শিরোনাম:
Network News BD
শুক্রবার, ১৬ অক্টোবর ২০২৬
মেনু
প্রচ্ছদ

© 2026 Network News BD

আলোর উৎসব বনাম যানজটের স্থবিরতা: নির্বিঘ্ন আনন্দের খোঁজে নগরবাসী

নেটওয়ার্ক নিউজ বিডি

প্রকাশিত: ১৬ অক্টোবর ২০২৬, ২:১৩ PM ১৫ বার পঠিত
আলোর উৎসব বনাম যানজটের স্থবিরতা: নির্বিঘ্ন আনন্দের খোঁজে নগরবাসী

নেটওয়ার্ক নিউজ বিডি সম্পাদিত

হুমাইরা ইসলাম ঐশি:

হিন্দু সম্প্রদায়ের সবচেয়ে বড় ধর্মীয় উৎসবগুলোর একটি দুর্গাপূজা। এই পূজা কেবল হিন্দুদের ধর্মীয় আচার অনুষ্ঠানের মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকে না, এটি আনন্দ, মিলন, সংস্কৃতি ও সামাজিক সম্প্রীতির উৎসবে পরিণত হয়। দুর্গাপূজাকে কেন্দ্র করে দেশের বিভিন্ন প্রান্ত যেন এক নতুন রূপে সেজে ওঠে। শহরের প্রতিটি গলি, মূল সড়ক ও গ্রামগঞ্জের অলিগলিতে উৎসবের ছোঁয়া লাগে। দুর্গাপূজা উপলক্ষে দেশের সব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান এবং সরকারি ও বেসরকারি বিভিন্ন কার্যালয় দীর্ঘ সময়ের জন্য বন্ধ থাকে। এই দীর্ঘ ছুটির ফলে সাধারণ মানুষ নিজেদের দৈনন্দিন জীবনের কর্মব্যস্ততা ও একঘেয়েমি ভুলে ঘুরতে বের হন। কেউ প্রিয়জনদের সঙ্গে সময় কাটান, আবার কেউ কেউ গ্রামের বাড়িতে যান।

দুর্গাপূজা উপলক্ষে দেশের বিভিন্ন স্থানে হাজার হাজার অস্থায়ী পূজামণ্ডপ নির্মাণ করা হয়। এসব মণ্ডপ ঘিরে থাকে নানা রঙের সাজসজ্জা ও থিমভিত্তিক শিল্পকর্ম। মণ্ডপগুলোর পাশাপাশি রাস্তার অলিগলিতে আলোকসজ্জা করা হয়। পূজার দিনগুলোতে সূর্যাস্তের পর থেকেই শহরের চেহারা একেবারে বদলে যায়। লাল, নীল, সবুজ, হলুদসহ নানা রঙের বাতি পুরো এলাকাকে আলোকিত করে রাখে। প্রধান সড়কগুলোর ওপর নির্মিত হয় বিশাল অস্থায়ী মঞ্চ, মণ্ডপ ও বেদি। মণ্ডপগুলোর সামনে সন্ধ্যার পর থেকে দর্শনার্থীদের উপচে পড়া ভিড় লক্ষ করা যায়। মানুষ পরিবার, বন্ধুবান্ধব ও আত্মীয়স্বজনদের সঙ্গে দল বেঁধে এক মণ্ডপ থেকে অন্য মণ্ডপে ঘুরে বেড়ান।

