বাবা শুধু একটি শব্দ নয়, বরং একটি বিশাল বটবৃক্ষ। রোদ, ঝড় কিংবা বৃষ্টিতে এই বৃক্ষ সন্তানকে নীরবে আগলে রাখে। সন্তানের প্রথম পা ফেলা থেকে শুরু করে জীবনের প্রতিটি লড়াইয়ে বাবা সবচেয়ে বড় নির্ভরতার জায়গা। আজ বিশ্ব বাবা দিবস। পৃথিবীর সব বাবার প্রতি রইল গভীর শ্রদ্ধা, ভালোবাসা আর কৃতজ্ঞতা।
বাবা দিবসের ধারণাটি পশ্চিমা বিশ্বের হলেও বর্তমানে বাংলাদেশসহ প্রায় সব দেশেই এটি উদযাপন করা হয়। বাংলাদেশেও বিভিন্ন সামাজিক ও সাংস্কৃতিক সংগঠন বাবাদের সম্মান জানাতে বিশেষ অনুষ্ঠান ও সভার আয়োজন করে থাকে।
যেভাবে শুরু হলো বাবা দিবস
ইতিহাস খুঁজলে জানা যায়, সনোরা স্মার্ট ডড নামের এক নারী বাবা দিবসকে আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি দিতে সবচেয়ে বড় ভূমিকা পালন করেন। যুক্তরাষ্ট্রের ওয়াশিংটনে ১৯০৯ সালের আগে বাবা দিবস বলে বিশেষ কোনো দিন ছিল না। তখন স্থানীয় গির্জায় ডড মা দিবস পালনের কথা শোনেন। তিনি অবাক হয়ে ভাবলেন, মা দিবস পালনের রীতি থাকলে বাবা দিবস কেন নেই!

ডডের মায়ের মৃত্যুর পর তাদের সাত ভাইবোনকে অনেক কষ্টে বড় করেন তাদের বাবা। বাবার এই নিঃস্বার্থ ত্যাগ দেখে ডডের মনে হয়, বাবাকে সম্মান জানানোর জন্যও একটি বিশেষ দিন থাকা দরকার। এরপর দীর্ঘ এক বছর চেষ্টা চালিয়ে তিনি স্থানীয় কমিউনিটিগুলোতে বাবা দিবস পালন করতে সক্ষম হন। তার এই উদ্যোগের ফলেই ১৯১০ সালে বিশ্বে প্রথমবারের মতো বাবা দিবস পালিত হয়।
কয়লাখনির সেই মর্মান্তিক ঘটনা
বাবা দিবস নিয়ে সমসাময়িক আরও একটি মর্মান্তিক ঘটনা রয়েছে। ১৯০৭ সালের ডিসেম্বর মাসে ওয়েস্ট ভার্জিনিয়ার এক কয়লাখনিতে ভয়াবহ বিস্ফোরণে ৩৬২ জন পুরুষ প্রাণ হারান। নিহতদের বড় অংশই ছিলেন সন্তানের বাবা। এই দুর্ঘটনায় প্রায় এক হাজার শিশু পিতৃহারা হয়।
পরের বছর অর্থাৎ ১৯০৮ সালের ৫ জুলাই ওয়েস্ট ভার্জিনিয়ার একটি গির্জায় মৃত বাবাদের সম্মান জানাতে তাদের সন্তানরা মিলে এক স্মরণসভার আয়োজন করে। ইতিহাসে বাবাকে সম্মান জানানোর এটিই ছিল প্রথম কোনো আনুষ্ঠানিক আয়োজন।
