ভলান্টিয়ার বা স্বেচ্ছাসেবক শুধু একটি নাম নয়, এটি নিঃস্বার্থ আত্মত্যাগের প্রতীক ও মানবিক চেতনার জীবন্ত রূপ। দলীয় শক্তি, সম্মিলিত প্রচেষ্টা ও পারস্পরিক সহযোগিতার মাধ্যমেই ভলান্টিয়ারিজম তার প্রকৃত পরিচয় পায়। দেশ ও বিশ্বের নানা দুর্যোগ বা সংকটে স্বেচ্ছাসেবকরাই সবার আগে নিঃস্বার্থভাবে ছুটে যান। কিন্তু সাম্প্রতিক সময়ে এই মহৎ চেতনাকে বিকৃত করে প্রচার ও ক্ষমতার খেলায় ব্যবহারের প্রবণতা বাড়ছে। এমন নেতিবাচক প্রবণতা ভলান্টিয়ারিজমের আদর্শকে কলুষিত করার চেষ্টা চালাচ্ছে, যা নিঃসন্দেহে উদ্বেগের বিষয়। এই প্রেক্ষাপটে চট্টগ্রামের তরুণ ভলান্টিয়ার নেতৃবৃন্দ তাঁদের অভিজ্ঞতা, চিন্তা, উদ্বেগ ও প্রস্তাবনা নিয়ে অকপট মতামত ব্যক্ত করেছেন। তরুণদের এসব ভাবনা একত্রিত করে সাজিয়েছেন ইয়ুথ চেইঞ্জ মেকার ও জলবায়ু কর্মী মুহিবুল হাসান রাফি।
ভলান্টিয়ারিজমের মূলমন্ত্র
আবদুল কাইয়ুম, সহ-সাধারণ সম্পাদক, লাল সবুজ সোসাইটি (চট্টগ্রাম)
ভলান্টিয়ারিজমের মূলমন্ত্র হলো মানবতার সেবায় নিজেকে উৎসর্গ করা। ব্যক্তিগত স্বার্থে নয়, বরং সমাজ ও দেশের জন্য নিঃস্বার্থভাবে কাজ করা। একজন তরুণ তখনই সত্যিকারের পরিবর্তনকারী হয়ে ওঠেন, যখন তিনি নিজের সময়, পরিশ্রম ও জ্ঞান মানুষের কল্যাণে বিনিয়োগ করেন। স্বেচ্ছাসেবার শক্তি শুধু সাহায্য নয়, এটি মানুষকে সচেতন, আত্মনির্ভরশীল ও দায়িত্বশীল নাগরিক হিসেবে গড়ে তোলে। জলবায়ু সচেতনতা বৃদ্ধি, দারিদ্র্য হ্রাস কিংবা শিশুদের অধিকার রক্ষা সবই দলগত উদ্যোগের ফল। প্রতিটি ছোট উদ্যোগই বড় পরিবর্তনের ভিত্তি তৈরি করে। আমি বিশ্বাস করি, ভলান্টিয়ারিজমের মূলমন্ত্র হলো ‘নিজে বদলাও, সমাজকে বদলাও’। এই চেতনা নিয়ে প্রতিটি স্বেচ্ছাসেবী এগিয়ে গেলে একটি টেকসই ও সুন্দর বাংলাদেশ গড়ে তোলা সম্ভব।
ভলান্টিয়ার আসলে কে বা কী
দীপা রুদ্র, সাধারণ সম্পাদক, টেট্রা সি
ভলান্টিয়ার বা স্বেচ্ছাসেবক হলেন সেই ব্যক্তি, যিনি কোনো পারিশ্রমিক বা ব্যক্তিগত লাভের আশা না রেখে সমাজ, এলাকা বা রাষ্ট্রের কল্যাণে কাজ করেন। দেশ ও দশের জন্য পরিবর্তন আনতে চাইলে প্রথমে নিজের ভেতর থেকেই পরিবর্তন শুরু করতে হয়। ভলান্টিয়াররা নিজের সময়, শ্রম ও আন্তরিকতা দিয়ে চারপাশের মানুষকে অনুপ্রাণিত করেন। যেখানে একজন সাধারণ মানুষের কাজ শেষ হয়, সেখান থেকেই একজন ভলান্টিয়ারের কাজ শুরু হয়। দুর্যোগের সময় যখন সবাই দিশেহারা, তখন তাঁরাই সবার আগে ঝাঁপিয়ে পড়েন। খাবার, ওষুধ ও আশ্রয়ের ব্যবস্থা করে মানুষের পাশে দাঁড়ান। তাঁরা শুধু কাজ করেন না, তাঁরা পরিবর্তনের দূত। তাঁদের ক্ষুদ্র উদ্যোগেই সমাজে বড় রূপান্তর ঘটে।
