শিরোনাম:
Network News BD
রবিবার, ৮ নভেম্বর ২০২৬
মেনু
প্রচ্ছদ

© 2026 Network News BD

স্বাধীনতার অমর কবি শামসুর রাহমানের প্রয়াণ দিবস আজ

শব্দশৈলী ডেস্ক

প্রকাশিত: ১৭ আগস্ট ২০২৬, ১২:২২ AM ২৬ বার পঠিত
স্বাধীনতার অমর কবি শামসুর রাহমানের প্রয়াণ দিবস আজ

ছবি: সংগৃহীত

বাঙালি জাতির স্বাধীনতা, প্রেম, দ্রোহ ও বিশ্বজনীনতার এক অপূর্ব মিশেল পাওয়া যায় যাঁর কবিতায়, তিনি আমাদের প্রিয় কবি শামসুর রাহমান। আজ ১৭ আগস্ট বাংলা সাহিত্যের এই প্রখ্যাত কবি, কথাশিল্পী, সাংবাদিক ও কলামিস্টের মৃত্যুবার্ষিকী। ২০০৬ সালের এই দিনে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ঢাকায় শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন তিনি। দীর্ঘ ছয় দশক ধরে নিজের সাবলীল ও তীক্ষ্ণ লেখনীর মাধ্যমে তিনি বাংলা সাহিত্যকে এক অনন্য উচ্চতায় নিয়ে গেছেন। সৃষ্টি ও মননের দ্যুতিময় উপস্থাপনা তাঁকে সমকালীন বাংলা কবিতার প্রধানতম কবির মর্যাদা দিয়েছে। তাঁকে বলা হয় নাগরিক কবি এবং তিরিশের দশকের পর বাংলা কবিতায় আধুনিকতার অন্যতম প্রধান পুরুষ।

১৯২৯ সালের ২৩ অক্টোবর ঢাকার মাহুতটুলির নানাবাড়িতে জন্মগ্রহণ করেন শামসুর রাহমান। তাঁর পৈতৃক নিবাস নরসিংদী জেলার রায়পুরার পাড়াতলী গ্রামে। লেখালেখির পাশাপাশি কর্মজীবনে তিনি ছিলেন একজন তুখোড় সংবাদকর্মী। ১৯৫৭ সালে মর্নিং নিউজ পত্রিকায় যোগ দেওয়ার মাধ্যমে তাঁর সাংবাদিকতা জীবনের শুরু। মাঝে কিছুদিন রেডিও পাকিস্তানে অনুষ্ঠান প্রযোজক হিসেবে কাজ করলেও পরে আবারও সাংবাদিকতায় ফেরেন। স্বাধীনতার পর দৈনিক বাংলা ও সাপ্তাহিক বিচিত্রার সম্পাদক হিসেবে তিনি দীর্ঘ সময় অত্যন্ত সফলতার সঙ্গে দায়িত্ব পালন করেন। তবে নিজের আদর্শের সঙ্গে তিনি কখনো আপস করেননি। সামরিক স্বৈরশাসনের প্রতিবাদে ১৯৮৭ সালে তিনি দৈনিক বাংলার সম্পাদকের পদ থেকে স্বেচ্ছায় পদত্যাগ করেন। সাংবাদিক জীবনে তিনি সিন্দাবাদ, চক্ষুষ্মান, লিপিকার, নেপথ্যে, জনান্তিকে ও মৈনাক ইত্যাদি ছদ্মনাম ব্যবহার করে অসংখ্য প্রতিবাদী সম্পাদকীয় ও উপসম্পাদকীয় লিখেছেন।

শামসুর রাহমানের প্রথম কবিতা প্রকাশিত হয় ১৯৪৯ সালে সোনার বাংলা পত্রিকায়। আর ১৯৬০ সালে প্রকাশিত হয় তাঁর প্রথম কাব্যগ্রন্থ ‘প্রথম গান, দ্বিতীয় মৃত্যুর আগে’। এরপর কবিতা, উপন্যাস, প্রবন্ধ ও শিশুতোষ রচনাসহ তাঁর শতাধিক বই প্রকাশিত হয়েছে। সাহিত্যে অসামান্য অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ তিনি বাংলা একাডেমি পুরস্কার, একুশে পদক, স্বাধীনতা পদক এবং ভারতের আনন্দ পুরস্কারসহ অসংখ্য সম্মাননায় ভূষিত হয়েছেন। পাশাপাশি ভারতের যাদবপুর ও রবীন্দ্রভারতী বিশ্ববিদ্যালয় তাঁকে সম্মানসূচক ডিলিট উপাধি প্রদান করে।

বাঙালির স্বাধিকার আন্দোলন ও মুক্তিযুদ্ধের চেতনা তাঁর কবিতায় যতটা নিখুঁতভাবে মূর্ত হয়ে উঠেছে, তা সমকালীন অন্য কারও লেখায় খুব একটা দেখা যায় না। ‘আমার দুখিনী বর্ণমালা’, ‘আসাদের শার্ট’, ‘স্বাধীনতা তুমি’ কিংবা ‘তোমাকে পাওয়ার জন্য হে স্বাধীনতা’ কবিতার পঙ্‌ক্তিগুলো আজও মানুষের মুখে মুখে মন্ত্রের মতো উচ্চারিত হয়। তৎকালীন আইয়ুব খানের স্বৈরশাসনের বিদ্রূপ করা থেকে শুরু করে বঙ্গবন্ধুর কারাবাসের সময় তাঁকে উদ্দেশ্য করে কবিতা লেখা কিংবা রবীন্দ্রসংগীত সম্প্রচার নিষিদ্ধ করার প্রতিবাদ, সবখানেই তিনি ছিলেন সামনের সারিতে। স্বৈরাচার, সাম্প্রদায়িকতা ও সন্ত্রাসের বিরুদ্ধে তাঁর কলম সবসময় গর্জে উঠেছে। ধর্মান্ধতা ও মৌলবাদকে আজীবন প্রচণ্ড ঘৃণা করতেন বলেই শ্যামলীর নিজ বাসভবনে তাঁকে উগ্রপন্থীদের হামলার শিকার হতে হয়েছিল।

ব্যক্তিজীবনে তিনি অত্যন্ত মৃদুভাষী ছিলেন। তবে যেকোনো যৌক্তিক আন্দোলনে ও অধিকার আদায়ের দাবিতে তিনি সবসময় সাধারণ মানুষের পাশে সশরীরে উপস্থিত থাকতেন। কালের কণ্ঠস্বর এই কবি আজ আমাদের মাঝে নেই। কিন্তু যেকোনো বিপর্যয়ে, দুঃশাসনে কিংবা মানবতার চরম লাঞ্ছনায় বাঙালিকে বারবার ফিরে যেতে হবে শামসুর রাহমানের কবিতার কাছে। তাঁর সৃষ্টিশীলতার এই বিশালতা এবং স্বাধীনতার প্রতি অকৃত্রিম ভালোবাসার জন্যই তিনি চিরকাল বাঙালির হৃদয়ে স্বাধীনতার কবি হিসেবে বেঁচে থাকবেন।

বিষয়বস্তু:

মন্তব্য করুন

আজকের নামাজের সময়সূচি (ঢাকা)

সময় লোড হচ্ছে...

ADVERTISEMENT

ফেসবুকে আমরা

প্রতিদিনের খবর ইমেইলে

লিংক কপি হয়েছে!