আমাদের রান্নায় কাঁচা মরিচ তো লাগবেই। আর গরম ভাতে কাঁচা মরিচ কামড়ে খাওয়ার তৃপ্তিই আলাদা! কিন্তু সমস্যা হলো বাজার থেকে একটু বেশি করে মরিচ কিনে আনলেই বিপত্তি। বাইরে খোলা রাখলে ৩-৪ দিনেই শুকিয়ে যায়। আবার ফ্রিজে রাখলেও দেখা যায় কিছুদিন পর পচে নরম হয়ে গেছে।
তাহলে উপায়? শখের কাঁচা মরিচ দীর্ঘদিন ভালো রাখবেন কীভাবে? চিন্তার কিছু নেই, খুব সহজ কয়েকটি উপায়েই আপনার কেনা কাঁচা মরিচ সতেজ রাখা সম্ভব। চলুন জেনে নিই সেই উপায়গুলো।
১. সবার আগে বোঁটা ফেলে দিন
কাঁচা মরিচ পচে যাওয়ার সবচেয়ে বড় কারণ হলো এর বোঁটা। ফ্রিজে রাখার আগে সময় করে সব মরিচের বোঁটা ছাড়িয়ে নিন। কারণ, বোঁটা থাকলে মরিচ খুব দ্রুত আর্দ্রতা টেনে নেয় আর পচতে শুরু করে।
২. ধোয়ার পর একদম শুকিয়ে নিন
বাজার থেকে আনার পর পরিষ্কার পানিতে মরিচ ধুয়ে নেওয়া ভালো। তবে ধোয়ার পর তা পুরোপুরি শুকিয়ে নিতে হবে। কোনো অবস্থাতেই ভেজা থাকা অবস্থায় ফ্রিজে রাখা যাবে না। একটি শুকনো পরিষ্কার সুতির কাপড় দিয়ে মরিচগুলো ভালোভাবে মুছে নিন, যেন গায়ে একটুও পানি লেগে না থাকে।
৩. টিস্যু পেপার ও এয়ারটাইট পাত্রের ম্যাজিক
একটি পরিষ্কার বায়ুনিরোধক বা এয়ারটাইট পাত্র নিন (কাঁচের জার হলেও ভালো)। পাত্রের নিচে একটি টিস্যু পেপার বা কিচেন টাওয়েল বিছিয়ে দিন। এর ওপর ধুয়ে শুকিয়ে রাখা বোঁটাহীন মরিচগুলো রাখুন। এবার মরিচের ওপর আরও একটি টিস্যু পেপার দিয়ে পাত্রের ঢাকনা ভালো করে আটকে দিন। টিস্যু পেপার ভেতরের বাড়তি আর্দ্রতা শুষে নেবে। ফলে মরিচ দীর্ঘদিন একদম টাটকা থাকবে।
৪. জিপলক ব্যাগের ব্যবহার
হাতের কাছে এয়ারটাইট পাত্র না থাকলে জিপলক ব্যাগও অনায়াসে ব্যবহার করতে পারেন। ব্যাগের ভেতরেও একইভাবে টিস্যু পেপার দিয়ে মরিচ রাখুন। তবে পাত্র বা জিপলক ব্যাগ যাই ব্যবহার করুন না কেন, ভেতরের টিস্যু পেপারটি ভিজে গেছে কি না সেদিকে খেয়াল রাখবেন। ভিজে গেলে পুরোনো টিস্যু বদলে নতুন একটি টিস্যু পেপার দিয়ে দেবেন।
৫. ডিপ ফ্রিজে দীর্ঘমেয়াদি সংরক্ষণ
আপনি চাইলে কাঁচা মরিচ আরও বেশি দিনের জন্য সংরক্ষণ করতে পারেন। এক মাস পর্যন্ত ভালো রাখতে চাইলে মরিচের পেস্ট তৈরি করে আইস কিউব ট্রে-তে জমিয়ে রাখুন। রান্নার সময় কিউব বের করে সহজেই ব্যবহার করা যাবে। আর যদি ৬ মাস পর্যন্ত সংরক্ষণ করতে চান, তবে গোটা মরিচ জিপলক ব্যাগে ভরে সরাসরি ডিপ ফ্রিজে রেখে দিন।
ছোট্ট এই নিয়মগুলো মেনে চললে রোজ রোজ বাজারে দৌড়ানোর ঝামেলা কমবে, আর কাঁচা মরিচ নষ্ট হওয়ার ভয়ও থাকবে না। আজ থেকেই চেষ্টা করে দেখতে পারেন!