ভলান্টিয়ারিজমের গুরুত্ব
সিদরাতুল মুনতাহা, প্রেসিডেন্ট, ইয়ুথ পিপল অব বাংলাদেশ
ভলান্টিয়ারিজম শুধু সময় দেওয়ার বিষয় নয়। এটি সমাজ ও মানুষের কল্যাণে অবদান রাখার একটি দায়িত্বশীল ও সক্রিয় প্রক্রিয়া। স্বেচ্ছায় কাজ করা মানে সুন্দর ও সুশৃঙ্খলভাবে মনোযোগী থেকে কার্যক্রম সম্পাদন করা। শিশুদের শিক্ষায় সহায়তা, স্বাস্থ্য ও সচেতনতা কার্যক্রম, পরিবেশ রক্ষা ও জলবায়ু পরিবর্তন প্রতিটি কাজই আমাকে শিখিয়েছে নেতৃত্ব, দলবদ্ধ কাজের গুরুত্ব এবং মানবিক মূল্যবোধকে অক্ষুণ্ণ রাখার প্রয়োজনীয়তা। স্বেচ্ছাসেবক হিসেবে কাজ করা আমাকে অন্যের পাশে দাঁড়ানোর, সমাজের চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করার এবং মানুষের জীবনে বাস্তব পরিবর্তন আনার সুযোগ দিয়েছে।
ভলান্টিয়ারিং থেকে প্রাপ্ত শিক্ষা
এমদাদুল ইসলাম ইশফাত, প্রেসিডেন্ট, ইয়ুথ অ্যাডভাইজরি কাউন্সিল (চট্টগ্রাম)
স্বেচ্ছাসেবী কাজ আমাকে শিখিয়েছে মানুষের জন্য কিছু করা মানেই নিজের জীবনের অর্থ খুঁজে পাওয়া। সময়ের সঙ্গে বুঝেছি, ভলান্টিয়ারিং শুধু একটি কাজ নয়, এটি এক ধরনের মানবিক দায়িত্ব। ভোক্তার অধিকার আদায়ে সোচ্চার থেকে শিখেছি কীভাবে ন্যায্যতা প্রতিষ্ঠা করা যায়, আর পরিবেশ সচেতনতা কর্মসূচিতে অংশ নিয়ে বুঝেছি প্রকৃতি রক্ষা মানেই ভবিষ্যৎ প্রজন্মের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা। পথশিশু ও অসহায় মানুষের মুখে হাসি ফোটানোর মুহূর্তগুলো আমার জীবনের সবচেয়ে আনন্দের সময়। নিঃস্বার্থ সেবা ও সচেতন তরুণরাই আগামীর সুন্দর বাংলাদেশ গড়ে তুলবে।
ভলান্টিয়ারিজমের একাল-সেকাল
আ. ন. ম. তামজীদ, যুব প্রধান, বাংলাদেশ রেড ক্রিসেন্ট সোসাইটি (চট্টগ্রাম সিটি যুব রেড ক্রিসেন্ট)
স্বেচ্ছাসেবকতা কোনো নতুন ধারণা নয়। সেকালে স্বেচ্ছাসেবা ছিল নিঃস্বার্থ সম্পর্কনির্ভর; বিপদে পড়া প্রতিবেশীর পাশে দাঁড়ানো এবং মানবিকতার বন্ধনই ছিল মুখ্য। তখন কোনো প্রাতিষ্ঠানিক কাঠামো ছিল না, ছিল শুধু সহমর্মিতা। আর একালে ভলান্টিয়ারিজম হয়েছে অনেক বেশি সংগঠিত, বৈচিত্র্যময় ও প্রযুক্তিনির্ভর। সংগঠনগুলো এখন দক্ষ স্বেচ্ছাসেবক গড়ে তুলতে প্রশিক্ষণ ও স্কিল ডেভেলপমেন্টের সুযোগ দিচ্ছে। একালের উন্নত দক্ষতা ও কাঠামো যদি সেকালের পবিত্র মানবিকতার সঙ্গে যুক্ত থাকে, তাহলে স্বেচ্ছাসেবকতা হয়ে উঠবে মানবিক মানুষ তৈরির শক্তিশালী মাধ্যম।
