মাটি ও আবহাওয়ার বিভিন্ন তথ্য বিশ্লেষণ করে নির্দিষ্ট জমির জন্য সবচেয়ে উপযোগী ফসলের পরামর্শ দিতে পারে এমন একটি কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই ভিত্তিক প্রযুক্তি উদ্ভাবন করেছেন দিনাজপুর হাজী মোহাম্মদ দানেশ বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (হাবিপ্রবি) এক শিক্ষার্থী। তাঁর নাম নাহিদ ইসলাম। তিনি বিশ্ববিদ্যালয়ের ইলেকট্রনিক্স অ্যান্ড কমিউনিকেশন ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের ২৩ ব্যাচের শিক্ষার্থী। গতকাল শুক্রবার হাবিপ্রবির জনসংযোগ বিভাগের পরিচালক মো. খাদেমুল ইসলাম এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে বিষয়টি নিশ্চিত করেন।
বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয় এই এআই পদ্ধতিটি মাটির পিএইচ নাইট্রোজেন ফসফরাস পটাশিয়াম আর্দ্রতা তাপমাত্রা ও বৃষ্টিপাতের তথ্য বিশ্লেষণ করে ২৮ ধরনের ফসলের মধ্য থেকে জমির জন্য সবচেয়ে উপযোগী ফসলটি নির্বাচন করতে পারে। কৃষকের হাতে সহজে প্রযুক্তিটি পৌঁছে দেওয়ার লক্ষ্যে পুরো সিস্টেমটিকে চারটি স্তরে সাজানো হয়েছে।
প্রথম স্তরে রয়েছে আইওটি ভিত্তিক মাটির বিশ্লেষণ। মাঠেই এই ডিভাইস মাটির বিভিন্ন উপাদান পরিমাপ করে সরাসরি ক্লাউডে পাঠায় ফলে ল্যাবে নমুনা নেওয়ার কোনো প্রয়োজন পড়ে না। দ্বিতীয় স্তরে কাজ করে ক্রপ রেকমেন্ডেশন ইঞ্জিন যা জমির বৈশিষ্ট্য বিশ্লেষণ করে উপযোগী ফসল নির্বাচন করে দেয়। তৃতীয় স্তরে রয়েছে নিজস্ব প্রযুক্তিতে তৈরি চ্যাটবট যার মাধ্যমে কৃষক বাংলায় প্রশ্ন করলেই তাৎক্ষণিক উত্তর পান। এর জন্য তৃতীয় পক্ষের কোনো ব্যয়বহুল এপিআইয়ের ওপর নির্ভর করতে হয় না। সবশেষে রয়েছে একটি অ্যান্ড্রয়েড অ্যাপ যা সাধারণ স্মার্টফোনেই ব্যবহার করা যায়।
উদ্ভাবক নাহিদ ইসলাম জানান অধিকাংশ গবেষণায় সাধারণত প্রস্তুত ডেটাসেট ব্যবহার করা হলেও তিনি নিজেই বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাস এলাকার বিভিন্ন স্থান থেকে মাটির নমুনা সংগ্রহ করেছেন। ২৮ ধরনের ফসলের জন্য আলাদাভাবে মাটির বৈশিষ্ট্য সংরক্ষণ করে সেই বাস্তব তথ্যের ওপর ভিত্তি করেই তিনি সম্পূর্ণ মেশিন লার্নিং অ্যান্ড্রয়েড প্রযুক্তিটি তৈরি করেন। ডেটা প্রি প্রসেসিং ফিচার ইঞ্জিনিয়ারিং মডেল ট্রেনিং ও ভ্যালিডেশনের মাধ্যমে তৈরি করা এই এআই মডেলটি টেস্ট ডেটাসেটে ৯৭ শতাংশের বেশি সফলতা অর্জন করেছে। সম্প্রতি দিনাজপুরের বাংলাদেশ কৃষি উন্নয়ন করপোরেশন বা বিএডিসির নার্সারি মাঠে এই প্রযুক্তির পরীক্ষামূলক প্রয়োগ করা হয়েছে যা অত্যন্ত সফল।
মাঠপর্যায়ে গবেষণাটির বাস্তবায়নে সহায়তা করেন বিএডিসির কৃষিবিদ শাহানা পারভীন। এই গবেষণার একাডেমিক তত্ত্বাবধায়ক ছিলেন হাবিপ্রবির ইলেকট্রনিক্স অ্যান্ড কমিউনিকেশন ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের অধ্যাপক ড. মো. দুলাল হাসান। তিনি বলেন নাহিদ শুধু একটি মডেল তৈরি করেনি সে ক্যাম্পাস থেকে নিজে ডেটা সংগ্রহ করে পুরো সিস্টেম দাঁড় করিয়েছে। একজন শিক্ষক হিসেবে এটি অত্যন্ত গর্বের। এই সিস্টেমটি বাংলাদেশের প্রেক্ষাপটে কৃষকদের জন্য বাস্তবসম্মত একটি চমৎকার সমাধান। কৃষিতে প্রযুক্তির এমন ব্যবহার তরুণদের উদ্ভাবনী সক্ষমতার একটি বড় দৃষ্টান্ত বলে তিনি উল্লেখ করেন।
