শিরোনাম:
Network News BD
সোমবার, ২ নভেম্বর ২০২৬
মেনু
প্রচ্ছদ

© 2026 Network News BD

বিশ্ববিদ্যালয় জীবনে হারিয়ে যাচ্ছে বই পড়ার অভ্যাস, নেপথ্যে কী?

মোঃ রাজু

মোঃ রাজু

প্রকাশিত: ২ নভেম্বর ২০২৬, ৫:৫৬ PM ৫২ বার পঠিত
বিশ্ববিদ্যালয় জীবনে হারিয়ে যাচ্ছে বই পড়ার অভ্যাস, নেপথ্যে কী?

নেটওয়ার্ক নিউজ বিডি সম্পাদিত

বিশ্ববিদ্যালয় জীবন একজন মানুষের জ্ঞান, চিন্তা ও মনন বিকাশের গুরুত্বপূর্ণ সময়। এ সময়ে পাঠ্যবইয়ের পাশাপাশি সাহিত্য, ইতিহাস, দর্শন, বিজ্ঞান ও সমসাময়িক বিষয় নিয়ে পড়াশোনার মাধ্যমে একজন শিক্ষার্থীর চিন্তার জগৎ বিস্তৃত হওয়ার কথা। কিন্তু বর্তমান সময়ে বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষার্থীদের মধ্যে পাঠ্যবইয়ের বাইরের বই পড়ার আগ্রহ যেন ক্রমেই কমছে। সিইও ওয়ার্ল্ড ম্যাগাজিনের পাঠাভ্যাস সংক্রান্ত জরিপ অনুযায়ী, বই পড়ার অভ্যাসে ১০২টি দেশের মধ্যে বাংলাদেশের অবস্থান ৯৭ তম এবং একজন বাংলাদেশি গড়ে বছরে মাত্র ৩ টির ও কম বই পড়েন। একসময় অবসর কাটানোর অন্যতম মাধ্যম ছিল বই পড়া, অথচ সেই জায়গা দখল করে নিচ্ছে স্মার্টফোন, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও ডিজিটাল বিনোদন। প্রশ্ন উঠছে, এই পরিবর্তনের নেপথ্যে কী?

বই পড়ার অভ্যাস কমে যাওয়ার অন্যতম আলোচিত কারণ প্রযুক্তির অতিরিক্ত ব্যবহার।ফেসবুক, ইউটিউব, টিকটকসহ বিভিন্ন ডিজিটাল প্ল্যাটফর্ম শিক্ষার্থীদের অবসর সময়ের বড় একটি অংশ দখল করে নিচ্ছে। বিভিন্ন গবেষণা অনুযায়ী দেখা যায়, শিক্ষার্থীদের একটি বড় অংশ (প্রায় ৬৩ শতাংশ বা তার বেশি) তাদের অবসর বা বাড়তি সময় স্মার্টফোন, ইন্টারনেট ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যয় করে।স্বল্প সময়ের বিনোদনমূলক কনটেন্টের প্রতি আগ্রহ বাড়ায় দীর্ঘ সময় ধরে একটি বই পড়ার ধৈর্য ও মনোযোগ অনেকের ক্ষেত্রে কমে যাচ্ছে।
তবে প্রযুক্তিকে একমাত্র দায়ী করার সুযোগ নেই। ই-বুক, অনলাইন লাইব্রেরি ও ডিজিটাল প্রকাশনার মাধ্যমে বই পড়ার সুযোগও এখন আগের চেয়ে সহজ হয়েছে। মূল বিষয় হলো, প্রযুক্তি ব্যবহারের ক্ষেত্রে শিক্ষার্থীরা কতটা সচেতন এবং নিজেদের সময়কে কীভাবে কাজে লাগাচ্ছেন।

পাঠ্যবইয়ের গণ্ডিতে সীমাবদ্ধ পড়াশোনা
বিশ্ববিদ্যালয়ের অনেক শিক্ষার্থীর পড়াশোনা এখন সেমিস্টার, অ্যাসাইনমেন্ট ও পরীক্ষার প্রস্তুতিকেন্দ্রিক। ফলে পাঠ্যসূচির বাইরের বই পড়ার আগ্রহ অনেকের কাছে গুরুত্ব হারাচ্ছে। অথচ বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষা শুধু ভালো ফলাফল অর্জনের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়; বরং মুক্তচিন্তা, সৃজনশীলতা ও বিশ্লেষণী ক্ষমতা বিকাশেরও একটি গুরুত্বপূর্ণ ক্ষেত্র।

এর পাশাপাশি একাডেমিক ব্যস্ততা, ভবিষ্যৎ কর্মজীবনের প্রস্তুতি এবং ব্যক্তিগত নানা কাজের কারণে অনেক শিক্ষার্থী বই পড়ার জন্য আলাদা সময় বের করতে পারেন না। তবে বিষয়টি শুধু সময়ের অভাব নয়, বরং সময় ব্যবহারের অগ্রাধিকারের সঙ্গেও সম্পর্কিত।

