পৃথিবীর ভারসাম্য বজায় রাখতে পরিবেশের যত্ন নেওয়া আমাদের সবার দায়িত্ব। বর্তমান সময়ে জলবায়ু পরিবর্তন ও দূষণ নিয়ে যখন বিশ্বজুড়ে এত আলোচনা, তখন পরিবেশ সুরক্ষায় ইসলামের শাশ্বত নির্দেশনাগুলো নতুন করে ভাবার সুযোগ তৈরি করে। কোরআন ও হাদিসে প্রকৃতি, পানি এবং গাছপালা রক্ষায় অত্যন্ত সুস্পষ্ট ও তথ্যনির্ভর নির্দেশনা দেওয়া আছে।
ইসলামে গাছ লাগানোকে কেবল ভালো কাজ নয়, বরং সদকায়ে জারিয়া বা প্রবহমান পুণ্য হিসেবে স্বীকৃতি দেওয়া হয়েছে। মহানবী (সা.) বলেছেন, কোনো মুসলমান যদি একটি গাছ লাগায় বা ফসল ফলায় আর তা থেকে কোনো মানুষ, পাখি বা প্রাণী কিছু খায়, তবে সেটি তার জন্য সদকা হিসেবে গণ্য হবে। এমনকি কিয়ামতের প্রাক্কালে কারও হাতে একটি চারাগাছ থাকলে সেটিও রোপণ করার তাগিদ দেওয়া হয়েছে। এতে বোঝা যায় সবুজায়ন ও বনায়নের প্রতি ইসলাম কতটা গুরুত্ব দেয়।
জীবনের অন্যতম প্রধান উপাদান হলো পানি। পানির অপচয় রোধে ইসলামের অবস্থান খুবই কঠোর। ইবাদতের প্রস্তুতি হিসেবে ওজু করার সময়ও পরিমিত পানি ব্যবহারের নির্দেশ রয়েছে। প্রবহমান নদীর তীরে বসে ওজু করলেও অতিরিক্ত পানি খরচ করতে নিষেধ করেছেন মহানবী (সা.)। এটি আমাদের শেখায় প্রাকৃতিক সম্পদের যথেচ্ছ ব্যবহার থেকে বিরত থাকতে হবে।
রাস্তাঘাট ও চারপাশের পরিচ্ছন্নতা নিয়েও চমৎকার নির্দেশনা রয়েছে। ইসলামে পরিষ্কার পরিচ্ছন্নতাকে ঈমানের অঙ্গ বলা হয়েছে। রাস্তা থেকে কষ্টদায়ক বস্তু বা ময়লা আবর্জনা সরিয়ে ফেলাকে ঈমানের অন্যতম শাখা হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। যত্রতত্র ময়লা ফেলা বা পরিবেশ দূষিত হয় এমন কাজ থেকে বিরত থাকা একজন প্রকৃত মুমিনের বৈশিষ্ট্য।
পশুপাখি ও জীববৈচিত্র্য রক্ষায়ও ইসলামের নির্দেশনা বেশ স্পষ্ট। অকারণে বা নিছক আনন্দের জন্য পশুপাখি শিকার করা কঠোরভাবে নিষিদ্ধ। প্রতিটি প্রাণীর প্রতি সদয় আচরণ করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
প্রকৃতি আল্লাহ তায়ালার এক বিশাল নিয়ামত। নিজস্ব স্বার্থে এই সুন্দর পৃথিবীর ভারসাম্য নষ্ট করার অধিকার কারও নেই। ইসলামের এই বাস্তবমুখী নির্দেশনাগুলো ব্যক্তিজীবনে চর্চা করলে আমাদের চারপাশের পরিবেশ আরও সুন্দর ও বাসযোগ্য হয়ে উঠবে।
