শিরোনাম:
Network News BD
বৃহস্পতিবার, ২৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬
মেনু
প্রচ্ছদ

© 2026 Network News BD

উম্মে সালমার ধারাবাহিক গল্প ফের দেখা

উম্মে সালমা

প্রকাশিত: ১০ জুলাই ২০২৬, ৩:৩৭ PM ২৫ বার পঠিত
উম্মে সালমার ধারাবাহিক গল্প ফের দেখা

ছবি: সংগৃহীত

ফের দেখা (১ম পর্ব)
উম্মে সালমা

আজ ঠিক ছয়টি বছর পর তার সঙ্গে আবার দেখা হলো। ঠিক সেই জায়গায়, যেখানে আমাদের বিচ্ছেদ হয়েছিল। কী অদ্ভুত, তাই না? বিচ্ছেদের সেই একই জায়গায় আমাদের ফের দেখা। বুঝতে পারলাম না, কীভাবে চোখের পলকে ছয়টা বছর কেটে গেল! হুট করে তাকে এভাবে দেখতে পাব, ভাবিনি। বিচ্ছেদের পর মাঝে কেবল একবারই চোখে চোখ পড়েছিল। সে সামনে দিয়ে আসছিল, মাত্র দুই ইঞ্চি ব্যবধানে আমরা একে অপরকে পাশ কাটিয়ে চলে গিয়েছিলাম। সেদিনও সে আমার দিকে অবাক দৃষ্টিতে তাকিয়ে ছিল। আজও তাকিয়ে রইল।

হয়তো সে ভাবছিল, এমন বোকা একটা মেয়ে কীভাবে এত পাথর হয়ে গেল! একসময় দূর থেকে তাকে একপলক দেখলেই যে মেয়েটা খুশিতে ছটফট করত, যাকে নিয়ে আজেবাজে কথা শুনলে কান্নায় ভেঙে পড়ত, আজ তার পাশ কাটিয়ে চলে যাওয়াতেও সেই মেয়ের কোনো বিকার নেই। কোনো ছটফটানি নেই, নেই আবেগে ভেঙে পড়ার দৃশ্য।

হ্যাঁ, আমি পাথর হয়ে গেছি। আজ তোমাকে দেখে আগের মতো কোনো পাগলামি ভর করে না। ‘তুমি ছাড়া কিছু বুঝি না’, এমন স্বভাব আমার আর নেই। এই ছয় বছরে তোমাকে ছাড়াই নিজেকে গুছিয়ে নিয়েছি। এখন আর তোমার জন্য কাঁদি না। চোখের জলে বালিশ ভেজাই না, রাত জাগি না। তোমাকে দেখলে আমার আর কোনো অনুভূতি হয় না, বুকের ভেতর যন্ত্রণা হয় না, কষ্টও পাই না। আমি এখন আর এসব প্রেম বা ভালোবাসায় বিশ্বাস করি না। শুধু বিশ্বাস করতে শিখেছি পারিবারিক ও সামাজিক বন্ধনকে, যেখানে দুটি পরিবারের হাসি আর আনন্দ লুকিয়ে থাকে। এখন আর তোমাকে মনে পড়ে না। পুরোপুরি ভুলে গেছি। আজ যখন পেছন ফিরে তোমার সেই অবাক দৃষ্টি দেখলাম, খুব সহজেই চোখ সরিয়ে নিতে পারলাম। আজ আর চোখ দিয়ে এক ফোঁটা পানিও পড়ল না। মনে কোনো কষ্টের অনুভূতিও জাগল না। কারণ আমাদের এই বিচ্ছেদের মূল কারণ তো তুমিই ছিলে। শুধু মনে হলো, বিচ্ছেদের পর ফের তার সঙ্গে দেখা হয়ে গেল।

রাত আটটায় বাসায় ফিরলাম। খুব ক্লান্ত লাগছিল। ফ্রেশ হয়ে হালকা নাশতা করে বিছানায় গা এলিয়ে দিলাম। কানে হেডফোন গুঁজে প্রিয় একটা গান শুনছিলাম। ঠিক তখনই মোবাইলের স্ক্রিনে ভেসে উঠল পরিচিত একটি নম্বর। হাসিমুখে কল রিসিভ করে কথা বলে নিলাম। কথা শেষে চোখ বন্ধ করতেই পুরোনো মুহূর্তগুলো চোখের সামনে ভেসে উঠল।

এতক্ষণ ধরে নিজের কথা বলে যাচ্ছি, অথচ নিজের পরিচয়টাই দেওয়া হয়নি। আমি সানভি। বাংলা বিভাগে অনার্স চতুর্থ বর্ষে পড়ছি। আর এতক্ষণ যার কথা বলছিলাম, সে ইসলামের ইতিহাস ও সংস্কৃতি বিভাগের চতুর্থ বর্ষের ছাত্র।