গ্রন্থাগার আছে, পাঠক কোথায়?
বিশ্ববিদ্যালয়ের গ্রন্থাগার শিক্ষার্থীদের জ্ঞানচর্চার অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্র। কিন্তু গ্রন্থাগারের সুযোগ-সুবিধা থাকা এবং শিক্ষার্থীদের নিয়মিত বই পড়ার অভ্যাস গড়ে ওঠা এক বিষয় নয়। অনেক শিক্ষার্থী গ্রন্থাগারকে শুধু পরীক্ষার প্রস্তুতি কিংবা একাডেমিক কাজের জায়গা হিসেবে বিবেচনা করেন।

গ্রন্থাগারে নতুন বই সংগ্রহ, পাঠবান্ধব পরিবেশ, বই আলোচনা ও পাঠচক্রের আয়োজন শিক্ষার্থীদের আগ্রহ বাড়াতে পারে। পাশাপাশি বিশ্ববিদ্যালয়ের সাংস্কৃতিক সংগঠনগুলোর উদ্যোগে বইমেলা, লেখক আড্ডা ও সাহিত্যবিষয়ক আয়োজনও পাঠাভ্যাস তৈরিতে ভূমিকা রাখতে পারে।

বই পড়ার অভ্যাস কমলে ক্ষতি কার?
বই পড়া কেবল তথ্য জানার মাধ্যম নয়; এটি মানুষের চিন্তাশক্তি, ভাষাগত দক্ষতা, কল্পনাশক্তি ও বিশ্লেষণী ক্ষমতা বিকাশে সহায়তা করে। কিন্তু দুঃখের বিষয় বিভিন্ন পর্যালোচনায় দেখা যায়, তরুণ প্রজন্মের প্রায় ৮২ শতাংশের মধ্যে সৃজনশীল বা প্রথাগত বই পড়ার প্রতি তেমন একটা আগ্রহ লক্ষ্য করা যায় না।বিভিন্ন ধরনের বই পড়ার মাধ্যমে একজন শিক্ষার্থী নতুন ধারণার সঙ্গে পরিচিত হন এবং ভিন্ন মতামতকে বোঝার সুযোগ পান। ফলে বই পড়ার অভ্যাস কমে যাওয়া শুধু ব্যক্তিগত জ্ঞানচর্চার ক্ষতি নয়, বরং মননশীল ও যুক্তিবাদী প্রজন্ম গড়ে তোলার ক্ষেত্রেও একটি চ্যালেঞ্জ।

বিশ্ববিদ্যালয় জীবনে বই পড়ার অভ্যাস ফিরিয়ে আনতে শিক্ষার্থী, শিক্ষক ও প্রশাসন—সবারই ভূমিকা রয়েছে। শিক্ষার্থীদের প্রতিদিন কিছুটা সময় বই পড়ার জন্য বরাদ্দ রাখা, বিশ্ববিদ্যালয়ের গ্রন্থাগারকে আরও পাঠকবান্ধব করা এবং নিয়মিত পাঠচক্র ও বই আলোচনা আয়োজন করা প্রয়োজন। একই সঙ্গে পাঠ্যবইয়ের বাইরের বই পড়তে শিক্ষার্থীদের উৎসাহিত করতে হবে।
পরিশেষে বলা যায়, বিশ্ববিদ্যালয় জীবন শুধু সনদ অর্জনের সময় নয়; এটি নিজেকে জ্ঞান ও মননে সমৃদ্ধ করার সময়। প্রযুক্তির অগ্রগতির সঙ্গে তাল মিলিয়ে চলতে হবে, তবে বইয়ের সঙ্গে সম্পর্ক বিচ্ছিন্ন করে নয়। কারণ, বই পড়ার অভ্যাস একজন শিক্ষার্থীকে শুধু জ্ঞানীই করে না, বরং চিন্তাশীল মানুষ হিসেবেও গড়ে তুলতে সাহায্য করে।

মন্তব্য করুন

১

রাবিতে প্রফেসর এ বি এম হোসেন ও শাহানারা হোসেন ফাউন্ডেশন বৃত্তি প্রদান

২

কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ও প্রযুক্তি নির্ভর শিক্ষায় জোর দিয়ে জবিতে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর বক্তব্য

৩

জাতীয় স্বার্থ সমুন্নত রাখতে কৌশলগত নেতৃত্ব তৈরির আহ্বান রাষ্ট্রপতির

৪

অগ্নিপ্রভাত উপন্যাসে মুক্তিযুদ্ধের মানবিক অভিঘাত ও একটি পাঠচক্র

৫

বিশ্ববিদ্যালয় জীবনে হারিয়ে যাচ্ছে বই পড়ার অভ্যাস, নেপথ্যে কী?

৬

মোটরসাইকেলের সামনে নম্বরপ্লেট বসানোর বাধা দূর হলো, সংশোধিত নীতিমালা প্রকাশ

৭

দিনাজপুরে শীতের আগমনে খেজুর গুড় তৈরিতে ব্যস্ত গাছিরা

৮

প্রতিদিনের কাজে ৫৫ শতাংশ কর্মী এআই ব্যবহার করে : মেটলাইফের গবেষণা

আজকের নামাজের সময়সূচি (ঢাকা)

সময় লোড হচ্ছে...

ADVERTISEMENT

ফেসবুকে আমরা

প্রতিদিনের খবর ইমেইলে

লিংক কপি হয়েছে!