সবার সাথে দেখতে দেখতে কীভাবে যে দুটি বছর কেটে গেল, টেরই পেলাম না! এর মধ্যে সবার সঙ্গেই একটি ভালো সম্পর্ক তৈরি হয়েছিল। বিশেষ করে দুজনের সাথে তো আমার সম্পূর্ণ ভিন্ন এক জগৎ। একজনকে আপন ছোট বোনের মতো, অন্যজনকে বান্ধবী বলে ডাকি। আমি যেখানেই বা যেভাবেই থাকি না কেন, তারা আমার কাছে আজীবন আপন হয়েই থাকবে।
তবুও মনের মাঝে কেন যেন আজ কিঞ্চিৎ কষ্ট অনুভব করছি, এক অদ্ভুত খারাপ লাগা কাজ করছে। ভাবি, আচ্ছা! আমি যতটা আপন ভাবি সবাইকে, সবাই কি আমাকে ততটা আপন করে নিতে পেরেছে? নাকি তারা আমাকে আপন ভাবার শুধুই অভিনয় করেছে! তাই হয়তো অনেকের অনেক কিছু দেখেও চুপচাপ নীরবে কষ্ট সহ্য করেছি। আমার কোনো বিষয়ে মন থেকে বললেও তেমন সাড়া পেতাম না, কিন্তু দেখতাম ঠিকই তারা লোক দেখানো পারফর্ম করে যাচ্ছে। তখন বুঝলাম, আসলে আমি হয়তো গুছিয়ে কথা বলতে জানি না। কাউকে সঠিক তথ্যটা বোঝালেও সে ইচ্ছাকৃতভাবে ভুল বুঝে যায়। আবার অনেকেই আমি যা-ই করি না কেন, তা ভুল প্রমাণ করতে উঠেপড়ে লাগে—সবার সামনে আমাকে নিচু দেখানোর জন্য!
আমি এটাও খেয়াল করেছি, অন্যদের তারা যতটা অনুপ্রাণিত করে, আমার বেলায় ততটাই উদাসীন। আমি চুপচাপ থাকি বলেই হয়তো সব দোষ আর অভিযোগের তীর সবসময় আমার দিকেই ছোড়া হয়। কেউ কেউ দুচোখে আমাকে সহ্য করতে পারে না। কিন্তু তারাই আমার অনুপ্রেরণা, যা আমি সব সময় বলে থাকি। তারা আমায় কেন সহ্য করতে পারে না, তা আমার অজানা। অনেকেই মনে অহংকার আর ইগো নিয়ে বসে থাকে। আমি বিশ্বাস করি, সব মানুষ সবাইকে দেখতে পারে না। আমি যাদের আমার মেন্টর ভাবি, তারাও আমার সাথে ভালোভাবে কথা বলতে যেন দ্বিধাবোধ করেন। হয়তো আমি গুছিয়ে কথা বলতে পারি না বলে, অসাধারণ কণ্ঠে নিজেকে উপস্থাপন করতে পারি না বলে, কিংবা নিজের আবেগ প্রকাশের ভাষাটা জানি না বলে!
কাউকে কাউকে আমাকে নিয়ে অযথা ঈর্ষান্বিত হতেও দেখেছি। যেখানে আমি নিজেকে নিতান্তই সাধারণ আর তুচ্ছ মনে করি, সেখানে আমাকে জড়িয়ে কত কথাই না বলে যায় সবাই!
আজ এই বিদায়বেলায় তাদের সবার কাছে আমার একটাই অনুরোধ—আমাকে ভালোবাসতে না পারেন, আপন ভাবতে না পারেন, ভাই বা বোনের মতো ভাবতে না পারেন; অন্তত ঘৃণা করবেন না, খারাপ ভাববেন না।
আমি সহজ-সরল মানুষ। এত জটিল বা প্যাঁচানো কথা আমার মনে আসে না, থাকেও না। আমি সহজ-সরল, তবে বোকা নই। যে যা-ই বলবে আর যা-ই বোঝাবে, সেটাই অন্ধের মতো বুঝব—এমন মানুষ আমি নই। ভুলকে ভুল আর সঠিককে সঠিক বলে চিনতে জানি খুব ভালো করেই। কোন মানুষ আসলে কেমন, তাও বুঝতে পারি।
এখন আর কারও প্রতি আমার কোনো অভিমান বা অভিযোগ নেই। দিনশেষে একটাই আক্ষেপ—আমাকে কেউ অন্যদের মতো আপন করে নিতে পারল না। তবুও বলব, সবার সাথে কাটানো সময়টা দারুণ ছিল, সুন্দর ছিল। সময়টা আজীবন বাঁধা থাকবে স্মৃতির পাতায়। আপনাদের সবার জন্য সবসময় ভালোবাসা রইল।
কী ভাবছেন! এত কথা বলছি, কিন্তু মানুষটা কে, তা তো জানেনই না!
আমি ইনায়া। আমি এই কলেজের অনার্স ফাইনাল ইয়ারের একজন শিক্ষার্থী। এতক্ষণ আমি বলছিলাম আমার হৃদয়ে জমে থাকা শত না-বলা কথা। আমার বকবকানি শোনার জন্য আপনাদের অসংখ্য ধন্যবাদ। আমার জন্য সবাই দোয়া করবেন।
(এটুকু বলেই হাসিমুখে স্টেজ থেকে নেমে পড়ল ইনায়া)
লেখক: উম্মে সালমা, শিক্ষার্থী, চট্টগ্রাম কলেজ।
শুভ্র/
