হাতে একটি স্মার্টফোন আর চোখের সামনে সুন্দর একটি দৃশ্য থাকলে মুহূর্তেই আমরা প্রত্যেকেই যেন হয়ে উঠি একেকজন ফটোগ্রাফার। আধুনিক প্রযুক্তির সহজলভ্যতার এই যুগে ছবি তুলতে ভালোবাসেন না এমন মানুষ হয়তো খুঁজেই পাওয়া যাবে না। জীবনের বিশেষ কোনো মুহূর্ত কিংবা হারিয়ে যাওয়া কোনো স্মৃতিকে ফ্রেমবন্দি করে রাখার যে জাদুকরী প্রক্রিয়া, তারই উদ্যাপনের দিন আজ। আজ ১৯ আগস্ট, বিশ্ব ফটোগ্রাফি বা আলোকচিত্র দিবস। যারা ক্যামেরার লেন্সের ভেতর দিয়ে পৃথিবীর অদেখা সৌন্দর্যকে আমাদের সামনে তুলে ধরেন, সেইসব নিরলস আলোকচিত্রী এবং এই শিল্পের সঙ্গে জড়িত সবার নৈপুণ্য ও দক্ষতাকে শ্রদ্ধা জানাতেই বিশ্বজুড়ে দিনটি অত্যন্ত উৎসবের সঙ্গে পালন করা হয়।
ফটোগ্রাফি কেবল ক্যামেরার ক্লিকে আটকে থাকা কোনো সাধারণ কাজ নয়, এটি হলো না বলা গল্পের এক জীবন্ত রূপ। একটি স্থিরচিত্র কোনো শব্দ ব্যবহার না করেই নিখুঁতভাবে তুলে ধরতে পারে সময়, আবেগ, সংস্কৃতি আর ইতিহাসের গভীরতম সত্যকে। ছবি তোলার এই বিস্ময়কর যাত্রার শুরুটা হয়েছিল আজ থেকে প্রায় পৌনে দুই শতক আগে। ১৮৩৯ সালে ফরাসি উদ্ভাবক লুইস ডাগুয়েরে এবং জোসেফ নিসফোর নিপ্পেস প্রথমবারের মতো একটি কার্যকর ফটোগ্রাফিক সিস্টেম আবিষ্কার করেন। ডাগুয়েরের নামানুসারে এই যুগান্তকারী আবিষ্কারের নামকরণ করা হয়েছিল ডাগুয়েরিওটাইপ। একই বছরের ১৯ আগস্ট ফরাসি সরকার এই আবিষ্কারের পেটেন্ট কিনে নেয় এবং গোটা বিশ্বের জন্য এটিকে একটি অমূল্য উপহার হিসেবে উন্মুক্ত করে দেয়। সেই ঐতিহাসিক দিনটিকে স্মরণ করেই প্রতি বছর ১৯ আগস্ট বিশ্ব ফটোগ্রাফি দিবস পালন করা হয়ে আসছে।
আলোকচিত্রের এই দীর্ঘ পথচলায় সময়ের সঙ্গে সঙ্গে যুক্ত হয়েছে নিত্যনতুন সব প্রযুক্তি। অবাক করা বিষয় হলো, বিশ্বের প্রথম টেকসই রঙিন ছবিটি তোলা হয়েছিল ১৮৬১ সালে। আর প্রথম ডিজিটাল ফটোগ্রাফটি তৈরি হয় ১৯৫৭ সালে, যা ছিল ডিজিটাল ক্যামেরা আবিষ্কৃত হওয়ারও প্রায় দুই দশক আগের ঘটনা। সময়ের পরিক্রমায় ফটোগ্রাফির শাখা এখন অনেক বিস্তৃত। বন্যপ্রাণী, ভ্রমণ, পথঘাট, ল্যান্ডস্কেপ থেকে শুরু করে নবজাতক, প্রতিকৃতি, বিয়ে, ফ্যাশন, স্থাপত্য কিংবা ফাইন আর্টসসহ সবকিছুতেই এখন ফটোগ্রাফির আলাদা এবং দৃষ্টিনন্দন সব ধরন তৈরি হয়েছে।
বর্তমান ডিজিটাল যুগে জীবনের সুন্দর ও আনন্দময় মুহূর্তগুলো ক্যামেরাবন্দি করে রাখা আমাদের এক নৈমিত্তিক অভ্যাসে পরিণত হয়েছে। চিত্রশিল্পীরা যেমন রংতুলিতে ক্যানভাস ভরিয়ে তোলেন, তেমনি আলোকচিত্রীরা তাঁদের ক্যামেরার লেন্সে পৃথিবীর রূপ ও লাবণ্যকে অমর করে রাখেন। একটি ভালো ছবি প্রজন্মের পর প্রজন্ম ধরে মানুষের স্মৃতিকে অমলিন করে রাখে। তাই আজকের এই বিশেষ দিনটি কেবল পেশাদার আলোকচিত্রীদের জন্যই নয়, বরং যারা ছবি তুলতে ও স্মৃতি জমিয়ে রাখতে ভালোবাসেন তাদের সবার জন্যই এক অনন্য অনুপ্রেরণার দিন।
