শিরোনাম:
Network News BD
বৃহস্পতিবার, ২৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬
মেনু
প্রচ্ছদ

© 2026 Network News BD

কিছুটা সময় হোক প্রিয়জনদের সাথে

ফারিয়া ইসলাম

প্রকাশিত: ১ জুন ২০২৬, ১০:২৭ PM ৬ বার পঠিত
কিছুটা সময় হোক প্রিয়জনদের সাথে

ছবি: সংগৃহীত

বর্তমান আধুনিক যুগে মানুষের জীবন যতটা গতিময় হয়েছে, ঠিক ততটাই যান্ত্রিক হয়ে পড়েছে। আর এই আধুনিকতার সবচেয়ে বড় ও ভয়ংকর অভিশাপগুলোর মধ্যে অন্যতম হলো নীরব মানসিক কষ্ট, অতিরিক্ত দুশ্চিন্তা, ডিপ্রেশন এবং একাকীত্ব। এই অদৃশ্য কষ্টগুলো ধীরে ধীরে একজন মানুষকে এমনভাবে ভেতর থেকে ভেঙে চূর্ণবিচূর্ণ করে দেয়, যা যেকোনো জটিল শারীরিক অসুস্থতার চেয়েও অনেক বেশি ভয়ংকর। এই মানসিক বিপর্যয় একসময় মানুষকে এতটাই নিরাশ করে তোলে যে, সে জীবনের প্রতি সমস্ত মায়া হারিয়ে ফেলে। অথচ সবচেয়ে নির্মম সত্য হলো, তার চারপাশের মানুষ, এমনকি প্রতিদিন একসাথে চলাফেরা করা অত্যন্ত কাছের মানুষরাও অনেক সময় এই নীরব হাহাকার টের পায় না।

বর্তমান সময়ে পৃথিবীর অসংখ্য মানুষ এই বুকফাটা নীরব যন্ত্রণার মধ্য দিয়ে প্রতিটি দিন পার করছেন। তীব্র কর্মব্যস্ততা, ক্যারিয়ারের মানসিক চাপ, পারস্পরিক সম্পর্কের দূরত্ব এবং অতিরিক্ত প্রযুক্তিনির্ভর জীবন মানুষকে সমাজ ও পরিবার থেকে ক্রমান্বয়ে বিচ্ছিন্ন করে দিচ্ছে। বিশেষ করে স্মার্টফোন, সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ও ভার্চুয়াল জগতে অতিরিক্ত ডুবে থাকার কারণে আমাদের বাস্তব জীবনের রক্ত-মাংসের সম্পর্কগুলো দিন দিন প্রাণহীন হয়ে পড়ছে। আজ একই ছাদের নিচে, একই ঘরে থেকেও মানুষ একে অপরের থেকে মাইলের পর মাইল দূরে সরে যাচ্ছে। সবার হাত সচল ভার্চুয়াল দুনিয়ায়, কিন্তু পাশের মানুষটির চোখের ভাষা পড়ার ফুসরত কারও নেই।

এমন এক সংকটময় সময়ে আমাদের সবচেয়ে বড় দায়িত্ব হলো মানুষ হিসেবে মানুষের পাশে দাঁড়ানো, সহানুভূতির হাত বাড়িয়ে দেওয়া। এর জন্য কোনো বড় আয়োজনের প্রয়োজন নেই, প্রয়োজন শুধু একটুখানি আন্তরিকতা এবং নিজের পরিবার ও প্রিয়জনদের কিছুটা কোয়ালিটি টাইম বা গুণগত সময় দেওয়া। আমাদের উচিত মা-বাবা, ভাই-বোন, জীবনসঙ্গী কিংবা সন্তানের সাথে প্রতিদিন অন্তত কিছুটা সময় উৎসর্গ করা। তাদের সাথে মন খুলে গল্প করা, পুরোনো স্মৃতি নিয়ে হাসাহাসি করা, একসাথে রাতের খাবার খাওয়া, ঘরের কাজে হাত মেলানো কিংবা মাঝেমধ্যে কোথাও একটু ঘুরে আসা। আপাতদৃষ্টিতে এই ছোট ছোট মুহূর্তগুলোকে খুব সাধারণ মনে হলেও, এগুলো একজন তীব্র হতাশায় ভোগা মানুষের মনে নতুন করে বেঁচে থাকার সঞ্জীবনী শক্তি জোগাতে পারে।

আমাদের চারপাশের প্রতিটি মানুষ যেন অনুভব করতে পারে যে সে পৃথিবীতে একা নয়, সে কারও কাছে তুচ্ছ নয়; বরং তার অস্তিত্বের একটা গভীর মূল্য আছে। কারণ মানুষের মন যখন চরম হতাশায় ডুবে যায়, তখন কোনো দামি উপহার বা অর্থ তাকে বাঁচাতে পারে না। তখন এক জোড়া আস্থাশীল হাত, কিছু আন্তরিক সান্ত্বনার কথা কিংবা ভালোবাসামাখা একটুখানি নীরব উপস্থিতিই একজন মানুষকে গভীর অন্ধকার থেকে আলোর জগতে ফিরিয়ে আনতে পারে।

মনে রাখতে হবে, মানুষের সবচেয়ে বড় শক্তি অন্য একজন মানুষই। আর পরিবারের অকৃত্রিম ভালোবাসা ও কাছের মানুষের নিবিড় সঙ্গই হতে পারে মানসিক শান্তির সবচেয়ে নিরাপদ আশ্রয়। তাই আসুন, প্রযুক্তির এই কৃত্রিম ভিড়ে নিজেদের পুরোপুরি হারিয়ে না ফেলে, প্রিয় মানুষদের জন্য প্রতিদিন অন্তত কিছুটা সময় বরাদ্দ রাখি। আমাদের ভালোবাসা, যত্ন আর সুগভীর আন্তরিকতায় গড়ে তুলি সুন্দর, নিরাপদ ও মানসিকভাবে সুস্থ একটি পরিবার এবং মানবিক সমাজ।

লেখক:  শিক্ষার্থী, ভৈরব সরকারি মহিলা কলেজ।

বিষয়বস্তু:

মন্তব্য করুন

আজকের নামাজের সময়সূচি (ঢাকা)

সময় লোড হচ্ছে...

ADVERTISEMENT

ফেসবুকে আমরা

প্রতিদিনের খবর ইমেইলে

লিংক কপি হয়েছে!