ভলান্টিয়ারিজম নেতৃত্বে পরিবর্তন
সাইহাম মাহমুদ, স্বপ্নছুঁই, সবুজ বাঁচাও
বিংশ শতাব্দীর শেষের দিকের নেতৃত্ব ছিল অনেকটা গুরুকেন্দ্রিক ও দীর্ঘমেয়াদি। বর্তমানে তরুণদের ভূমিকা বাড়ায় নেতৃত্ব হয়েছে অংশগ্রহণমূলক, ক্ষণস্থায়ী ও দ্রুত ফলাফলভিত্তিক। তবে সমস্যা দেখা দেয় যখন পূর্বপ্রস্তুতি ছাড়াই নেতৃত্ব দেওয়া হয়। বর্তমানে অনেক তরুণ শুধু সার্টিফিকেট বা সিভি ভারী করার আশায় ভলান্টিয়ার হচ্ছেন। এতে স্থায়ী স্বেচ্ছাসেবক হিসেবে পরিচিতি মেলে না। একজন নেতাকে হতে হয় দক্ষ, যোগ্য, অভিজ্ঞ ও দূরদর্শী। লক্ষ্য-উদ্দেশ্য স্পষ্ট বুঝতে হবে এবং কাজের মাধ্যমে বাস্তব অভিজ্ঞতা অর্জন করতে হবে।
বর্তমান সময়ের ভলান্টিয়ারিজম
রাফসানুল আরমান অপূর্ব, কোর মেম্বার, বি ফর বাংলাদেশ
ভলান্টিয়ার শব্দটি একসময় নিঃস্বার্থভাবে সমাজের জন্য কাজ করার ধারণা প্রকাশ করত। সেটা ছিল প্রত্যাশাহীন ভালোবাসা ও মানবতার টানে কাজ করা। কিন্তু সময়ের সঙ্গে পরিবর্তন এসেছে। আজকাল অনেকেই টাকা, সার্টিফিকেট বা অন্য কোনো সুবিধার বিনিময়ে ভলান্টিয়ার হতে আগ্রহী। সোশ্যাল মিডিয়ায় সক্রিয় তরুণদের মধ্যে অনেক সময় মনে হয় কাজের চেয়ে ছবি তোলা এবং উপস্থিতি প্রকাশ করাই বেশি গুরুত্বপূর্ণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। যেদিন সবাই উপলব্ধি করবে ভালো কাজ মানেই ভালো অনুভূতি, সেদিনই সত্যিকারের ভলান্টিয়ারিজম তার হারানো গৌরব ফিরে পাবে।
ভলান্টিয়ারিজমের নামে ব্যবসা
রাসেল উদ্দিন, ডিভিশনাল প্রোগ্রাম অর্গানাইজার, ক্যাব
বর্তমানে অনেক ক্ষেত্রে ভলান্টিয়ারিজমের মহৎ ধারণা স্বার্থকেন্দ্রিক হয়ে পড়েছে। অনেকেই কোনো স্বেচ্ছাসেবী কার্যক্রমে যোগদানের আগে জানতে চান কী ধরনের সুযোগ-সুবিধা দেওয়া হবে বা ভবিষ্যতে চাকরি পাওয়া যাবে কি না। কিছু সংগঠন ‘ভলান্টিয়ার প্রোগ্রাম’ করার নামে তরুণদের কাছ থেকে টাকা নিয়ে প্রতিশ্রুতি রক্ষা না করে অর্থ হাতিয়ে নিচ্ছে। এতে সমাজে স্বেচ্ছাসেবার প্রতি আস্থা কমে যাচ্ছে এবং প্রকৃত সেবামূলক কাজের পরিবর্তে গড়ে উঠছে এক ধরনের বাণিজ্যিক সংস্কৃতি। দরকার স্বচ্ছতা, জবাবদিহি এবং সঠিক মনোভাব নিয়ে কাজ করা।
সেশন: শেখানো নাকি ব্যবসা?
