জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম বিশ্ববিদ্যালয়ের ২০তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী এবং ২০২৫-২৬ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থীদের নবীনবরণ উৎসবমুখর পরিবেশে উদযাপিত হয়েছে। বুধবার প্রথমবারের মতো বিশ্ববিদ্যালয়ের টিএসসি অডিটোরিয়ামে এই ওরিয়েন্টেশন প্রোগ্রামের আয়োজন করা হয়। প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে দিনব্যাপী আয়োজনের মধ্যে ছিল বর্ণাঢ্য র্যালি, পতাকা উত্তোলন, বৃক্ষরোপণ, বেলুন ওড়ানো এবং পুষ্পস্তবক অর্পণ। মূল অনুষ্ঠানে নবীন শিক্ষার্থীদের ফুল দিয়ে বরণ করে নেন বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন ও আমন্ত্রিত অতিথিরা।
অনুষ্ঠানে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য প্রফেসর ড. মোহাম্মদ মোশাররফ হোসেনের সভাপতিত্বে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরী কমিশনের (ইউজিসি) চেয়ারম্যান প্রফেসর ড. মামুন আহমেদ। বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন ময়মনসিংহ ৭ (ত্রিশাল) আসনের সংসদ সদস্য ও বিশ্ববিদ্যালয়ের সিন্ডিকেট সদস্য ডা. মাহবুবুর রহমান, বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য ড. এ কে ফজলুল হক ভূঁইয়া এবং কলা অনুষদের ডিন প্রফেসর ড. মোহাম্মদ ইমদাদুল হুদা। বিশেষ অতিথির বক্তব্যে ডা. মাহবুবুর রহমান বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রতিষ্ঠার ইতিহাস তুলে ধরে বলেন, সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার কাছে তিনি ত্রিশালে এই বিশ্ববিদ্যালয় স্থাপনের অনুরোধ করেছিলেন। ২০০৫ সালের ১ মার্চ এর ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন এবং ২০০৬ সালের ২৫ মে উদ্বোধন করা হয়, যা তার জানামতে দেশের সবচেয়ে দ্রুততম সময়ে প্রতিষ্ঠিত বিশ্ববিদ্যালয়। তিনি নিয়মিত সমাবর্তন আয়োজনেরও আহ্বান জানান।

প্রধান অতিথির বক্তব্যে ইউজিসি চেয়ারম্যান প্রফেসর ড. মামুন আহমেদ বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠায় অবদান রাখা সবার প্রতি কৃতজ্ঞতা জানান। তিনি বলেন, এখানে পড়াশোনা ও গবেষণার চমৎকার পরিবেশ রয়েছে। নবীন শিক্ষার্থীদের উদ্দেশ্যে তিনি বলেন, কবি নজরুলের আদর্শে অনুপ্রাণিত হয়ে সবাইকে সমান চোখে দেখতে হবে। আগামী দিনের প্রতিযোগিতায় টিকে থাকতে শুধু পাঠ্যবইয়ে সীমাবদ্ধ না থেকে সহশিক্ষামূলক কার্যক্রমেও নিজেদের দক্ষ করে তোলার পরামর্শ দেন তিনি।
সভাপতির বক্তব্যে উপাচার্য প্রফেসর ড. মোহাম্মদ মোশাররফ হোসেন বলেন, বিশ্ববিদ্যালয়ের উন্নয়নের মূল মাপকাঠি হলো নতুন কিছু উদ্ভাবন করা। বিজ্ঞানের মৌলিক বিষয়গুলো এখনো চালু না হলেও দ্রুত সময়ের মধ্যে প্রতিষ্ঠানটিকে আরও আধুনিক ও যুগোপযোগী করে গড়ে তোলার কাজ চলছে। ভর্তিযুদ্ধে জয়ী শিক্ষার্থীদের অভিনন্দন জানিয়ে তিনি বলেন, সামনের দীর্ঘ ও প্রতিযোগিতামূলক পথ পাড়ি দিতে অধ্যবসায় চালিয়ে যেতে হবে। অনুষ্ঠানে নবীনদের পক্ষ থেকে দুজন শিক্ষার্থী তাদের অনুভূতি ব্যক্ত করেন। শিক্ষক, শিক্ষার্থী, কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণে পুরো আয়োজনটি দারুণ প্রাণবন্ত হয়ে ওঠে।