ফিরে যাই অতীতে। গ্রামের খুব সাদাসিধে একটি বাড়িতে আমার জন্ম। সেখানেই আমার শৈশব কেটেছে। যখন আমি দশম শ্রেণিতে উঠি, মূলত তখন থেকেই এই গল্পের শুরু। স্কুলে তখন পুরোদমে ক্লাস চলছে। আমি সব সময়ের মতো মনোযোগ দিয়ে ক্লাস করতাম। একদিন ক্লাস শেষে আমি আর আমার বান্ধবী আইরা শিক্ষকদের কক্ষ থেকে পড়ার শিট নিয়ে বাড়ির উদ্দেশ্যে রওনা হলাম। রাস্তায় হাঁটতে হাঁটতে দেখলাম, পেছন থেকে সাইকেল চালিয়ে এগিয়ে আসছে আমাদের ক্লাসের এক ছেলে, নাম সাবিত। ওর সঙ্গে গল্প করতে করতেই আমরা হাঁটছিলাম।

কথা বলতে বলতে আইরা সাবিতকে জিজ্ঞেস করল, “সাবিত, তুমি কি মোবাইল নিয়ে এসেছ?” “হ্যাঁ, এনেছি। কেন?” সাবিতের প্রশ্ন। “আমাকে একটু দেবে? আমার নতুন একটা ভাই হয়েছে। সার্কেলে নতুন একটা ভাই পাতিয়েছি, খুব ভালো ছেলে। আমাকে নিজের বোনের মতো দেখে। ওকে একটা কল দেব।”

সাবিত রাজি হয়ে মোবাইলটা আইরার হাতে দিল। আইরা নম্বর তুলে কল দিল। রিং হতেই ওপাশ থেকে কল রিসিভ হলো। পরিচয় জানতে চাওয়ায় আইরা নিজের পরিচয় দিল। এরপর ছেলেটা কল কেটে দিয়ে নিজের নম্বর থেকে আবার কল দিল। দুজনে বেশ কিছুক্ষণ কথা বলল। তাদের কথা বলার ধরনে ভাই-বোনের সম্পর্ক ছাড়া অন্য কোনো কিছু মনে হয়নি আমার। একপর্যায়ে ছেলেটা জিজ্ঞেস করল, আইরার সঙ্গে আর কে আছে। আইরা জানাল, তার বেস্ট ফ্রেন্ড আছে। তখন ছেলেটা আমার সঙ্গে কথা বলতে চাইল।

আইরা আমার দিকে মোবাইলটা বাড়িয়ে দিয়ে বলল, “নে, কথা বল।” আমি অবাক হয়ে বললাম, “কে? আর আমি কেন কথা বলব?” “তোর সাথে কথা বলতে চাচ্ছে। আমার ভাই হবে, সমস্যা নেই, কথা বল। ভালো ছেলে।” আইরা অনেকটা জোর করেই মোবাইলটা আমার হাতে ধরিয়ে দিল।

অগত্যা ফোন কানে ধরে বললাম, “আসসালামু আলাইকুম।” ওপাশ থেকে উত্তর এল, “ওয়ালাইকুম আসসালাম। কেমন আছেন?” “আলহামদুলিল্লাহ, ভালো। আপনি কে?” ছেলেটা কিছুটা মজা করেই বলল, “আমি আরাফ। কিন্তু কেউ কেমন আছেন জিজ্ঞেস করলে, তার উত্তরে তাকেও কেমন আছেন জিজ্ঞেস করতে হয়, আপনি কে, তা নয়।”

আমি কিছুটা বিরক্ত হয়েই বললাম, “দুঃখিত, আমি আপনাকে চিনি না, তাই অবশ্যই জিজ্ঞেস করব আপনি কে।” ছেলেটা এবার বলল, “বাহ! আপনি তো খুব সুন্দরভাবে কথা বলেন। আর আপনার কণ্ঠস্বরটাও খুব মায়াবী।”

আমি মনে মনে ভাবলাম, লোকটা অযথা কথা বাড়াচ্ছে। মুখে শুধু বললাম, “আপনার বোনের সাথে কথা বলুন। আসসালামু আলাইকুম।”

এই বলে মোবাইলটা আইরাকে ফিরিয়ে দিলাম। এরপর তাদের মাঝে কী কথা হলো, তা আর খেয়াল করিনি। শেষে শুধু আইরার একটা কথা শুনতে পেলাম, “আমি বাড়িতে গিয়ে দেব।”

আইরাদের বাড়ি থেকে আমার বাড়ি খানিকটা দূরে। সাবিত আগেই নিজের গন্তব্যে চলে গিয়েছিল। আইরাকে বিদায় জানিয়ে আমি নিজের বাসায় ফিরে এলাম।

(চলবে…)

বিষয়বস্তু:

মন্তব্য করুন

আজকের নামাজের সময়সূচি (ঢাকা)

সময় লোড হচ্ছে...

ADVERTISEMENT

ফেসবুকে আমরা

প্রতিদিনের খবর ইমেইলে

লিংক কপি হয়েছে!