শিরোনাম:
Network News BD
বৃহস্পতিবার, ২৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬
মেনু
প্রচ্ছদ

© 2026 Network News BD

১৮শ বিজেএসে ডি জুরি একাডেমির অভূতপূর্ব সাফল্য

ক্যাম্পাস ডেস্ক

ক্যাম্পাস ডেস্ক

প্রকাশিত: ২৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৫:১৭ PM ২৭ বার পঠিত
১৮শ বিজেএসে ডি জুরি একাডেমির অভূতপূর্ব সাফল্য

ছবি: সংগৃহীত

দেশের বিচার ব্যবস্থায় যুক্ত হয়ে ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠার স্বপ্ন দেখেন আইনের হাজারো শিক্ষার্থী। মেধাবী যোগ্য প্রার্থীদের সেই লালিত স্বপ্ন পূরণের অন্যতম কঠিন ধাপ হলো বাংলাদেশ জুডিসিয়াল সার্ভিস (বিজেএস) পরীক্ষা। সম্প্রতি প্রকাশিত ১৮শ বিজেএস পরীক্ষার চূড়ান্ত ফলাফলে সফলতার এক নতুন মাইলফলক স্থাপন করেছেডি জুরি একাডেমি এবারের মেধা তালিকায় ১ম ৩য় স্থান অধিকারীসহ এই প্রতিষ্ঠান থেকে মোট ৩৫ জন শিক্ষার্থী সিভিল জজ (সহকারী জজ) হিসেবে সুপারিশপ্রাপ্ত হয়েছেন। আইনের শিক্ষার্থীদের জন্য এই একাডেমি যেন এখন এক আস্থার সমার্থক হয়ে উঠেছে।

দেশসেরার মুকুট এবং সিয়ামের সাফল্যের গল্প

এবারের মেধা তালিকায় দেশসেরা হয়ে প্রথম স্থান অধিকার করেছেন আরিফুল ইসলাম সিয়াম। তার এই অর্জনে উচ্ছ্বসিত ডি জুরি একাডেমির শিক্ষক সহপাঠীরা। সিয়াম শুরু থেকেই ডি জুরি একাডেমির ‘Run for 18th BJS Preli’ এবং ‘18th BJS Written Exam batch’-এর নিয়মিত শিক্ষার্থী ছিলেন। নিজের প্রস্তুতির দিনগুলোর কথা স্মরণ করে সিয়াম একাডেমির প্রতি গভীর কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন। তিনি বলেন, “যখন আমি পরীক্ষাগুলো দিতাম, রিটেন বা এমসিকিউ প্রশ্ন নিয়ে কোনো কনফিউশন তৈরি হলে বা বুঝতে অসুবিধা হলে সাথে সাথে মেন্টরদের জানাতাম। আর তারা সবসময়ই অত্যন্ত আন্তরিকতার সাথে আমাকে সাহায্য করতেন বিষয়গুলো বুঝিয়ে দিতেন।

সাফল্যের এক ধারাবাহিক আখ্যান

বিচারক নিয়োগের এই প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষায় ডি জুরি একাডেমির এই অভাবনীয় সাফল্য হঠাৎ করে পাওয়া কোনো বিষয় নয়; বরং এটি তাদের দীর্ঘদিনের ধারাবাহিকতারই এক উজ্জ্বল প্রতিচ্ছবি। বিগত বছরগুলোর পরিসংখ্যান বিশ্লেষণ করলে দেখা যায়, একাডেমিটি প্রতি বছরই তাদের নিজেদের ছাড়িয়ে যাচ্ছে। ১৫শ বিজেএস পরীক্ষায় প্রথম স্থান অধিকারীসহ মোট জন, ১৬শ বিজেএসে দ্বিতীয় স্থানসহ ১১ জন এবং ১৭শ বিজেএসে তৃতীয় স্থান অধিকারীসহ মোট ২৬ জন শিক্ষার্থী সিভিল জজ হিসেবে সুপারিশ পেয়েছিলেন। সব মিলিয়ে বিগত মাত্র বছরে এই একটি প্রতিষ্ঠান থেকেই বাংলাদেশ জুডিসিয়াল সার্ভিসে বিচারক হিসেবে যুক্ত হয়েছেন ৭৯ জন মেধাবী মুখ।

তবে তাদের এই সাফল্য শুধু বিচার বিভাগের গণ্ডিতেই সীমাবদ্ধ নেই। আইন পেশার বৃহত্তর জগতেও ছায়া ফেলছেন এখানকার শিক্ষার্থীরা। এখন পর্যন্ত এই একাডেমি থেকে প্রশিক্ষণ নেওয়া ৯৪৯ জন শিক্ষার্থী বাংলাদেশ বার কাউন্সিল পরীক্ষায় অত্যন্ত সফলতার সাথে উত্তীর্ণ হয়েছেন এবং বর্তমানে দেশের বিভিন্ন আদালতে সুনামের সঙ্গে অ্যাডভোকেট হিসেবে আইনি সেবা দিয়ে যাচ্ছেন।

