জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ে (জবি) যথাযথ মর্যাদায় বিশ্ব শিক্ষক দিবস-২০২৬ পালিত হয়েছে। সোমবার (০৫ অক্টোবর) বিশ্ববিদ্যালয়ের বিবিএ ভবনের নিচতলার শিক্ষক লাউঞ্জে ইউনিভার্সিটি টিচার্স অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (ইউট্যাব) জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় শাখার উদ্যোগে বিশেষ আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়।
আলোচনা সভায় শিক্ষকতার মানোন্নয়ন, পেশাগত অধিকার, সামাজিক ও অর্থনৈতিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করাসহ অন্যান্য ক্যাডার সার্ভিসের ন্যায় সুযোগ-সুবিধা প্রদানের জোর দাবি জানানো হয়।
আলোচনা সভায় সভাপতির বক্তব্যে ইউট্যাব জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় শাখার সভাপতি অধ্যাপক মোহাম্মদ নাসির উদ্দিন বলেন, “শিক্ষক দিবসটি শিক্ষকদের মর্যাদা, অধিকার ও সুরক্ষার প্রতীক। তবে আমাদের বিশ্ববিদ্যালয়ে এখনো স্বাস্থ্য বীমার সুবিধা নেই এবং আমাদের মেডিকেল সেন্টারটিও বিকেল ৪টার পর বন্ধ হয়ে যায়। শিক্ষক, কর্মকর্তা ও শিক্ষার্থীদের স্বাস্থ্য সুরক্ষা নিশ্চিত করতে উন্নত চিকিৎসা সেবা ও পূর্ণাঙ্গ স্বাস্থ্য বীমা চালু করা অত্যন্ত জরুরি।”
অনুষ্ঠান পরিচালনা ও সঞ্চালনা করেন ইউট্যাবের সাধারণ সম্পাদক ড. নাসির আহমেদ। তিনি ১৯৬৬ সালে ইউনেস্কো ও আইএলও কর্তৃক শিক্ষকদের অধিকার বিষয়ক ঐতিহাসিক প্রস্তাবনার কথা স্মরণ করিয়ে দিয়ে বলেন, “টিচিং প্রফেশনকে এখন কেবল একটি পেশা হিসেবে দেখলে চলবে না, শিক্ষকদের আত্মমর্যাদা ও জীবনযাত্রার মানের সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ বেতন কাঠামো তৈরি করতে হবে। অন্যান্য পেশার ন্যায় শিক্ষকদের অধিকার ও মর্যাদাকে সংসংরক্ষিত করা আমাদের সময়ের অন্যতম দাবি।”
সহ-সভাপতি অধ্যাপক মো. আজম খান শিক্ষকদের দৈনন্দিন বিড়ম্বনা ও পেশাগত পরিশ্রম তুলে ধরে বলেন, “শিক্ষকরা শুধু শ্রেণীকক্ষেই সীমাবদ্ধ থাকেন না, গবেষণাসহ দৈনিক দীর্ঘ সময় কাজ করেন। প্রতিদিন যাতায়াতের যে শারীরিক ও মানসিক ভোগান্তি পোহাতে হয় তা দূর করা প্রয়োজন। শুধুমাত্র মৌখিক সম্মান বা সালাম জানানোর মধ্যে শিক্ষকদের মূল্যায়ন সীমাবদ্ধ না রেখে তাদের ন্যায্য অধিকার ও সুবিধা বাস্তবায়ন করতে হবে।”
যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মোস্তাফিজ আহমেদ প্রশাসনে অন্যান্য ক্যাডারের সাথে শিক্ষকদের সুযোগ-সুবিধার বৈষম্যের কথা উল্লেখ করে বলেন, “বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে মেধা তালিকার শীর্ষে থাকা শিক্ষার্থীরা শিক্ষক হিসেবে আসেন। অথচ অন্যান্য প্রশাসনিক ক্যাডারে গাড়ি ও মেইনটেন্যান্স সুবিধাসহ নানা প্রণোদনা থাকলেও শিক্ষকরা তা থেকে বঞ্চিত। আমরা বাড়তি কিছু চাই না, অন্যান্য পেশার সমপরিমাণ সুযোগ-সুবিধা ও মর্যাদা নিশ্চিত করাই আমাদের মূল দাবি।”
সংগঠনিক সম্পাদক মো. নাঈম আক্তার সিদ্দিকী বলেন, “পাশ্ববর্তী দেশগুলোতে প্রাথমিক থেকে বিশ্ববিদ্যালয় পর্যন্ত সর্বস্তরের শিক্ষকদের আলাদা মর্যাদা ও বেতন কাঠামো দেওয়া হয়। কিন্তু আমাদের দেশে তা ক্রমেই সংকুচিত হচ্ছে। শিক্ষকদের অধিকার আদায়ে সজাগ না হলে এবং সঠিক মূল্যায়ন নিশ্চিত করতে না পারলে মেধাবীরা এ পেশায় আসার আগ্রহ হারিয়ে ফেলবে।”
আলোচনা সভা শেষে ইউট্যাবের নেতৃবৃন্দ জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের সকল বিভাগে গিয়ে সকল সম্মানিত শিক্ষককে ফুল ও মিষ্টি উপহার দিয়ে বিশ্ব শিক্ষক দিবসের শুভেচ্ছা ও শুভকামনা জানান।
