কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই মডেলগুলোতে বাংলা ভাষার সেবা ও উপস্থিতি বৃদ্ধির ওপর গুরুত্বারোপ করেছেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ঢাবি) উপাচার্য অধ্যাপক ড. এ বি এম ওবায়দুল ইসলাম। তিনি বলেছেন, বাংলাদেশের মতো বদ্বীপ অঞ্চলে ঘূর্ণিঝড় ও মাদকের চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় বৈশ্বিক এআই মডেলগুলোতে আমাদের স্থানীয় সমস্যাগুলো যথাযথভাবে স্থান পাওয়া দরকার।
গতকাল শনিবার (১০ অক্টোবর) বাংলা একাডেমির আবদুল করিম সাহিত্যবিশারদ মিলনায়তনে আয়োজিত এক আন্তর্জাতিক সম্মেলনের সমাপনী অনুষ্ঠানে সভাপতির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। আইইইই কম্পিউটার সোসাইটি বাংলাদেশ চ্যাপ্টার এবং ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কম্পিউটার সায়েন্স অ্যান্ড ইঞ্জিনিয়ারিং (সিএসই) বিভাগ যৌথভাবে তৃতীয় আন্তর্জাতিক কম্পিউটিং, অ্যাপ্লিকেশনস অ্যান্ড সিস্টেমস (কম্পাস ২০২৬) শীর্ষক এই সম্মেলনের আয়োজন করে।
উপাচার্য অধ্যাপক ড. এ বি এম ওবায়দুল ইসলাম বলেন, আমরা এমন এক সময়ে বাস করছি যখন কম্পিউটিং প্রযুক্তি প্রতিটি ক্ষেত্রকে আমূল বদলে দিচ্ছে। কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা অত্যন্ত দ্রুতগতিতে সেই পরিবর্তনের নেতৃত্ব দিচ্ছে। মাত্র কয়েক বছরের মধ্যেই এআই গবেষণাগারের গণ্ডি পেরিয়ে আমাদের দৈনন্দিন জীবনের অবিচ্ছেদ্য অংশে পরিণত হয়েছে। বিশাল আকারের ল্যাঙ্গুয়েজ মডেলগুলো এখন খসড়া তৈরি, অনুবাদ এবং কোড লেখার কাজ করছে। এ ছাড়া মেডিকেল ইমেজ বিশ্লেষণ, ফসলের পূর্বাভাস প্রদান, প্রোটিনের গঠন নির্ণয়, নতুন উপাদান আবিষ্কার এবং গবেষণার সময় কমিয়ে আনার মতো গুরুত্বপূর্ণ কাজও করছে এই প্রযুক্তি।
বাংলাদেশের প্রেক্ষাপট তুলে ধরে উপাচার্য বলেন, সতেরো থেকে আঠারো কোটি মানুষের এই দেশে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা যেমন বিশাল সুযোগ বয়ে এনেছে, তেমনি এর সঙ্গে জড়িয়ে আছে বাস্তব ঝুঁকিও। এআই যদি কেবল অন্য কোনো দেশে বা পরিবেশে তৈরি হয়, তবে তা মূলত সেই পরিবেশের প্রয়োজনেই গড়ে উঠবে। সেখানে প্রশিক্ষণ বা ডেটা হিসেবে ব্যবহৃত হবে অন্য ভাষা, অন্য হাসপাতাল, অন্য কৃষিখামার ও অন্য নদনদীর তথ্য। অথচ বিশ্বে তেইশ কোটির বেশি মানুষ বাংলা ভাষায় কথা বললেও বর্তমানের এআই ব্যবস্থাগুলোতে বাংলা ভাষার সেবা বা উপস্থিতি এখনো সীমিত। এই সীমাবদ্ধতা দূর করতে কাজ করার জন্য তিনি গবেষকদের প্রতি আহ্বান জানান।
সমাপনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি বিভাগের সচিব মো. মামুনুর রশীদ ভূঞা। অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য দেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সিএসই বিভাগের চেয়ারম্যান এবং কম্পাস ২০২৬ এর জেনারেল চেয়ার অধ্যাপক ড. মো. আব্দুর রাজ্জাক। এ ছাড়া আইইইই কম্পিউটার সোসাইটি বাংলাদেশ চ্যাপ্টারের চেয়ার অধ্যাপক ড. মো. ওবায়দুর রহমান অনুষ্ঠানে ধন্যবাদ জ্ঞাপন করেন।
সম্মেলনে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ও কম্পিউটিং বিষয়ে বিশেষ অবদানের জন্য তিনটি দলকে সেরা গবেষণা পুরস্কার প্রদান করা হয়।
