আনপোস্টেড মেইল
রুশাইদ আহমেদ
মেইল, ক্ষুদ্রায়তনিক টেক্সট লেখার আধুনিক এই যুগে চিঠি উৎসবের আয়োজন করা হলো। সবাই পত্র পোস্ট করছে সহপাঠী, প্রেয়সী, পিতা-মাতা, শিক্ষক, বন্ধুবান্ধব এবং আরও কতজনের উদ্দেশে। নামে-বেনামে। কিন্তু আমি কাকে লিখব?
আব্বার বয়স বাড়ছে। মায়ের ভ্যারিকোস ভেইন, প্রেশার, ডায়াবেটিস। ভাই থাকেন হাজার মাইল দূরের কোনো এক অচেনা নগরীতে। আমার জন্মশহরটার হালতও খুব একটা সুবিধের নয়। প্রায় দিনই দুয়েকটা করে লাশ পড়ে। প্রমত্তা নদী পার হতে গিয়ে পিশাচ মাঝি-মাল্লাদের কাছে সম্ভ্রম হারায় যুবতী। অবশ্য দক্ষিণের সেই শিল্পনগরীটায় আমি এখন ফুরসত পেলে যাই কয়েকদিনের অতিথি হয়ে। সাড়ে তিনশো মাইল দূরের এক ছিমছাম তল্লাটেই আমার এখন বসবাস নিছক জীবিকার তাগিদে। এখানে এখন একটু সব নির্লিপ্ত।…
তোমার সঙ্গে কখনো-সখনো আমার দেখা হয়। কিন্তু, ফ্রিকোয়েন্সির সেই সীমাবদ্ধ সংখ্যা আমার মন ভরাতে পারে না কখনোই! তোমার চোখের কোণের সূক্ষ্ম তিলবিন্দু কিংবা চুড়োবদ্ধ চুলের সৌরভ আমার চেনা। চৈত্রের ধূলিঝড়ে বুকের অন্দরে তোমার কণ্ঠস্বর প্যালপিটেশনের মতো কেন ফিরে ফিরে আসে, তা আমি জানি না। সফেদ আর সাবলীল কিছু স্বপ্ন দেখার লোভ আমার সংবরণ করতে ইচ্ছে হয় না।
কেন জানি এসব লিখতে ভয় হয় আমার ভীষণ। একুশ বছর ধরে আর কত ভয় নিয়ে চলা যায়, তুমিই বলো? কোনো উত্তর কি তোমার জানা আছে? একটা আনপোস্টেড মেইলেই না হয় তুমি কিছু লিখো স্মৃতিভ্রমের মৌসুম এই বদ্বীপে হানা দেওয়ার আগে!
