নিমপাতার হারানো শৈশব
মাহজাবীন তাসনীম রুহী
আজো এই শহরের ট্রামের শব্দে, যান্ত্রিক কোলাহলে মনে পড়ে
নক্ষত্রহীন সেই ম্লান অপরাহ্নের কথা,
নিমগাছের পাতা বেয়ে ঝরে পড়া রোদের হলদে আলো,
আর গ্রামের পুরোনো মসজিদ,
যার গায়ে লেগে আছে শ্যাওলার নীরবতা।
আজান-শেষের স্তব্ধতায়, যখন ডাহুক ডাকত দূর বাঁশঝাড়ের বনে,
তখনো শৈশবের ধুলো মেখে ফিরেছি নিয়নহীন মেঠোপথ ধরে।
দাদার সেই চড়া সুরের বকুনি আজ মনে হয় যেন দূর শতাব্দীর গান,
মমতায় মাখা সেই শাসন,
হারিয়ে গেছে কোন গ্রীষ্মের অলস দুপুরে।
জ্যৈষ্ঠের নদীতীরে একা বসে থাকা
বকপাখি জানে, কতটা বিষাদ বুকে নিয়ে মানুষ বড় হয়ে যায়!
সবুজ পাতার তেতো ঘ্রাণ,
জাদুকাটা নদীর সেই ম্লান জল,
আজো আমায় ডাকে সেই হারানো নারকেল গাছের ছায়ায়।
কোথায় হারালে তুমি হে আমার রূপসী শৈশব?
দাদার সেই চশমা, মসজিদের মিনার, কুয়াশায় ঢাকা ভোর—
সবই তো রয়ে গেল দূর এক নক্ষত্রের দেশে,
আমি শুধু একা হাঁটি বুকে নিয়ে এক অনন্ত স্মৃতির ঘোর।
