গাজীপুরের টঙ্গীতে সড়ক দুর্ঘটনায় তা’মীরুল মিল্লাত কামিল মাদরাসার এক শিক্ষার্থী নিহতের জেরে ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ করেছেন সাধারণ শিক্ষার্থীরা। নিরাপদ সড়ক ও গাজীপুরা এলাকায় ফুটওভার ব্রিজ নির্মাণসহ তিন দফা দাবিতে আজ রোববার (৯ আগস্ট) বেলা ১১টা থেকে এই অবরোধ কর্মসূচি পালিত হয়। পরে প্রশাসনের সুনির্দিষ্ট আশ্বাসে শিক্ষার্থীরা অবরোধ তুলে নেন।
নিহত ওই শিক্ষার্থীর নাম ইয়াসীন আলী। সে তা’মীরুল মিল্লাত কামিল মাদরাসার নবম শ্রেণির ছাত্র ছিল। জানা যায়, গত শনিবার রাতে গাজীপুরা বাসস্ট্যান্ড এলাকায় রাস্তা পার হওয়ার সময় বেপরোয়া গতির একটি কাভার্ডভ্যান ইয়াসীনকে সজোরে ধাক্কা দেয়। গুরুতর আহত অবস্থায় তাকে উদ্ধার করা হলেও পরে সে মারা যায়। ঘটনার পরপরই ঘাতক কাভার্ডভ্যানটি আটক করা সম্ভব হলেও চালক পালিয়ে যায়।
সহপাঠীর এমন মর্মান্তিক মৃত্যুর প্রতিবাদে আজ সকাল থেকেই বিক্ষোভে ফেটে পড়েন শিক্ষার্থীরা। কয়েক হাজার শিক্ষার্থী ব্যানার ও প্ল্যাকার্ড হাতে শালিকচূড়া এলাকায় মহাসড়ক অবরোধ করেন। এর ফলে ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়কের উভয় পাশে শত শত যানবাহন আটকা পড়ে এবং দীর্ঘ যানজটের সৃষ্টি হয়।
শিক্ষার্থীদের তীব্র আন্দোলনের মুখে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে দ্রুত ঘটনাস্থলে ছুটে যান গাজীপুরের জেলা প্রশাসক নুরুল করিম ভূঁইয়া, গাজীপুর সিটি কর্পোরেশনের প্রশাসক শওকত হোসেন এবং গাজীপুর মেট্রোপলিটন পুলিশের (জিএমপি) কমিশনার ইসরাইল হাওলাদার। এ সময় শিক্ষার্থীদের পক্ষে আলোচনায় বসেন মাদরাসার অধ্যক্ষ ড. হেফজুর রহমান, সহকারী অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ সালমান ফার্সি, তা’মীরুল মিল্লাত কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদের (টাকসু) ভিপি মঈনুল ইসলাম ও জিএস মুর্তজা হাসান ফুয়াদসহ অন্যান্য শিক্ষক ও ছাত্রনেতারা।
আলোচনা শেষে উপস্থিত প্রশাসন গাজীপুরা এলাকায় দ্রুত ফুটওভার ব্রিজ নির্মাণসহ শিক্ষার্থীদের তিন দফা দাবি বাস্তবায়নের জোরালো আশ্বাস দেয়। দাবিগুলো দ্রুত পূরণের লক্ষ্যে প্রশাসন, টাকসু এবং মাদরাসা অধ্যক্ষের সমন্বয়ে ছয় সদস্যের একটি বাস্তবায়ন কমিটি গঠন করা হয়েছে।
এছাড়া নিহত শিক্ষার্থী ইয়াসীনের পরিবারকে তাৎক্ষণিকভাবে আট লাখ টাকা আর্থিক সহায়তার আনুষ্ঠানিক ঘোষণা দেওয়া হয়। প্রশাসন ও মাদরাসা কর্তৃপক্ষের এই যৌথ আশ্বাস ও দৃশ্যমান পদক্ষেপের পর শিক্ষার্থীরা সড়ক থেকে সরে যান এবং মহাসড়কে যান চলাচল স্বাভাবিক হতে শুরু করে।
শুভ্র/
