আজ (৮ এপ্রিল) বহুমুখী প্রতিভার অধিকারী এবং সুরের সুফি খ্যাত হাবিব মোস্তফার জন্মদিন। ১৯৮৩ সালের এই দিনে কুমিল্লার এক সাধক পরিবারে জন্মগ্রহণ করেন তিনি। সংগীত, লেখালেখি এবং কর্পোরেট পেশা সবখানেই নিজের দক্ষতার প্রমাণ রেখে চলেছেন এই গুণী ব্যক্তিত্ব।
সংগীতাঙ্গনে তার পথচলা শুরু হয় ২০০২ সালে। পপ ঘরানার শিল্পী শামীমের গাওয়া ‘কষ্ট হয়নি তেমন’ অ্যালবামের সব কটি গান লেখার মাধ্যমে গীতিকার হিসেবে আত্মপ্রকাশ করেন তিনি। এরপর আর পেছনে ফিরে তাকাতে হয়নি। দেশের নবীন ও প্রবীণ বহু শিল্পীর জন্য নিয়মিত গান লিখে যাচ্ছেন। গানের কথার পাশাপাশি সুর করা এবং নিজের কণ্ঠে গান গাওয়ায়ও তিনি বেশ পারদর্শী। বিভিন্ন মাধ্যমে এখন পর্যন্ত তার কথা, সুর ও কণ্ঠে প্রকাশিত গানের সংখ্যা প্রায় দুই শতাধিক।
হাবিব মোস্তফার পড়াশোনা এবং অনুরাগের মূল জায়গা হলো ধর্ম ও দর্শন। তিনি ইসলাম শিক্ষা এবং দর্শন শাস্ত্রে স্নাতকোত্তর ডিগ্রি অর্জন করেছেন। এই শিক্ষার প্রভাব তার ব্যক্তিজীবন ও কর্মেও স্পষ্ট। সামাজিক অসঙ্গতি, মূল্যবোধের অবক্ষয় এবং সংগীত নিয়ে বিভিন্ন জাতীয় দৈনিক, সাপ্তাহিক, পাক্ষিক পত্রিকা ও অনলাইন পোর্টালে নিয়মিত কলাম লিখছেন তিনি। পাশাপাশি নিচ্ছেন স্বনামধন্য সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্বদের সাক্ষাৎকার।
তার গান রচনা, গবেষণা এবং মৌলিক লেখার প্রধান বিষয়বস্তু হচ্ছে মরমীবাদ। মহাপুরুষদের জীবন ও কর্মদর্শন নিয়ে লেখা তার প্রথম বই ‘নন্দিতজনের নিন্দিত মৃত্যু’ পাঠক মহলে দারুণ সাড়া ফেলে। এরপর তিনি প্রকাশ করেন সর্বজন সমাদৃত গবেষণা গ্রন্থ ‘প্রেমের কবি নজরুল’। প্রকাশের অপেক্ষায় থাকা বইগুলো হলো কাব্যগ্রন্থ ‘কারো কথা রাখিনি’, ছোটগল্পের সংকলন ‘আয়নানামা’ এবং নিজের লেখা মৌলিক প্রবচনতুল্য কথামালা ‘সুফির প্রলাপ’।

হাবিব মোস্তফার সুরে দেশের জনপ্রিয় শিল্পীদের গাওয়া বেশ কিছু গান শ্রোতাদের কাছে ব্যাপক সমাদৃত হয়েছে। এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো রথীন্দ্রনাথ রায়ের কণ্ঠে আগুনের জুতো, ফকির আলমগীরের মানুষ, সায়েরা রেজার দিওয়ানা মাস্তানা, শফি মন্ডলের রূপনগর, পুলকের বিধি, ঐশীর যৈবন গেলো এবং আমিরুল মোমেনীন মানিকের মুখোশ মানুষ। এছাড়া রিংকুর জিকির, আশিকের ভ্রমর আমার খবর লইয়া যাও, গামছা পলাশের রিপুর ফান্দে, কামরুজ্জামান রাব্বির দাগা, রাজু মন্ডলের বন্দেগি, আবিদ আজমের খুশির চাঁদ এবং পরানের পথশিশু গানগুলো বেশ জনপ্রিয়তা পেয়েছে। সাম্প্রতিক সময়ে আল আমিন সাদের মরমি গান কাঠের বাক্স এবং আনাসের জাগরণী গান জিহাদ, বাঁচাও ফিলিস্তিন শ্রোতাদের মন জয় করেছে।
শিল্প ও সাহিত্যের পাশাপাশি পেশাগত জীবনেও তিনি অত্যন্ত সফল। মানবসম্পদ ও জনসংযোগ খাতে টানা ২০ বছর ধরে কাজ করছেন। বর্তমানে তিনি একটি স্বনামধন্য ঔষধশিল্প প্রতিষ্ঠানে মানবসম্পদ বিভাগের ব্যবস্থাপক হিসেবে কর্মরত আছেন।
সৃজনশীল কাজের স্বীকৃতি স্বরূপ জিয়া সম্মাননা পদক-২০২৫, শাহীনা রব স্মৃতি পদক সহ লাভ করেছেন অসংখ্য পুরস্কার ও সম্মাননা।
শুভ্র/
