শিরোনাম:
Network News BD
বৃহস্পতিবার, ২৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬
মেনু
প্রচ্ছদ

© 2026 Network News BD

আনন্দ আর উচ্ছ্বাসে মুখর ক্যানুপাস ২৫ ব্যাচের চড়ুইভাতি

তৈয়বা খানম

প্রকাশিত: ১৬ মে ২০২৬, ৪:২৩ PM ২০ বার পঠিত
আনন্দ আর উচ্ছ্বাসে মুখর ক্যানুপাস ২৫ ব্যাচের চড়ুইভাতি

ছবি: লেখকের সৌজন্যে

চোখের পলকেই যেন কেটে গেল অনেকটা সময়। মনে হয় এইতো সেদিন প্রথম ক্লাস শুরু হয়েছিল, অথচ দেখতে দেখতেই আজ আমরা বিদায়বেলার দ্বারপ্রান্তে! বলছিলাম চট্টগ্রাম কলেজের সমাজবিজ্ঞান বিভাগের ‘ক্যানুপাস ২৫’ ব্যাচের কথা। এই শ্রেণিকক্ষেই জমা আছে আমাদের সুখ-দুঃখ ও হাসি-কান্নার হাজারো স্মৃতি। বিভাগের দীর্ঘ বারান্দা থেকে শুরু করে ক্যাম্পাসের প্রতিটি অলিগলিতে মিশে আছে আমাদের গভীর মায়া। এই বর্ণিল সময়গুলোকে ফ্রেমবন্দি করে রাখার প্রয়াসেই আয়োজন করা হয় এক আনন্দমুখর চড়ুইভাতির।

পঞ্চাশেরও বেশি শিক্ষার্থীর এই আয়োজন সম্পন্ন করা ব্যাচ প্রতিনিধিদের জন্য ছিল এক বিশাল কর্মযজ্ঞের শামিল। ‘জ্ঞান হোক অবারিত, আনন্দ হোক অন্তহীন’ প্রতিপাদ্যকে সামনে রেখে গত ১৪ মে, বৃহস্পতিবার অনুষ্ঠিত হয় এই চড়ুইভাতি। সহপাঠীদের মধ্যকার মেলবন্ধন আরও দৃঢ় করা এবং সুন্দর একটি দিন স্মৃতিতে গেঁথে রাখাই ছিল এই আয়োজনের মূল উদ্দেশ্য। নানা জল্পনা-কল্পনা আর সবার জন্য একটি সুন্দর দিন উপহার দেওয়ার চাপা উদ্বেগের পর অবশেষে আসে সেই বহুল আকাঙ্ক্ষিত দিনটি।

পুরো আয়োজন জুড়েই ছিল নতুন কিছু শেখার সুযোগ। ঘরের কাজে অনেকের তেমন আগ্রহ না থাকলেও, চড়ুইভাতির আয়োজনে সবাই স্বতঃস্ফূর্তভাবে হাতে হাত মিলিয়ে কাজ করেছে। ভ্রাতৃত্ববোধের সুন্দরতম রূপটি সেদিন আমরা স্বচক্ষে দেখেছি। ফটো বুথে সুন্দর মুহূর্তগুলো ধরে রাখার জন্য কেউ রং তুলি নিয়ে ব্যস্ত, কেউবা শ্রেণিকক্ষ সাজাতে মগ্ন। ঘণ্টার পর ঘণ্টা ধরে শিক্ষার্থীরা বেশ ধৈর্য ও আনন্দের সাথে কাজ করে গেছে। সব মিলিয়ে শ্রেণিকক্ষে তৈরি হয়েছিল এক উৎসবের আমেজ।

এ ধরনের আয়োজন শিক্ষার্থীদের মেধা ও দক্ষতা বিকাশের সুযোগ করে দেয়। সবার করা নকশা, ব্যবস্থাপনা ও রান্নার প্রস্তুতির মাঝে শিক্ষার্থীদের কাজের পারদর্শিতা দারুণভাবে ফুটে উঠেছিল। আয়োজনের অন্যতম আকর্ষণ ছিল মেয়েদের বল নিক্ষেপ ও ছেলেদের বেলুন ফাটানো প্রতিযোগিতা। এ যেন নিজেদের ফেলে আসা শৈশবকে নতুন করে ফিরে পাওয়া। হাড্ডাহাড্ডি লড়াইয়ের পর বিজয়ী তিন ছাত্র ও তিন ছাত্রীর হাতে পুরস্কার তুলে দেন শিক্ষকেরা। খেলায় প্রথম হয়ে একটি পুরস্কার নিজের ঝুলিতে নিতে পেরে আমারও ভীষণ আনন্দ হচ্ছিল। মনে হচ্ছিল, যেন শৈশবের ক্রীড়া প্রতিযোগিতায় প্রথম হওয়ার সেই সোনালি মুহূর্তটাই আবার ফিরে এসেছে।

এরপর আসে সেই মাহেন্দ্রক্ষণ। শিক্ষক ও ছাত্র-ছাত্রী সবাই একসাথে মিলে খোলা আকাশের নিচে দুপুরের খাবার খেতে বসা। কাঁঠালতলায় সারিবদ্ধভাবে বসে গল্প, আড্ডা আর হাসিখুশির মধ্য দিয়ে খাওয়া পর্ব চলতে থাকে। শ্রেণিকক্ষে যেসব শিক্ষককে ভীষণ ভয় পেতাম, আজ তাদের সাথে এক কাতারে বসে খাওয়াটা ছিল এক দারুণ অভিজ্ঞতা। তীব্র গরমের মধ্যেও অনাবিল আনন্দের সাথে আমরা খাবার শেষ করলাম। সেই সুস্বাদু খাবারের কথা মনে পড়লে আজও জিভে জল চলে আসে। কোনো রকম বিরক্তি প্রকাশ না করে শিক্ষকেরা যেভাবে পুরো সময়টুকু আমাদের সাথে থেকেছেন এবং উৎসাহ জুগিয়েছেন, তা ছাত্র-শিক্ষকের নিবিড় সম্পর্ককে আরও সুদৃঢ় করেছে।

এভাবেই স্মৃতির পাতায় একগুচ্ছ নতুন গল্প যোগ করে সমাপ্তি ঘটে সুন্দর এই আয়োজনের। অগণিত সুন্দর মুহূর্ত, নতুন কিছু শেখা আর বাঁধভাঙা আনন্দই হলো এই চড়ুইভাতি থেকে পাওয়া আমাদের জীবনের অন্যতম সেরা সঞ্চয়।

শুভ্র/

মন্তব্য করুন

আজকের নামাজের সময়সূচি (ঢাকা)

সময় লোড হচ্ছে...

ADVERTISEMENT

ফেসবুকে আমরা

প্রতিদিনের খবর ইমেইলে

লিংক কপি হয়েছে!