দুর্গাপূজাকে কেন্দ্র করে দেশের নানা প্রান্তে ছোট ও বড় অসংখ্য মেলা বসে। শহরের খোলা মাঠ, নদীর পারসহ মণ্ডপের আশপাশের খালি জায়গায় এসব মেলার আয়োজন করা হয়। মেলাগুলোতে বসে শত শত অস্থায়ী দোকান। এসব দোকানে পাওয়া যায় নানা পদের খাবার, খেলনা, ঐতিহ্যবাহী পোশাক, মেয়েদের প্রসাধনসামগ্রী, কাচের চুড়ি, ঘর সাজানোর জিনিসপত্র এবং মাটির তৈরি নানা শোপিস। শিশুদের আকর্ষণের জন্য মেলায় থাকে নাগরদোলা, চরকি এবং অন্যান্য বিনোদনের ব্যবস্থা। খাবারের দোকানগুলো মেলার সবচেয়ে জনপ্রিয় অংশ। মিষ্টির দোকানগুলোতে সারি সারি সাজানো থাকে ঐতিহ্যবাহী রসগোল্লা, সন্দেশ, জিলাপি, চমচম ও নানা ধরনের সুস্বাদু মিষ্টি। পূজার আনুষ্ঠানিকতার জন্য ফুল অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ উপাদান হওয়ায় মণ্ডপ ও মেলার আশপাশে বসে টাটকা ফুলের দোকান। ভক্তরা অঞ্জলি দেওয়ার জন্য এবং গৃহসজ্জার জন্য এসব দোকান থেকে ফুল কেনেন। এসব অস্থায়ী দোকান মূলত স্থানীয় ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী এবং কারিগরেরা পূজার কয়েক দিন আগে ব্যবসা করার উদ্দেশ্যে গড়ে তোলেন। পূজা শেষ হয়ে প্রতিমা বিসর্জনের পর মণ্ডপের সঙ্গে সঙ্গে এসব অস্থায়ী দোকানও সরিয়ে নেওয়া হয়।

বাংলাদেশের মধ্যে দুর্গাপূজার সবচেয়ে জমকালো ও বড় আয়োজন দেখা যায় রাজধানী ঢাকায়। ঢাকেশ্বরী জাতীয় মন্দির, রামকৃষ্ণ মিশন, শাঁখারীবাজার, জগন্নাথ হলের মণ্ডপ, ধানমন্ডি, গুলশান ও পুরান ঢাকার বিভিন্ন মণ্ডপগুলোতে পূজা দেখতে মানুষের ঢল নামে। ঢাকার ঐতিহ্যবাহী মণ্ডপগুলোর স্থাপত্যশৈলী এবং প্রতিমার সূক্ষ্ম কাজ দেখতে দেশের বিভিন্ন জেলা থেকে হাজার হাজার মানুষ রাজধানীতে ছুটে আসেন। বিশেষ করে ঢাকার বাইরের হিন্দু সম্প্রদায়ের অনেকের জন্যই পূজার ছুটিতে ঢাকায় আসা এবং এখানকার পূজা দেখা এক বিশেষ স্বপ্নের মতো। পুরো শহর তখন এক মহোৎসবে মেতে ওঠে।

দুর্গাপূজা মানেই উৎসব, আলো, ঢাকের বাদ্য আর চারপাশের আনন্দঘন পরিবেশ। তবে এই চোখধাঁধানো আয়োজন ও আনন্দের আড়ালে একটি বড় ধরনের বাস্তব সমস্যা ঢাকা পড়ে যায়। সেটি হলো তীব্র যানজট ও সাধারণ মানুষের চরম নাগরিক ভোগান্তি। পূজার কয়েকটা দিন বিশেষ করে রাজধানীসহ দেশের বড় শহরগুলোর সড়ক যোগাযোগব্যবস্থা যেন একেবারে স্থবির হয়ে পড়ে। উৎসবের খুশিতে হাজার হাজার মানুষ যখন একযোগে রাজপথে নেমে আসেন, তখন প্রতিটি মোড় ও প্রধান সড়কে তৈরি হয় দীর্ঘ যানবাহনের সারি। পূজার দিনগুলোতে পরিবারের সদস্য, প্রিয়জন ও বন্ধুদের নিয়ে মণ্ডপে মণ্ডপে ঘুরে প্রতিমা দেখার একটি বিশেষ প্রবণতা দেখা যায়। এই মণ্ডপ পরিক্রমার কারণে ব্যক্তিগত গাড়ি, রিকশা, সিএনজি ও মোটরসাইকেলের সংখ্যা রাস্তায় বহুগুণ বেড়ে যায়।