হারিছা খানম সুখি, প্রেসিডেন্ট, কসমিক স্পোর্টস অ্যান্ড হেলথ ক্লাব
স্বেচ্ছাসেবামূলক কার্যক্রম কি নিছকই শেখার মাধ্যম, নাকি এর পেছনে লুকিয়ে আছে ব্যবসার এক ভিন্ন রূপ? একদিকে স্বেচ্ছাসেবাকে দেখা হয় নিঃস্বার্থ সেবার প্রতীক হিসেবে, যেখানে ব্যক্তি নতুন দক্ষতা অর্জন করেন। অন্যদিকে, কিছু প্রতিষ্ঠান স্বেচ্ছাসেবকদের মাধ্যমে কার্যক্রম পরিচালনা করে খরচ কমায় ও ব্র্যান্ড ভ্যালু বাড়ায়। কোনো কোনো সময় সেশনের নামে মোটা অঙ্কের ফি নেওয়া হয়, যা এর মূল উদ্দেশ্যকে প্রশ্নবিদ্ধ করে। গুরুত্বপূর্ণ হলো স্বচ্ছতা বজায় রাখা এবং স্বেচ্ছাসেবার নামে কোনো অপব্যবহার যাতে না হয় সেদিকে নজর দেওয়া।
ভলান্টিয়ারিজমে নোংরা রাজনীতি
লায়ন বায়েজিদ সুমন, প্রতিষ্ঠাতা ও চেয়ারম্যান, নগরফুল
দুঃখজনকভাবে অনেক সময় ভলান্টিয়ারিজমের জায়গায় নোংরা রাজনীতি ঢুকে পড়ে। রাজনৈতিক প্রভাব বিস্তার, দলীয় নিয়ন্ত্রণ, ব্যক্তিগত স্বার্থ অর্জন এবং প্রচারণার মাধ্যম হিসেবে স্বেচ্ছাসেবী সংগঠনগুলো ব্যবহারের প্রবণতা বাড়লে সৎ ও নিবেদিত স্বেচ্ছাসেবকদের হতাশা তৈরি হয়। প্রতিকারের জন্য প্রথমেই প্রয়োজন স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি নিশ্চিত করা। রাজনৈতিক প্রভাবমুক্ত নেতৃত্ব নির্বাচন এবং সদস্যদের জন্য আচরণবিধি প্রণয়ন জরুরি। সমাজের সাধারণ মানুষকে বোঝাতে হবে ভলান্টিয়ারিজম কোনো দলীয় প্ল্যাটফর্ম নয়, এটি মানবকল্যাণের জায়গা।
ভলান্টিয়ারিজমে হলুদ নেতৃত্ব
ফয়েজ উদ্দিন, প্রেসিডেন্ট, নোবড়ি টু সামবড়ি
তরুণ সমাজে নেতৃত্ব বিকাশের শক্তিশালী মাধ্যম হওয়া সত্ত্বেও ভলান্টিয়ারিজমে উঁকি দিচ্ছে ‘হলুদ নেতৃত্ব’ নামক এক ভয়ংকর সমস্যা। যারা নেতৃত্বের জন্য প্রস্তুত নয়, তবুও হঠাৎ করে সামাজিক কার্যক্রমে নেতৃত্ব নিতে চায়। প্রশিক্ষণ, পরিকল্পনা ও বাস্তব অভিজ্ঞতা ছাড়া উদ্যোগ নেওয়া বা প্রকল্প হাতে নেওয়া সমাজে বিভ্রান্তি ও ক্ষতি সৃষ্টি করে। তরুণরা যদি অপ্রস্তুত অবস্থায় নেতৃত্ব দেয়, তাহলে তা সমাজের ক্ষতি ঘটায়। নিজের দক্ষতা ও মানবিকতা তৈরি করার পাশাপাশি দলীয় কাজের অভিজ্ঞতা নিতে হবে, তারপর নেতৃত্ব দিতে হবে।
ভলান্টিয়ারিজমে যেসব সমস্যার সম্মুখীন হতে হয়