প্রযুক্তিনির্ভর আধুনিক প্রস্তুতি শিক্ষার্থীবান্ধব পরিবেশ

বিজেএস পরীক্ষার বিশাল জটিল সিলেবাস সহজে আয়ত্ত করতে ডি জুরি একাডেমি প্রযুক্তিকে দারুণভাবে কাজে লাগাচ্ছে। একাডেমিটির রয়েছে নিজস্ব মোবাইল অ্যাপ ওয়েবসাইট, যার মাধ্যমে শিক্ষার্থীরা অনলাইন অফলাইনে লাইভ ক্লাস করার পাশাপাশি নিয়মিত পরীক্ষা দেওয়ার সুযোগ পাচ্ছেন। এর ফলে শুধু রাজধানী নয়, দেশের যেকোনো প্রান্তে বসেও একজন শিক্ষার্থী নিজেকে চূড়ান্ত পরীক্ষার জন্য প্রস্তুত করতে পারছেন। এছাড়া নারী শিক্ষার্থীদের জন্য সম্পূর্ণ নিরাপদ শিক্ষার্থীবান্ধব ক্যাম্পাস নিশ্চিত করায় প্রতিষ্ঠানটি অভিভাবক সচেতন মহলে আলাদা প্রশংসা কুড়িয়েছে।

কিংবদন্তিদের সান্নিধ্যে মানসিক বিকাশ

শুধু রুটিনমাফিক ক্লাস আর পরীক্ষার মধ্যেই একাডেমির কার্যক্রম সীমাবদ্ধ নয়। প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষার মানসিক চাপ জড়তা কাটাতে এবং শিক্ষার্থীদের স্বপ্নকে আরও বড় করতে বরেণ্য ব্যক্তিত্বদের নিয়ে নিয়মিতক্যারিয়ার সেশন’-এর আয়োজন করে প্রতিষ্ঠানটি। এর আগে বিচার বিভাগের কিংবদন্তি ব্যক্তিত্ব মাজদার হোসেন এবং গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশের ১৮তম অ্যাটর্নিজেনারেল ব্যারিস্টার রুহুল কুদ্দুস কাজলের মতো বরেণ্য আইনি ব্যক্তিত্বরা ক্যাম্পাসে এসে শিক্ষার্থীদের উজ্জীবিত করেছেন। তাদের দিকনির্দেশনা শিক্ষার্থীদের মানসিক শক্তি জোগাতে দারুণ ভূমিকা রেখেছে।

নেপথ্যের কারিগর পরিচালকের বক্তব্য

শিক্ষার্থীদের এমন ধারাবাহিক সাফল্যের নেপথ্যের কারণ নিয়ে কথা বলেন ডি জুরি একাডেমির পরিচালক জনাব রফিকুল ইসলাম শিমুল। একাডেমিটির ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা প্রস্তুতির কৌশল সম্পর্কে তিনি বলেন, “আমাদের এই অর্জনের মূল চাবিকাঠি লুকিয়ে আছে সাবজেক্টিভ মডেল টেস্টের প্রশ্নপত্রের গুণগত মান এবং অত্যন্ত যত্নের সাথে খাতা মূল্যায়নের মধ্যে। আমাদের সম্মানিত মেন্টররা সবসময় চূড়ান্ত পরীক্ষার স্ট্যান্ডার্ড প্যাটার্ন মাথায় রেখে ক্লাসগুলো পরিচালনা করেন। প্রতিটি পরীক্ষার খাতা নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করে শিক্ষার্থীদের ভুলগুলো ব্যক্তিগতভাবে শুধরে দেওয়া হয়। এই নিখুঁত বাস্তবমুখী প্রস্তুতির ফলে মূল পরীক্ষার হলে প্রশ্নপত্রটি শিক্ষার্থীদের কাছে অনেকটাই পরিচিত সহজবোধ্য মনে হয়, যা তাদের চূড়ান্ত বিজয়কে ত্বরান্বিত করে।

সঠিক দিকনির্দেশনা, আধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহার এবং নিরলস পরিশ্রমের মাধ্যমেডি জুরি একাডেমিআইনের শিক্ষার্থীদের বিচারক হওয়ার স্বপ্ন পূরণে দেশের অন্যতম সেরা নির্ভরতার জায়গা হিসেবে নিজেদের প্রতিষ্ঠিত করেছে।

ডিএ/

মন্তব্য করুন

আজকের নামাজের সময়সূচি (ঢাকা)

সময় লোড হচ্ছে...

ADVERTISEMENT

ফেসবুকে আমরা

প্রতিদিনের খবর ইমেইলে

লিংক কপি হয়েছে!