ঢাকার ৪১৬ বছরের ইতিহাস, ঐতিহ্য ও সংস্কৃতি নতুন প্রজন্মের কাছে তুলে ধরা এবং নগরবাসীর সাংস্কৃতিক চর্চাকে সমৃদ্ধ করার লক্ষ্যে ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশনের (ডিএসসিসি) উদ্যোগে আয়োজিত ‘হৃদয়ে ঢাকা ৪১৬’ কর্মসূচির আওতায় অনুষ্ঠিত নাট্যোৎসব সমাপ্ত হয়েছে।
আজ সোমবার রাজধানীর বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমির নাট্যশালায় আয়োজিত সমাপনী অনুষ্ঠানের মাধ্যমে ৯ দিনব্যাপী আয়োজিত এই উৎসবের দ্বিতীয় পর্বের পর্দা নামে।
সমাপনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশনের প্রশাসক বীর মুক্তিযোদ্ধা মো. আবদুস সালাম। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন ডিএসসিসির প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মো. খয়বর রহমান।
উল্লেখ্য, গত ১৬ থেকে ২৩ আগস্ট পুরান ঢাকার সূত্রাপুরে জহির রায়হান সাংস্কৃতিক কেন্দ্র মিলনায়তনে আট দিনব্যাপী এই নাট্যোৎসবের প্রথম পর্ব অনুষ্ঠিত হয়। পরবর্তীতে ৬ সেপ্টেম্বর নাট্যশালার মূল মিলনায়তনে শুরু হয় দ্বিতীয় পর্ব, যা চলে ১৪ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত। ৯ দিনব্যাপী এই পর্বে দেশের শীর্ষস্থানীয় নয়টি নাট্যদলের মোট নয়টি নাটক প্রদর্শিত হয়।
দ্বিতীয় পর্বে প্রদর্শিত নাটকগুলো হলো- প্রাচ্যনাট: কিনু কাহারের থেটার, লোক নাট্যদল (বনানী): কঞ্জুস, ঢাকা পদাতিক: ট্রায়াল অব সূর্যসেন, বাঁশরী রেপার্টরি থিয়েটার: আলেয়া, আরণ্যক নাট্যদল: কম্পানি, থিয়েটার আর্ট ইউনিট: আমিনা সুন্দরী, তীরন্দাজ রেপার্টিরি: কন্ঠনালীতে সূর্য, দৃষ্টিপাত নাট্য দল: সে এক স্বপ্নের রাত, বাংলাদেশ থিয়েটার: সী-মোরগ।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে ডিএসসিসি প্রশাসক বলেন, ‘সিটি করপোরেশনের দায়িত্ব শুধু পরিচ্ছন্নতা বা কর আদায়ের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়; নগরবাসীর বিনোদনের সুযোগ তৈরি করা এবং ঢাকার সমৃদ্ধ ইতিহাস-ঐতিহ্য নতুন প্রজন্মের সামনে তুলে ধরাও আমাদের অন্যতম দায়িত্ব।’
তিনি আরও বলেন, নগরীকে ভালোবাসলেই তার প্রতি নাগরিক দায়িত্ববোধ ও শ্রদ্ধা তৈরি হবে, যা পরিবেশ রক্ষায় ভূমিকা রাখবে।
ঢাকার অতীত ঐতিহ্য সংরক্ষণের তাগিদ দিয়ে তিনি জানান, লালকুঠিসহ ঐতিহাসিক স্থাপনাগুলো আগের রূপে ফিরিয়ে আনতে সংস্কারকাজ চলছে। এছাড়া শিক্ষার্থীদের জন্য ছুটির দিনে কার্জন হল, শহীদ মিনার, লালবাগ কেল্লা ও আহসান মঞ্জিলের মতো ঐতিহাসিক স্থানগুলোতে ডিএসসিসির নিজস্ব ব্যবস্থাপনায় শিক্ষাসফরের উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। সাংস্কৃতিক সংগঠনগুলোর সুবিধার্থে ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশনের আওতায় থাকা মিলনায়তন ও কমিউনিটি সেন্টারগুলো ব্যবহারে বিশেষ ছাড়ের আশ্বাসও দেন তিনি।
অনুষ্ঠান শেষে অংশগ্রহণকারী নাট্যদলগুলোর হাতে সম্মাননা স্মারক, সনদপত্র ও উপহার তুলে দেন প্রশাসক।
