মামলা রুজু ও আসামিদের গ্রেফতার করা হয়েছে। যেকোনো ধরনের বিশৃঙ্খলা এড়াতে পুলিশ সতর্ক অবস্থানে রয়েছে। পরবর্তীতে আটককৃত আসামিদের বিজ্ঞ আদালতের মাধ্যমে জেলহাজতে প্রেরণ করা হয়েছে।