একই সঙ্গে দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে দর্শনার্থীরা বাসে বা অন্যান্য পরিবহনে চেপে শহরে আসেন। এতে যানবাহনের অনিয়ন্ত্রিত চাপ তৈরি হয়। সাধারণ সময়ে যে রাস্তা অতিক্রম করতে মাত্র বিশ মিনিট সময় লাগে, পূজার দিনগুলোতে সেই একই দূরত্ব যেতে এক ঘণ্টারও বেশি সময় লেগে যায়। দীর্ঘ সময় ধরে গাড়িতে আটকে থেকে মানুষ শারীরিকভাবে ক্লান্ত ও মানসিকভাবে বিরক্ত হয়ে পড়েন। এই সময়ে সবচেয়ে বেশি বিপদে পড়েন জরুরি প্রয়োজনে বের হওয়া সাধারণ মানুষ। বিশেষ করে গর্ভবতী নারী, প্রবীণ ব্যক্তি এবং মুমূর্ষু রোগী বহনকারী অ্যাম্বুলেন্সগুলো ঘণ্টার পর ঘণ্টা যানজটে আটকা পড়ে, যা জীবনমৃত্যুর বড় ধরনের ঝুঁকি তৈরি করে। ফুটপাতগুলোতে দোকানপাট ও মানুষের উপচে পড়া ভিড় থাকায় পথচারীদের বাধ্য হয়ে মূল সড়ক দিয়ে হাঁটতে হয়, যা পথচারীদের জন্য ঝুঁকিপূর্ণ এবং গাড়ির গতি আরও কমিয়ে দেওয়ার কারণ হয়ে দাঁড়ায়।

সব মিলিয়ে দুর্গাপূজার বর্ণিল আয়োজনের আলোর ঝলকানি ও মণ্ডপের জমকালো রূপের পাশাপাশি যানজটজনিত এই দুর্ভোগ নগরবাসীর দৈনন্দিন জীবনকে বেশ কঠিন করে তোলে। উৎসবের আনন্দকে সবার জন্য নির্বিঘ্ন ও স্বাচ্ছন্দ্যময় করতে হলে যানজট নিরসনে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সুনির্দিষ্ট পরিকল্পনা, বিকল্প পথের সুব্যবস্থা এবং পার্কিং ও অস্থায়ী দোকান ব্যবস্থাপনায় আরও বেশি সচেতনতা ও নিয়মানুবর্তিতা অত্যন্ত জরুরি।

বিঃদ্রঃ প্রবন্ধ, নিবন্ধ, সাক্ষাৎকার ও প্রতিক্রিয়ায় প্রকাশিত মতামত লেখকের নিজস্ব দৃষ্টিভঙ্গি ও বিশ্লেষণের প্রতিফলন। এগুলো নেটওয়ার্ক নিউজ বিডি‘র সম্পাদকীয় নীতি বা অবস্থানের সঙ্গে সর্বদা মিল নাও থাকতে পারে। প্রকাশিত লেখায় উপস্থাপিত ব্যাখ্যা-বিশ্লেষণ, তথ্য-উপাত্ত এবং রাজনৈতিক, অর্থনৈতিক বা আইনগতসহ সংশ্লিষ্ট বিষয়সমূহের যথার্থতা ও মতামতের দায়িত্ব লেখকের নিজস্ব; নেটওয়ার্ক নিউজ বিডি কর্তৃপক্ষের অবস্থান নিরপেক্ষ।

মন্তব্য করুন

আজকের নামাজের সময়সূচি (ঢাকা)

সময় লোড হচ্ছে...

ADVERTISEMENT

ফেসবুকে আমরা

প্রতিদিনের খবর ইমেইলে

লিংক কপি হয়েছে!