পোষাক শ্রমিকদের ন্যুনতম মজুরি নির্ধারণের লক্ষ্যে সরকার ত্রিপক্ষীয় মজুরি কমিশন গঠন করে আগামী ডিসেম্বর মাস থেকেই নতুন বেতন কাঠামো কার্যকর করার সিদ্ধান্তের পর আজ সকাল থেকে গাজীপুর শিল্পাঞ্চলের প্রায় সকল কারখানায় শ্রমিকরা কাজে যোগ দিয়েছেন|
জেলার টঙ্গী, বাসন, কোনাবাড়ি ও শ্রীপুরের প্রায় শতভাগ কারখানায় বৃহস্পতিবার সকাল থেকে স্বাভাবিক উৎপাদন কার্যক্রম চলতে দেখা গেছে| তবে দুষ্কৃতিকারীদের হামলার আশঙ্কায় অনেক কারখানায় নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করা হয়েছে| আইনশৃঙ্খলা বাহিনীও সতর্ক অবস্থানে রয়েছে|
সরকার মজুরি বোর্ড গঠনে দ্রুত পদক্ষেপ গ্রহণ করায় শ্রমিকরা উৎসবমুখর পরিবেশে কাজে যোগ দিয়েছেন বলে কারখানা কর্তৃপক্ষ বাসস’কে জানিয়েছেন| জেলার টঙ্গী চেরাগ আলী এলাকার একটি পোষাক কারখানায় সকালের শিফটে কাজ শেষে শ্রমিকরা বাড়ি ফেরার পথে আমজাদ হোসাইন নামের এক শ্রমিকের সাথে কথা হয় বাসস প্রতিনিধির|
তিনি বলেন, ‘আমরা চাই কারখানা চালু থাকুক| কারখানা বন্ধ হলে আমরা কাজ করবো কোথায়| আমাদের স্যারেরা বলেছেন, সরকার গঠিত মজুরি বোর্ডের সিদ্ধান্ত মোতাবেক আগামী ডিসে¤^র থেকে শ্রমিকদের বেতন বৃদ্ধি পাবে| আমরা সরকারের এই উদ্যোগে খুশি|’
জেলার সাতাইশ গাজীপুরা এলাকার পোষাক শ্রমিক তানিয়া বাসস’কে বলেন, ‘কারখানায় যারা গন্ডগোল করেছে তারা আমাদের কারখানার কেউ না| তাদের কাউকে আমরা চিনি না| বাইর থেকে আইসা তারা কারখানার সামনে মিছিল করে| আমাদের মালিকরা সময়মত বেতন দিয়ে দেন| আমাদের কারখানা বন্ধ ছিল না| আমরা প্রতিদিনই কাজ করেছি| আইজও কাজে যাচ্ছি|’
বৃহস্পতিবার দুপুর পর্যন্ত গাজীপুর জেলার কোথাও শ্রমিকদের মিছিল মিটিং বা বিশৃঙ্খলার খবর পাওয়া যায়নি| সকাল থেকে ঢাকা-টঙ্গী, ঢাকা-ময়মনসিংহ ও ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়কে যান চলাচল ¯^াভাবিক রয়েছে|
এরআগে গত শনিবার থেকে মঙ্গলবার পর্যন্ত পোশাক শ্রমিকদের ন্যূনতম মজুরি বৃদ্ধির দাবিতে টানা চার দিন ধরে গাজীপুরে আন্দোলন ও বিক্ষোভ চলে| এ সময় কিছু কারখানায় ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগের ঘটনা ঘটে| তবে উদ্ভূত পরিস্থিতিতে গতকাল বুধবার সকাল থেকে অধিকাংশ কারখানায় উৎপাদন কার্যক্রম স্বাভাবিক রয়েছে| নিরাপত্তার স্বার্থে কিছু কিছু কারখানায় কর্তৃপক্ষ ছুটি ঘোষণা করেছেন|
শ্রমিক অসন্তোষ নিরসনে গত মঙ্গলবার গাজীপুর প্রেসক্লাবে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে ৩৫টি শ্রমিক সংগঠনের সমন্বয়ে গঠিত ‘শ্রমিক মুক্তি সংগ্রাম পরিষদ, গাজীপুর’-এর নেতারা শ্রমিকদের কর্মস্থলে ফিরে যাওয়ার আহ্বান জানান|
সংগঠনটির সভাপতি তমিজ উদ্দিন তনু বাসস’কে বলেন, ‘পোশাক শিল্প দেশের অর্থনীতির অন্যতম চালিকাশক্তি| শ্রমিকদের ন্যায্য দাবির আন্দোলনকে পুঁজি করে কোনো কুচক্রী মহল বা বহিরাগত যেন শিল্পাঞ্চলে অস্থিতিশীল পরিস্থিতি ˆতরি করতে না পারে, সে বিষয়ে সবাইকে সতর্ক থাকতে হবে|’
তিনি আরও অভিযোগ করেন, শ্রমিকদের আন্দোলনে অনুপ্রবেশ করে যারা ভাঙচুর, অগ্নিসংযোগ ও পুলিশের ওপর হামলার মতো ঘটনা ঘটিয়েছে, তাদের দ্রুত আইনের আওতায় আনতে হবে|
বাংলাদেশ গার্মেন্টস অ্যান্ড শিল্প শ্রমিক ফেডারেশনের যুগ্ম আহ্বায়ক মো. শফিউল আলম বাসস’কে বলেন, সরকার মজুরি বোর্ড গঠন করায় শ্রমিকদের দাবির বিষয়ে আলোচনার সুযোগ ˆতরি হয়েছে| এই বোর্ডের ওপর আস্থা রেখে আলোচনার মাধ্যমে ন্যায্য সমাধানে পৌঁছানো সম্ভব| শ্রমিকদের বিরুদ্ধে অযথা দমন-পীড়ন না চালিয়ে তাদের সঙ্গে মানবিক আচরণ নিশ্চিত করার দাবিও জানান তিনি|
পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে আজ সকাল থেকেই গাজীপুর শিল্পাঞ্চল এলাকার গুরুত্বপূর্ণ স্থানসমূহে সতর্কাবস্থান নিয়েছে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী| জেলা প্রশাসন সূত্রে জানা যায়, পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে ২৫জন নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটের নেতৃত্বে ১২ প্লাটুন বিজিবি, ৮ প্লাটুন এসআরবি, ৫ প্লাটুন আনসার সদস্যের পাশাপাশি পুলিশ ও শিল্প পুলিশ যৌথভাবে দায়িত্ব পালন করছে|
শিল্পাঞ্চলে শান্তি বজায় রাখতে স্থানীয় সংসদ সদস্যগণ এবং গাজীপুর সিটি করপোরেশনের প্রশাসকসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক ব্যক্তিবর্গ মাঠে থেকে পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করছেন এবং শ্রমিকদের বুঝিয়ে কাজে ফিরিয়ে আনার চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন|
