গাজীপুরের টঙ্গীতে তা’মীরুল মিল্লাত কামিল মাদ্রাসার আলিম প্রথম বর্ষের শিক্ষার্থী আব্দুল্লাহ আল জাবির সড়ক দুর্ঘটনায় গুরুতর আহত হয়েছেন। আশঙ্কাজনক অবস্থায় তাঁকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। এ ঘটনার পর মাদ্রাসার সামনে ফুটওভার ব্রিজ নির্মাণসহ ছয় দফা দাবিতে সড়ক অবরোধ করে আন্দোলন করছেন শিক্ষার্থীরা।
বৃহস্পতিবার (২৯ অক্টোবর) দুপুর ১২টা ৩৭ মিনিটে মাদ্রাসার পাশের সিএনজি পাম্পের সামনে প্রধান সড়ক পার হওয়ার সময় একটি মাইক্রোবাসের ধাক্কায় আহত হন জাবির। তিনি মাদ্রাসার আলিম শ্রেণীর বিজ্ঞান বিভাগের শিক্ষার্থী। প্রত্যক্ষদর্শীদের বরাতে জানা যায়, দুর্ঘটনার পর মাদ্রাসার ছাত্র সংসদের প্রতিনিধি ও স্থানীয়দের সহযোগিতায় তাঁকে দ্রুত হাসপাতালে নেওয়া হয়।
শিক্ষার্থীদের অভিযোগ, মাদ্রাসার সামনের সড়কে প্রায়ই দুর্ঘটনা ঘটছে। এতে শিক্ষার্থীসহ সাধারণ মানুষ আহত ও নিহত হচ্ছেন। দীর্ঘদিন ধরে ফুটওভার ব্রিজ নির্মাণসহ নিরাপত্তাব্যবস্থা জোরদারের দাবি জানানো হলেও প্রশাসনের পক্ষ থেকে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি বলে দাবি তাদের।
মাদ্রাসার ছাত্র সংসদের পক্ষ থেকে জানানো হয়, প্রশাসনের দীর্ঘসূত্রিতা, উদাসীনতা ও বারবার আশ্বাস দিয়েও দৃশ্যমান অগ্রগতি না হওয়ায় তারা আবারও সড়ক অবরোধ করতে বাধ্য হয়েছেন। জনসাধারণের চলাচলে দুর্ভোগ সৃষ্টি হওয়ায় দুঃখ প্রকাশ করে ছাত্র সংসদ জানিয়েছে, দাবি বাস্তবায়ন না হওয়া পর্যন্ত আন্দোলন চলবে।
ছাত্র সংসদের ছয় দফা দাবি হলো—আজকের মধ্যেই ফুটওভার ব্রিজ নির্মাণের কাজ দৃশ্যমান করা; মাদ্রাসার সামনে সড়কে স্পিড ব্রেকার স্থাপন; ২৪ ঘণ্টা ট্রাফিক পুলিশ মোতায়েন; ফুটওভার ব্রিজ নির্মাণ সম্পন্ন না হওয়া পর্যন্ত যানবাহনের গতি নিয়ন্ত্রণের ব্যবস্থা; আহত শিক্ষার্থীর ক্ষতিপূরণ নিশ্চিত করা এবং সংশ্লিষ্ট গাড়ির মালিক ও চালকের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া।
ছাত্র সংসদের দাবি, এর আগেও শিক্ষার্থী ইয়াসিন সড়ক দুর্ঘটনায় নিহত হওয়ার পর গাজীপুরের জেলা প্রশাসক ও সিটি করপোরেশনের প্রশাসক এক সপ্তাহের মধ্যে ফুটওভার ব্রিজ নির্মাণের কাজ দৃশ্যমান করার আশ্বাস দিয়েছিলেন। কিন্তু এখনো সেই প্রতিশ্রুতির বাস্তবায়ন হয়নি। শিক্ষার্থীদের পক্ষ থেকে বারবার যোগাযোগ করা হলেও দৃশ্যমান কোনো কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি বলে অভিযোগ তাদের।
এদিকে ছাত্র সংসদ জানিয়েছে, মাদ্রাসার সামনের সড়কে দুর্ঘটনা এড়াতে দ্রুত নিরাপত্তাব্যবস্থা নিশ্চিত করতে হবে। অন্যথায় দাবি পূরণ না হওয়া পর্যন্ত আন্দোলন অব্যাহত থাকবে।
তবে এ বিষয়ে প্রশাসনের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
