শিরোনাম:
Network News BD
শুক্রবার, ২৩ অক্টোবর ২০২৬
মেনু
প্রচ্ছদ

© 2026 Network News BD

কেমন ক্যাম্পাস চান চট্টগ্রাম সরকারি সিটি কলেজের শিক্ষার্থীরা

ক্যাম্পাস ডেস্ক

ক্যাম্পাস ডেস্ক

প্রকাশিত: ২৩ অক্টোবর ২০২৬, ৭:১৫ PM ২১ বার পঠিত
কেমন ক্যাম্পাস চান চট্টগ্রাম সরকারি সিটি কলেজের শিক্ষার্থীরা

ছবি: কলেজের ওয়েবসাইট

একটি ক্যাম্পাসের দেয়াল যতটা দৃশ্যমান, তার ভেতরে জমে থাকা শিক্ষার্থীদের স্বপ্ন, আক্ষেপ ও প্রত্যাশা ততটাই অদৃশ্য। কোথাও সম্ভাবনার দুয়ার খুলছে, কোথাও সামান্য সুযোগের অভাবে থমকে যাচ্ছে মেধার বিকাশ। চট্টগ্রাম সরকারি সিটি কলেজও এর বাইরে নয়। কারও কাছে এই ক্যাম্পাস আত্মগঠনের প্রথম পাঠশালা, কারও কাছে নতুন সম্ভাবনার সন্ধান; আবার কারও চোখে এখানকার কিছু সীমাবদ্ধতা বদলে যাওয়ার অপেক্ষায় থাকা বাস্তবতা। শিক্ষার্থীরা এখানে শুধু পাঠ্যসূচি শেষ করতে আসেন না, তাঁরা খোঁজেন জ্ঞানচর্চার পরিসর, প্রতিভা প্রকাশের মঞ্চ, নিরাপদ পরিবেশ এবং ভবিষ্যতের প্রস্তুতি নেওয়ার সুযোগ। ক্যাম্পাসকে ঘিরে শিক্ষার্থীদের ভাবনা ও প্রত্যাশাগুলো গ্রন্থনা করেছেন চট্টগ্রাম সরকারি সিটি কলেজের শিক্ষার্থী ও তরুণ লেখক মুহিবুল হাসান রাফি।

আমাদের ক্যাম্পাস আমাদের কথা
চট্টগ্রাম সরকারি সিটি কলেজ শুধু একটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান নয়, হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন গড়ার ঠিকানা। সহজ যাতায়াতের সুবিধা ও প্রায় ১৭টি সম্মান বিভাগের কারণে কলেজটি উচ্চশিক্ষায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে। তবে সম্ভাবনার পাশাপাশি রয়েছে কিছু সীমাবদ্ধতা। গত চার বছরের অভিজ্ঞতায় দেখেছি, আবাসিক হলের অভাবে দূরবর্তী জেলার শিক্ষার্থীদের পড়াশোনা ও যাতায়াতে বাড়তি ভোগান্তি পোহাতে হয়। ক্যাম্পাসে ক্যান্টিন না থাকায় খাবারের জন্যও শিক্ষার্থীদের বাইরের ওপর নির্ভর করতে হয়। এই সীমাবদ্ধতা দূর করতে শিক্ষার্থী ও শিক্ষকদের মতামতের ভিত্তিতে বাস্তবসম্মত পরিকল্পনা প্রয়োজন। ক্যান্টিন স্থাপন, আবাসিক হল নির্মাণ এবং সহশিক্ষামূলক কার্যক্রমের সুযোগ বাড়াতে কলেজ কর্তৃপক্ষের কার্যকর উদ্যোগ জরুরি। কারণ একটি আদর্শ ক্যাম্পাস শুধু সনদ দেয় না, গড়ে তোলে দক্ষ ও মানবিক মানুষ।
মোহাম্মদ ইফতি
শিক্ষার্থী, প্রাণিবিদ্যা বিভাগ (চতুর্থ বর্ষ)

