আজ ৪ অক্টোবর, বিশ্ব প্রাণী দিবস। প্রাণীদের অধিকার রক্ষা, কল্যাণ ও তাদের প্রতি মানুষের সচেতনতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে বিশ্বজুড়ে দিনটি পালিত হচ্ছে। পৃথিবীর বাস্তুতন্ত্র ও পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষায় প্রাণিকুলের ভূমিকা অপরিসীম হলেও প্রতিনিয়ত নানাভাবে বিপন্ন হচ্ছে তাদের অস্তিত্ব। প্রাণীদের প্রতি নিষ্ঠুরতা রোধ এবং তাদের বাঁচার অধিকার নিশ্চিতেই এই দিনটির অবতারণা।
১৯৩১ সালে ইতালির ফ্লোরেন্সে অনুষ্ঠিত পরিবেশবাদীদের এক সম্মেলনে প্রথম এই দিবসটি পালনের সিদ্ধান্ত হয়। প্রাণীদের প্রতি সদয় আচরণের জন্য পরিচিত সাধু ফ্রান্সিস অব আসিসির প্রয়াণ দিবস উপলক্ষে ৪ অক্টোবরকে বিশ্ব প্রাণী দিবস হিসেবে বেছে নেওয়া হয়। পরবর্তী সময়ে বিশ্বজুড়ে প্রাণী কল্যাণ সংস্থাগুলো এই দিনটিকে বৈশ্বিক রূপ দেয়।
বর্তমানে জলবায়ু পরিবর্তন, বন উজাড় এবং মানুষের আগ্রাসনের কারণে বন্যপ্রাণীদের একটি বড় অংশ বিলুপ্তির হুমকিতে রয়েছে। প্রাকৃতিক আবাসস্থল হারানোর কারণে অনেক প্রাণী লোকালয়ে প্রবেশ করে মানুষের আক্রোশের শিকার হচ্ছে। একই সঙ্গে গৃহপালিত ও পথের প্রাণীদের প্রতিও ঘটছে নানা নিষ্ঠুরতার ঘটনা। দিবসটির মূল বার্তা হলো, প্রাণীজগতকে কেবল মানুষের ব্যবহারের বস্তু হিসেবে না দেখে তাদের বাঁচার অধিকার ও স্বাধীনতায় সম্মান জানানো।
পরিবেশের প্রাকৃতিক ভারসাম্য টিকিয়ে রাখতে প্রতিটি প্রাণীরই নির্দিষ্ট ভূমিকা রয়েছে। তাই প্রাণীদের সুরক্ষা নিশ্চিত করার কোনো বিকল্প নেই। বিশ্ব প্রাণী দিবসে প্রাণীদের প্রতি সহানুভূতিশীল আচরণের চর্চা ব্যক্তিজীবন থেকে শুরু করে রাষ্ট্রীয় পর্যায় পর্যন্ত ছড়িয়ে দেওয়ার ওপর জোর দেন পরিবেশবাদীরা। দেশে দেশে সরকারি ও বেসরকারি উদ্যোগে আলোচনা সভা, সচেতনতামূলক প্রচার ও বন্যপ্রাণী সংরক্ষণে নানা কর্মসূচির মধ্য দিয়ে আজ দিনটি পালিত হচ্ছে।
ডিএ/
