ধোঁয়া ওঠা এক বাটি গরম নুডলস, সাথে পছন্দের সস আর সবজি। এমন লোভনীয় খাবারের কথা ভাবলেই জিভে জল চলে আসে। শিশু থেকে বয়স্ক, প্রায় সবারই পছন্দের তালিকায় ওপরের দিকে থাকে এই খাবার। আর যারা এই সুস্বাদু খাবারটির অন্ধ ভক্ত, তাদের জন্য ৬ অক্টোবর দিনটি দারুণ স্পেশাল। কারণ দিনটি বিশ্ব নুডলস দিবস হিসেবে পরিচিত। গত মাসে যারা লিঙ্গুইনি দিবস উদযাপন করতে ভুলে গেছেন, তাদের জন্য আজ কার্বোহাইড্রেটে ভরপুর এই দিনটি উদযাপনের দারুণ সুযোগ।
সাধারণ অর্থে খামির বা ডো বেলে নানা আকারে কেটে তৈরি করা খাবারই হলো নুডলস। কিন্তু খাদ্যপ্রেমীদের কাছে এর আবেদন বিশাল। স্যুপ থেকে শুরু করে নানা ধরনের রান্নায়, কিংবা যেকোনো মজাদার সসের সাথে সহজেই মানিয়ে নেওয়ার অদ্ভুত ক্ষমতা আছে এর। জার্মান শব্দ নুডেল থেকে এই নুডলস শব্দের উৎপত্তি। লম্বা, চ্যাপ্টা বা গোলাকার, আকার যেমনই হোক না কেন, প্রতিটি নুডলসের নিজস্ব স্বাদ আর বৈশিষ্ট্য রয়েছে। এশিয়া অঞ্চলে সাধারণত চাল, গম, বাকহুইট, এমনকি আলু বা মিষ্টি আলুর মতো শেকড়জাতীয় সবজি দিয়েও এটি তৈরি হয়। অন্যদিকে ইউরোপীয়রা, বিশেষ করে ইতালীয়রা পাস্তা তৈরিতে ডুরুম বা সুজি বেশি ব্যবহার করে। তবে সেখানে আলুর তৈরি নুডলসও বেশ জনপ্রিয়।
এই মজার খাবারটি আমাদের পাতে কীভাবে এলো, সেই ইতিহাস বেশ রোমাঞ্চকর। ২০০২ সালে চীনের পীত নদীর তীরে প্রত্নতাত্ত্বিকরা প্রায় চার হাজার বছরের পুরোনো নুডলসের সন্ধান পান। একটি মাটির পাত্রে খুব সযত্নে সংরক্ষিত ছিল সেগুলো। যদিও আধুনিক নুডলসের সাথে সেই প্রাচীন নুডলসের কিছুটা পার্থক্য থাকতে পারে। ইতিহাসবিদদের মতে, বর্তমানে আমরা গম বা চালের আটার তৈরি যে নুডলস খাই, তার উদ্ভব সম্ভবত চীনের হান রাজবংশের আমলে হয়েছিল। তবে ইতালীয় খাবারেও এর গভীর প্রভাব রয়েছে। ত্রয়োদশ শতাব্দীতে ইতালিতে পাস্তার উল্লেখ পাওয়া গেলেও ধারণা করা হয়, এর অনেক আগে থেকেই সেখানে পাস্তা তৈরির চল ছিল।
বিশ্বজুড়ে নানা ধরনের নুডলসের দেখা মেলে। এর মধ্যে এগ নুডলস যেন এক বাটি স্যুপের মধ্যে পরম শান্তি এনে দেয়। লাসানিয়া নামের নুডলসটি চিজের দারুণ স্তরে সাজানো থাকে, যা দেখলেই মন ভালো হয়ে যায়। আবার আলফ্রেডো সসের সাথে ক্রিমি ফেটুচিনি কিংবা মিটবলের সাথে স্প্যাগেটির জুড়ি মেলা ভার। আজকের দিনে রামেনও দারুণ জনপ্রিয়। একসময় এটি শুধু সাধারণ খাবার হলেও এখন রীতিমতো নামিদামি রেস্তোরাঁর অন্যতম আকর্ষণ। আর ভিয়েতনামের ফো বা থাই প্যাড থাইয়ের মতো খাবারগুলোর প্রাণ হলো রাইস নুডলস। মজার ব্যাপার হলো, ইংরেজিতে নুডলস নিয়ে বেশ কিছু মজার জিভ প্যাঁচানো বাক্য বা টাং টুইস্টারও প্রচলিত আছে, যা দ্রুত মুখে বলতে গেলে বেশ আনন্দ পাওয়া যায়।
নুডলস দিবসটি নানাভাবে উদযাপন করা যায়। আপনি চাইলে নিজের পছন্দের নুডলস রান্না করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে হ্যাশট্যাগ দিয়ে ছবি শেয়ার করতে পারেন। বন্ধু বা পরিবারের সদস্যদের নিয়ে ঘরেই আয়োজন করতে পারেন নুডলস টেস্টিং পার্টির। নতুন কোনো রেসিপি, যেমন ভিয়েতনামিজ ফো বা ইতালিয়ান প্যাপারডেল বানিয়ে সবাইকে চমকে দেওয়া যায়। চাইলে শিশুদের সাথে নিয়ে নানা আকারের কাঁচা নুডলস দিয়ে মজাদার শিল্পকর্মও তৈরি করতে পারেন। তবে সবচেয়ে দারুণ উদ্যোগ হতে পারে সুবিধাবঞ্চিত মানুষদের সাহায্য করা। নুডলস সহজে নষ্ট হয় না বলে স্থানীয় কোনো খাদ্য সহায়তা কেন্দ্রে বা দরিদ্রদের মাঝে কয়েক প্যাকেট শুকনো নুডলস দান করে দিনটি উদযাপন করলে তা আরও অর্থবহ হয়ে উঠবে।
সব মিলিয়ে নুডলস কেবল একটি সাধারণ খাবার নয়, এটি বিভিন্ন সংস্কৃতির এক অপূর্ব মেলবন্ধন। যুগ যুগ ধরে পৃথিবীর নানা প্রান্তে মানুষের ক্ষুধা মেটানোর পাশাপাশি রসনাবিলাসের অন্যতম অনুষঙ্গ হয়ে আছে খাবারটি। তাই আজ আর কোনো ডায়েট বা ক্যালরির চিন্তা মাথায় না আনাই ভালো। প্রিয়জনকে সাথে নিয়ে এক বাটি গরম নুডলসের স্বাদ উপভোগ করুন আর আনন্দে মেতে উঠুন।