ক্যান্টিন আবাসন ও নিরাপত্তা চাই
চট্টগ্রাম সরকারি সিটি কলেজে প্রতিদিন অসংখ্য শিক্ষার্থী স্বপ্ন গড়তে আসেন। কিন্তু শিক্ষার পরিবেশ পূর্ণাঙ্গ করতে প্রয়োজনীয় কিছু সুবিধার ঘাটতি এখনো ভোগান্তি বাড়াচ্ছে। ক্যাম্পাসে ক্যান্টিন না থাকায় শিক্ষার্থীদের বাইরের স্টলের খাবারের ওপর নির্ভর করতে হয়। পরিচ্ছন্ন, সাশ্রয়ী ও স্বাস্থ্যসম্মত খাবারের নিশ্চয়তায় তাই ক্যান্টিন স্থাপন জরুরি। ছাত্রীনিবাসের সুবিধা থাকলেও বিশুদ্ধ পানির সংকট শিক্ষার্থীদের দুর্ভোগে ফেলছে। ছোট ফিল্টারে চাহিদা মেটে না; প্রয়োজন পর্যাপ্ত নিরাপদ পানির ব্যবস্থা। পাশাপাশি ক্যাম্পাসে পর্যাপ্ত নিরাপত্তাকর্মী, কার্যকর নজরদারি ও জরুরি সহায়তা নিশ্চিত করাও গুরুত্বপূর্ণ। শিক্ষার্থীদের এসব দাবি বিলাসিতা নয়, মৌলিক প্রয়োজন। ক্যান্টিন, বিশুদ্ধ পানি ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে কলেজ প্রশাসনের কার্যকর উদ্যোগ চাই। শিক্ষাবান্ধব ক্যাম্পাস গড়তে শুধু পাঠদান নয়, শিক্ষার্থীদের সুস্থতা ও নিরাপত্তাকেও সমান গুরুত্ব দিতে হবে।
নাজমা আক্তার
শিক্ষার্থী, বাংলা বিভাগ (দ্বিতীয় বর্ষ)

শুধু ফল নয় প্রতিভারও মূল্যায়ন চাই
চট্টগ্রাম সরকারি সিটি কলেজ শুধু পরীক্ষায় ভালো ফল করার জায়গা নয়, শিক্ষার্থীদের সুপ্ত প্রতিভা বিকাশেরও ক্ষেত্র। অথচ অনেক সময় মেধার মূল্যায়ন সীমাবদ্ধ থাকে পরীক্ষার নম্বরে। ফলে গান, সাহিত্য, বিতর্ক, খেলাধুলা কিংবা নেতৃত্বে দক্ষ শিক্ষার্থীদের সম্ভাবনা যথাযথভাবে বিকশিত হয় না। একটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের সাফল্য শুধু ফলাফলে নয়, শিক্ষার্থীদের সৃজনশীলতা, আত্মবিশ্বাস ও মানবিক গুণাবলি বিকাশেও প্রতিফলিত হয়। তাই কলেজে নিয়মিত বিতর্ক প্রতিযোগিতা, সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান, সাহিত্যচর্চা ও ক্রীড়া কার্যক্রম বাড়ানো জরুরি। এ ক্ষেত্রে শিক্ষক ও কলেজ প্রশাসনের উৎসাহ এবং সহযোগিতা গুরুত্বপূর্ণ। আমরা এমন ক্যাম্পাস চাই, যেখানে নম্বরের পাশাপাশি যোগ্যতা, আগ্রহ ও সৃজনশীলতারও মূল্যায়ন হবে। কারণ প্রকৃত শিক্ষা শুধু সনদ অর্জন নয়; নিজের সম্ভাবনা চিনে সমাজে ইতিবাচক অবদান রাখার সক্ষমতা অর্জনও।
আরসিফা সুলতানা করিম
শিক্ষার্থী, ইংরেজি বিভাগ (দ্বিতীয় বর্ষ)

