শিরোনাম:
Network News BD
রবিবার, ১১ অক্টোবর ২০২৬
মেনু
প্রচ্ছদ

© 2026 Network News BD

ডিজিটাল যুগেও কন্যাশিশুর পথে বৈষম্যের কাঁটা

নেটওয়ার্ক নিউজ বিডি

প্রকাশিত: ১১ অক্টোবর ২০২৬, ১১:৪৪ AM ১৮ বার পঠিত
ডিজিটাল যুগেও কন্যাশিশুর পথে বৈষম্যের কাঁটা

নেটওয়ার্ক নিউজ বিডি সম্পাদিত

শেখ সুলতানা মীম:

সময় পাল্টেছে, দেশ পাল্টেছে, সমাজ পাল্টেছে। কিন্তু কন্যাশিশুর প্রতি আমাদের দৃষ্টিভঙ্গির কি সত্যিই পরিবর্তন ঘটেছে? একসময় কন্যাশিশুর জন্মকে অনেক পরিবারে আনন্দের পরিবর্তে হতাশার কারণ হিসেবে দেখা হতো। আধুনিক যুগে এসেও সমাজের কিছু মানুষের মধ্যে সেই পুরোনো মানসিকতার প্রতিফলন দেখা যায়। আদিযুগ পেরিয়ে মানুষ আজ প্রযুক্তিনির্ভর আধুনিক সভ্যতায় বসবাস করছে। সময়ের সঙ্গে চিন্তাধারা, প্রযুক্তি, আচার ব্যবহার ও জীবনযাত্রায় ব্যাপক পরিবর্তন এসেছে। মানুষ শিক্ষিত হচ্ছে, সমাজ এগিয়ে যাচ্ছে। কিন্তু এত পরিবর্তনের মধ্যেও কন্যাশিশুর প্রতি বৈষম্যমূলক দৃষ্টিভঙ্গির শিকড় পুরোপুরি উপড়ে ফেলা সম্ভব হয়নি।

বর্তমানে বাংলাদেশের বিভিন্ন অঞ্চলে কন্যাশিশুরা বৈষম্য, অবহেলা ও অধিকারবঞ্চনার শিকার হচ্ছে। কোথাও তাদের শিক্ষার সুযোগ সীমিত করা হচ্ছে, কোথাও আবার অল্প বয়স থেকেই পরিবারের দায়িত্ব পালনের চাপ দেওয়া হচ্ছে। অনেক পরিবারে ছেলেশিশুর শিক্ষাকে অগ্রাধিকার দেওয়া হলেও মেয়েশিশুর পড়াশোনাকে ততটা গুরুত্ব দেওয়া হয় না। বিশেষ করে কিছু প্রত্যন্ত অঞ্চলে সামাজিক কুসংস্কার, দারিদ্র্য ও প্রচলিত রক্ষণশীল মানসিকতার কারণে মেয়েদের শিক্ষার পথ বাধাগ্রস্ত হচ্ছে। তাদের অনেককেই কেবল ঘরের কাজ, রান্নাবান্না ও পরিবারের দায়িত্ব পালনে অভ্যস্ত করে তোলা হয়। অথচ তাদের স্বপ্ন, মেধা ও সম্ভাবনার বিকাশের জন্য প্রয়োজনীয় সুযোগ নিশ্চিত করা হয় না।

সমাজের কিছু মানুষের ধারণা, মেয়েদের উচ্চশিক্ষিত করলে তারা প্রচলিত পুরুষতান্ত্রিক ব্যবস্থাকে প্রশ্ন করবে কিংবা পুরুষের সমকক্ষ হতে চাইবে। অথচ শিক্ষা কাউকে কারও প্রতিপক্ষ করে তোলে না, বরং মানুষকে সচেতন, আত্মনির্ভরশীল ও দায়িত্বশীল হতে সাহায্য করে। একটি কন্যাশিশুকে শিক্ষার সুযোগ থেকে বঞ্চিত করা মানে শুধু তার ব্যক্তিগত সম্ভাবনাকে সীমিত করা নয়, বরং সমাজের সামগ্রিক অগ্রগতির পথেও বাধা সৃষ্টি করা।

একটি দেশ বা সমাজ কখনো একতরফা উন্নয়নের মাধ্যমে প্রকৃত সমৃদ্ধি অর্জন করতে পারে না। নারী ও পুরুষ নির্বিশেষে সবার জন্য সমান সুযোগ, অধিকার ও মর্যাদা নিশ্চিত করা প্রয়োজন। শুধু ছেলেদের শিক্ষায় অগ্রগতি এনে মেয়েদের পিছিয়ে রাখলে একটি জাতির সামগ্রিক বিকাশ সম্ভব নয়। কারণ একটি শিক্ষিত ও সচেতন কন্যাশিশুই ভবিষ্যতে পরিবার, সমাজ এবং রাষ্ট্রের উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।

ডিজিটাল যুগে প্রযুক্তির অগ্রগতি আমাদের জীবনকে সহজ করেছে, তথ্যের জগৎকে করেছে উন্মুক্ত। কিন্তু প্রযুক্তিগত উন্নয়ন তখনই অর্থবহ হবে, যখন তার সঙ্গে মানুষের চিন্তাধারা ও সামাজিক মূল্যবোধের ইতিবাচক পরিবর্তন ঘটবে। কন্যাশিশুর প্রতি বৈষম্য দূর করতে পরিবার, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, সমাজ ও রাষ্ট্রকে সম্মিলিতভাবে এগিয়ে আসতে হবে। প্রতিটি কন্যাশিশুর শিক্ষা, নিরাপত্তা, স্বাধীনতা ও সমান অধিকার নিশ্চিত করতে হবে। কন্যাশিশু কারও বোঝা নয়, বরং তারাও সম্ভাবনাময় ভবিষ্যতের নির্মাতা। তাই একটি বৈষম্যহীন, মানবিক ও উন্নত সমাজ গড়ে তুলতে হলে কন্যাশিশুর পথে থাকা বৈষম্যের কাঁটা উপড়ে ফেলতেই হবে।

শিক্ষার্থী (ইংরেজি বিভাগ), ইডেন মহিলা কলেজ

মন্তব্য করুন

আজকের নামাজের সময়সূচি (ঢাকা)

সময় লোড হচ্ছে...

ADVERTISEMENT

ফেসবুকে আমরা

প্রতিদিনের খবর ইমেইলে

লিংক কপি হয়েছে!