শেখ আব্দুল্লাহ্ ইয়াছিন, প্রেসিডেন্ট, এক টাকার বৃক্ষরোপণ
তরুণ ছাত্রাবস্থায় স্বেচ্ছাসেবকদের সাধারণত আয় থাকে না। তারা টিফিন বা টিউশনির টাকায় সমাজের ক্ষুদ্র পরিসরে কিছু করতে চান। দুর্ভাগ্যজনকভাবে, আমাদের সমাজে স্বেচ্ছাসেবকদের খুব একটা সম্মানের চোখে দেখা হয় না। অনেকে মনে করেন, এসব করে লাভ কী! ফলে ভালো কাজে কেউ প্রেষণা জোগায় না। পুঁজিবাদী সমাজে মানুষ অতিরিক্ত পেশাদার চিন্তা করে এবং এসব কাজকে প্রাধান্য দেয় না। কাজ করতে গিয়ে নতুন ও ভিন্ন পরিস্থিতির মুখোমুখি হয়ে মানসিক চাপও সামলাতে হয়। এতসব প্রতিকূলতা সত্ত্বেও স্বেচ্ছাসেবকরা তাদের কাজ করে যান।
তরুণ যোগ্য নেতৃত্বে সংকট
রাহাত হাসান, আহ্বায়ক, সেইভ আওয়ার উইমেন বাংলাদেশ (চট্টগ্রাম ডিভিশন)
তরুণ যোগ্য নেতৃত্বের সংকট আজ সমাজ ও রাষ্ট্র দুই ক্ষেত্রেই স্পষ্ট বাস্তবতা। শিক্ষা, রাজনীতি, ব্যবসা কিংবা সামাজিক সংগঠন সবখানেই তরুণদের অংশগ্রহণ বাড়লেও যোগ্য নেতৃত্ব গঠনের পথ এখনো জটিল। প্রধান বাধা হলো নিজেকে প্রমাণ করার যথাযথ সুযোগের অভাব। অনেক জায়গায় নেতৃত্ব তৈরির পরিবেশ, প্রশিক্ষণ বা পরামর্শদাতার সহায়তা নেই। ফলে যোগ্যতার বদলে অভিজ্ঞতার অজুহাতে পুরোনো প্রজন্মই নেতৃত্ব ধরে রাখে। এই সংকট দূর করতে দরকার তরুণদের দক্ষতা বাড়ানো এবং তাঁদের ওপর আস্থা রাখার পরিবেশ তৈরি করা।
কেমন হবে আগামীর যুব নেতৃত্ব
ইসমাইল হোসেন মেহেরাজ, ট্রেনিং অ্যান্ড ক্যাম্পেইন লিড, ইকো নেটওয়ার্ক গ্লোবাল
সাত বছরের বেশি সময় ধরে নেতৃত্বের যাত্রায় দেখেছি, সময়ের সঙ্গে পরিস্থিতি কতটা বদলেছে। এখন তরুণরা প্রযুক্তিনির্ভর, বাস্তবধর্মী ও সাসটেইনেবল সমাধানের দিকে বেশি ঝুঁকে পড়ছে। সমাজের বিভিন্ন সমস্যা সমাধানে নতুন পরিকল্পনা, উদ্ভাবনী উদ্যোগ এবং টেকসই সমাধান তরুণদের হাত ধরেই তৈরি হচ্ছে। কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা এখানে বিশেষ ভূমিকা রাখছে। আগামী তরুণ নেতৃত্ব সমাজে এমন পরিবর্তন আনবে, যেখানে যেকোনো সমস্যার জন্য কার্যকর ও টেকসই প্রযুক্তি সমাধান তরুণদের হাতে থাকবে। প্রযুক্তি ও উদ্ভাবনী মনোভাবই হবে এই যাত্রার সবচেয়ে বড় হাতিয়ার।
ডিএ/