শিক্ষার মানে চাই পরিকল্পিত শ্রেণিকক্ষ
চট্টগ্রাম সরকারি সিটি কলেজে রাষ্ট্রবিজ্ঞানে সম্মান প্রথম বর্ষে পড়তে গিয়ে যেমন আন্তরিক শিক্ষকদের পেয়েছি, তেমনি দেখেছি কিছু কাঠামোগত সীমাবদ্ধতা। বিভাগে পর্যাপ্ত শিক্ষক না থাকায় নিয়মিত ক্লাস নেওয়া ব্যাহত হয়; কখনো ক্লাস পিছিয়ে যায়, কখনো বাতিল হয়। এতে পাঠ্যক্রম শেষ করা ও পরীক্ষার প্রস্তুতি নিয়ে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়। গ্রীষ্মে শ্রেণিকক্ষে পর্যাপ্ত বাতাসের অভাবেও মনোযোগ ধরে রাখা কঠিন। অন্যদিকে প্রথম বর্ষের বই সেমিনারে এসেছে শিক্ষাবর্ষের প্রায় শেষ দিকে। ফলে প্রয়োজনীয় বইয়ের সহায়তা থেকে শিক্ষার্থীরা বঞ্চিত হয়েছেন। শিক্ষার মান নিশ্চিত করতে শিক্ষকসংকট নিরসন, শ্রেণিকক্ষের পরিবেশ উন্নয়ন এবং সময়মতো সেমিনারে বই সরবরাহ জরুরি। শিক্ষকদের আন্তরিকতা প্রশংসনীয়; এবার প্রয়োজন প্রশাসনিক উদ্যোগ। সুন্দর ক্যাম্পাসের প্রত্যাশা পূরণ হোক কার্যকর পদক্ষেপে।
মাওয়া বিনতে সাত্তার তন্না
শিক্ষার্থী, রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগ (২০২৪ ২০২৫ শিক্ষাবর্ষ)

কলেজ আছে জ্ঞানচর্চার পরিসর কতটা বিস্তৃত
চট্টগ্রাম সরকারি সিটি কলেজ আমার কাছে শুধু শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান নয়, নিজেকে গড়ে তোলার এক অনন্য ক্ষেত্র। তবে শিক্ষা কি কেবল পাঠ্যবই ও পরীক্ষার ফলাফলে সীমাবদ্ধ থাকবে, নাকি ছড়িয়ে পড়বে জীবনের বাস্তব অভিজ্ঞতায়? যুব রেড ক্রিসেন্টের সঙ্গে যুক্ত হয়ে দুর্যোগে মানুষের পাশে দাঁড়ানো, অসহায়দের সহযোগিতা এবং শিশুদের পড়ানোর অভিজ্ঞতা আমাকে মানবিকতা, দায়িত্ববোধ ও সেবার প্রকৃত অর্থ শিখিয়েছে। এসব অর্জন শ্রেণিকক্ষের বাইরের জ্ঞানচর্চাকে সমৃদ্ধ করেছে। এমন অভিজ্ঞতার সুযোগ সবার জন্য বিস্তৃত করা জরুরি। স্বেচ্ছাসেবা, বিতর্ক, সাহিত্যচর্চা ও সহশিক্ষামূলক কার্যক্রমে শিক্ষার্থীদের অংশগ্রহণ বাড়াতে কলেজ প্রশাসনের কার্যকর উদ্যোগ প্রয়োজন। আমরা এমন ক্যাম্পাস চাই, যেখানে সনদের পাশাপাশি জ্ঞান, দক্ষতা ও মানবিকতার চর্চা সমান গুরুত্ব পাবে।
মেহেরুন্নেসা প্রীতি
শিক্ষার্থী, দর্শন বিভাগ (প্রথম বর্ষ)

