শিরোনাম:
Network News BD
বৃহস্পতিবার, ২৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬
মেনু
প্রচ্ছদ

© 2026 Network News BD

বাবার ভালোবাসা

শব্দশৈলী ডেস্ক

প্রকাশিত: ৮ জুলাই ২০২৬, ৬:১৮ PM ৪ বার পঠিত
বাবার ভালোবাসা

ছবি: এআই নির্মিত

ফারিয়া ইসলাম:

আলহামদুলিল্লাহ, আমি পৃথিবীতে একজন শ্রেষ্ঠ বাবা পেয়েছি।

পড়াশোনার খাতিরে বাড়ি থেকে কয়েক কিলোমিটার দূরে নানাবাড়িতে থাকি। আলহামদুলিল্লাহ, মামা-মামির কাছ থেকেও আজ পর্যন্ত ভালোবাসার বিন্দুমাত্র কমতি পাইনি। হোস্টেলের মেয়েদের মতো বাড়ির রান্নাও আমাকে মিস করতে হয় না। তবু যখন সপ্তাহ দুয়েক পর পর নিজের বাড়িতে যাই, তখন আমার বাবার যে প্রতিক্রিয়া বা অভিব্যক্তি হয়, তা যেন পৃথিবীর সকল প্রশান্তির ঊর্ধ্বে!

বাবা যখন ঘরে ঢুকে আমাকে দেখেন, তখন তাঁর চোখেমুখে ভালোবাসার কী যে এক অদ্ভুত শান্তির ঝিলিক বয়ে যায়! শুরু হয় হাজারো প্রশ্নের পালা— “আরেহ! আমার আম্মা এল কখন! কেমন আছো মা? তোমার শরীরটা কেমন আছে? মা, তুমি কি ঠিকমতো খাওয়াদাওয়া করো না? তুমি তো শুকিয়ে গেছ! কী খাবে? আব্বা তোমার জন্য কী আনব? বলো…” বাবার সেই আবেগ লিখে বোঝানোর মতো নয়! বাবা আমাকে বেশিরভাগ সময়ই মা বা আম্মা বলে ডাকেন। আর আমার আম্মাও সপ্তাহের মধ্যে যা কিছু ভালো এবং আমার পছন্দের রান্না করেন, সবই ফ্রিজে আমার জন্য আলাদা করে রেখে দেন।

সেদিনও বাসায় যাওয়ার পর, রাতে বাবাকে আমার পছন্দের কয়েকটা খাবারের কথা বলেছিলাম। পরদিন একদম সকালে ঘুম থেকে উঠেই বাবা বাজারে গিয়ে সব জিনিস কিনে এনে আমাকে ঘুম থেকে ডেকে তুললেন। আমি বাসায় গেলেই বাবাকে সবসময় এটা-সেটা কত কিছু যে আনতে বলি! বাবা আমার হাসিমুখে সবকিছু নিয়ে আসেন। ছোটবেলার এই অভ্যাসটা আমার এখনো যায়নি! কিছু ভেবে না পেলেও বাবাকে এটা-ওটা আনার আবদার করি। বাবা আমার সকল আবদার হাসিমুখে পূরণ করেন।

বাসায় গিয়ে নতুন নতুন রেসিপি তৈরি করার জন্য বাবাকে কত কিছুই না আনতে বলি! যদিও একদিনও আমার কোনো রেসিপি ঠিকমতো হয় না। তবু বাবা, আমি জিনিসগুলো নষ্ট করব জেনেও হাসিমুখে সব এনে দেন।

অনেক দিন আগের কথা। একদিন আম্মা বাড়িতে ছিল না। আমি তখন কী যেন একটা রান্না করেছিলাম (ঠিক কী রেঁধেছিলাম এখন আর মনে নেই)। বাবা সেই খাবার খেয়ে এত প্রশংসা করলেন! কিন্তু আমি নিজে মুখে দিয়েই সাথে সাথে ফেলে দিয়েছিলাম। কারণ খাবারটা এতটাই বাজে হয়েছিল যে মুখে দেওয়ার মতোই ছিল না; পুড়ে গিয়েছিল আর লবণও হয়েছিল অনেক বেশি। তখনই বুঝে গিয়েছিলাম, বাবা শুধু আমাকে খুশি করার জন্যই মিথ্যে প্রশংসা করেছিলেন। যে বাবা আম্মার এত মজার মজার রান্নার মধ্যেও মাঝে মাঝে খুঁত ধরেন, সেই বাবাই আমার পোড়া রান্না খেয়ে প্রশংসায় পঞ্চমুখ! (আমার জীবনে প্রথম যে খাবারটা আমি রান্না করতে শিখেছি, সেটা ছিল সেমাই। আর সেটাও শিখেছি আমার বাবার কাছ থেকেই। আম্মা বাড়িতে ছিল না বলে সেদিন বাবাই সেমাই রেঁধেছিলেন)।

নানাবাড়ি আসার পর দীর্ঘ এই দুই বছরে আমি নিজ থেকে বাবাকে দুইবার ফোন দিয়েছি কিনা সন্দেহ! বাবাই সবসময় আমাকে আগে ফোন দেন। বৃহস্পতিবার এলেই বাড়িতে যাওয়ার জন্য বারবার আমাকে কল করতে থাকেন। আমার কল লিস্টের সবচেয়ে প্রিয় মানুষটি হলেন আমার বাবা। যাঁর ফোন এলে আমি হাজারো ক্লান্তির মাঝেও এক অদ্ভুত শান্তি ফিরে পাই; বিশুদ্ধ অক্সিজেনের মতো এক শান্তির নিঃশ্বাস নিতে পারি। বাবার সেই ঘামের গন্ধটাও পৃথিবীর বুকে আমার কাছে সবচেয়ে প্রিয়।

বাবার মুখের দিকে তাকালে আমি যেন পৃথিবীর বুকে এক টুকরো জান্নাত খুঁজে পাই। এই হিরের টুকরো মানিক রতনের দিকে আমার অনন্তকাল চেয়ে থাকতে ইচ্ছে করে, চোখ ফেরাতে ইচ্ছে করে না!

মহান আল্লাহ যেন পৃথিবীর সকল বাবাকে নেক হায়াত দান করেন এবং সকল বাবা যেন আমার বাবার মতোই তাঁদের সন্তানদের আজীবন আদরে-স্নেহে আগলে রাখেন, আমিন।

লেখক: শিক্ষার্থী, ভৈরব সরকারি মহিলা কলেজ।

শুভ্র/

বিষয়বস্তু:

মন্তব্য করুন

আজকের নামাজের সময়সূচি (ঢাকা)

সময় লোড হচ্ছে...

ADVERTISEMENT

ফেসবুকে আমরা

প্রতিদিনের খবর ইমেইলে

লিংক কপি হয়েছে!