ডিজিটাল যুগের শিক্ষার্থী কলেজ কতটা প্রস্তুত
ডিজিটাল যুগে শিক্ষার মান নির্ভর করে শুধু পাঠ্যবইয়ে নয়, প্রযুক্তির সহজলভ্যতার ওপরও। চট্টগ্রাম সরকারি সিটি কলেজে ভর্তি, ফলাফল দেখা ও বিভিন্ন ফরম পূরণের মতো কার্যক্রম অনলাইনভিত্তিক হওয়া ইতিবাচক অগ্রগতি। কিছু বিভাগে প্রজেক্টর ও মাল্টিমিডিয়া ব্যবহারে পাঠদানও হয়েছে আরও সহজবোধ্য। তবে ডিজিটাল শিক্ষার পূর্ণ সুফল পেতে প্রযুক্তির ব্যবহার যথেষ্ট নয়; শিক্ষার্থীদের নাগালের মধ্যে তা পৌঁছানো জরুরি। সহজলভ্য ও নিরবচ্ছিন্ন ইন্টারনেটের অভাব ডিজিটাল শিক্ষার সম্ভাবনাকে সীমিত করে। কলেজকে সময়োপযোগী করতে ক্যাম্পাসে শিক্ষার্থীদের জন্য দ্রুতগতির ওয়াইফাই, আধুনিক শ্রেণিকক্ষ ও প্রযুক্তিনির্ভর পাঠদানের সুযোগ বাড়াতে হবে। ডিজিটাল শিক্ষা যেন কেবল প্রশাসনিক সুবিধায় সীমাবদ্ধ না থাকে; প্রতিটি শিক্ষার্থীর জ্ঞান ও দক্ষতা বিকাশের হাতিয়ার হয়ে উঠুক।
মিম আক্তার
শিক্ষার্থী, অর্থনীতি বিভাগ (প্রথম বর্ষ)

ক্যাম্পাসে স্বস্তি চাই শুধু উপস্থিতি নয়
চট্টগ্রাম সরকারি সিটি কলেজে প্রতিদিন শিক্ষার্থীদের পদচারণায় মুখর থাকে ক্যাম্পাস। কিন্তু শিক্ষার্থীর উপস্থিতিই কি একটি প্রাণবন্ত শিক্ষাঙ্গনের পূর্ণ পরিচয়? প্রকৃত ক্যাম্পাস হবে এমন, যেখানে পড়াশোনার পাশাপাশি থাকবে মুক্তচিন্তা, নিরাপত্তা, মানসিক স্বস্তি ও সৃজনশীলতার সুযোগ। শুধু হাজিরা নিশ্চিত করলেই শিক্ষার মান বাড়ে না; প্রয়োজন সহায়ক পরিবেশ ও শিক্ষক শিক্ষার্থীর আন্তরিক সম্পর্ক। পর্যাপ্ত বইসমৃদ্ধ গ্রন্থাগার, পরিচ্ছন্ন ক্যাম্পাস, প্রযুক্তির সহজলভ্যতা এবং সক্রিয় সাংস্কৃতিক ও সহশিক্ষামূলক কার্যক্রম শিক্ষার্থীদের শেখার আগ্রহ বাড়াতে পারে। তাই কলেজ প্রশাসনের কাছে প্রত্যাশা, শিক্ষার্থীদের মতামতকে গুরুত্ব দিয়ে ক্যাম্পাসের পরিবেশ আরও শিক্ষাবান্ধব করা হোক। আমরা এমন ক্যাম্পাস চাই, যেখানে শিক্ষার্থীরা শুধু ক্লাস করতে নয়, স্বস্তিতে শিখতে, ভাবতে ও নিজেদের বিকশিত করতে আসবেন।
নিশান কুমার দাস
শিক্ষার্থী, অর্থনীতি বিভাগ (প্রথম বর্ষ)

মন্তব্য করুন

আজকের নামাজের সময়সূচি (ঢাকা)

সময় লোড হচ্ছে...

ADVERTISEMENT

ফেসবুকে আমরা

প্রতিদিনের খবর ইমেইলে

লিংক কপি হয়েছে!