শিরোনাম:
Network News BD
শুক্রবার, ২৩ অক্টোবর ২০২৬
মেনু
প্রচ্ছদ

© 2026 Network News BD

লেখালেখির নতুন যাত্রায় ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের দুই শতাধিক তরুণ

ক্যাম্পাস ডেস্ক

ক্যাম্পাস ডেস্ক

প্রকাশিত: ২৩ অক্টোবর ২০২৬, ৬:৪৩ PM ৩৭ বার পঠিত
লেখালেখির নতুন যাত্রায় ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের দুই শতাধিক তরুণ

ছবি: লেখকের সৌজন্যে

হাবিব আল মিসবাহ:

কলমের ডগায় জমে থাকা কত না কথা। কারও ভেতরে গল্প, কারও মনে প্রশ্ন, কারও চোখে সমাজবদলের স্বপ্ন। শুধু প্রয়োজন সেই ভাবনাগুলোকে শব্দে রূপ দেওয়ার সাহস। সেই সাহসের হাত ধরেই যেন ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের সবুজ শ্যামল প্রাঙ্গণে শুরু হলো দুই শতাধিক তরুণের নতুন এক পথচলা।

দুপুরের মায়াবী আলো তখন ধীরে ধীরে নরম হয়ে আসছে। বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় ফুটবল মাঠের বিস্তৃত সবুজ যেন ঘিরে রেখেছে একঝাঁক তরুণ স্বপ্নকে। মাঠজুড়ে প্রাণের স্পন্দন, পরিচিত ও অপরিচিত মুখের আনাগোনা আর নতুন কিছু করার প্রত্যয়ে মুখর পরিবেশ। সম্প্রতি এমন এক আবহেই দুপুর সোয়া ২টায় বাংলাদেশ তরুণ কলাম লেখক ফোরাম ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় শাখার মাসিক সাধারণ সভা ও নবীনবরণ অনুষ্ঠান শুরু হয়। ২০২৫-২৬ শিক্ষাবর্ষের প্রায় দেড় শ এবং ২০২৪-২৫ সহ অন্যান্য শিক্ষাবর্ষের আরও প্রায় ৫০ জন নবীন লেখককে নিয়ে সাজানো হয় আয়োজনটি। অনুষ্ঠানের শুরুতেই পবিত্র কোরআন ও গীতা পাঠের মধ্য দিয়ে সম্প্রীতি, জ্ঞান ও সৃষ্টিশীলতার আবহ তৈরি হয়।

ইবি লেখক ফোরামের দপ্তর সম্পাদক হিসেবে উদ্বোধনী বক্তব্যে আমি লেখক হওয়ার প্রচলিত মানসিক বাধার একটি গুরুত্বপূর্ণ দিক তুলে ধরি। আমি বলি, লেখক হতে হলে আজ থেকে আমি লেখক হতে চাই কথাটি ভুলে যেতে হবে। এটি বলা মানে আমি পারি না বলে মস্তিষ্ককে ভুল বার্তা দেওয়া এবং লেখা শুরু না করার অজুহাত তৈরি করা মাত্র। কথাটির ভেতরে রয়েছে লেখালেখির একটি গুরুত্বপূর্ণ মনস্তাত্ত্বিক শিক্ষা। আমি লেখক হতে চাই কথাটি অনেক সময় লক্ষ্যকে ভবিষ্যতের কোনো অনিশ্চিত সময়ে ঠেলে দেয়। ফলে লেখক হওয়ার প্রস্তুতি চলতে থাকে, কিন্তু লেখা শুরু হয় না। বিপরীতে আমি লিখছি বা আমি লেখক আত্মপরিচয়টি মানুষকে কাজের সঙ্গে যুক্ত করে। লেখালেখিতে দক্ষতা আসে মূলত নিয়মিত চর্চা, পড়াশোনা, পর্যবেক্ষণ ও লেখার মধ্য দিয়ে। তাই লেখক হওয়ার অপেক্ষা নয়, লেখার মধ্য দিয়েই লেখক হয়ে ওঠার যাত্রা শুরু করতে হয়।

উদ্বোধনী পর্বের পর শুরু হয় পরিচয়পর্ব। প্রথমে সংগঠনের কার্যনির্বাহী সদস্যরা নিজেদের পরিচয় দেন। এরপর একে একে নিজেদের কথা জানান নবীন লেখকেরা। কারও কণ্ঠে ছিল জড়তা, কারও কথায় আত্মবিশ্বাস, আবার কারও পরিচয়ে ফুটে উঠছিল লেখালেখি নিয়ে নতুন স্বপ্ন। একসময় অপরিচিত মুখগুলো পরিচিত হতে শুরু করে। নামের সঙ্গে যুক্ত হয় বিভাগ, ব্যাচ, আগ্রহ ও স্বপ্ন। পরিচয়ের আনুষ্ঠানিকতা ধীরে ধীরে রূপ নেয় বন্ধুত্বের সূচনায়। যেন দুই শ তরুণের সামনে খুলে যায় চিন্তা ও সৃষ্টিশীলতা ভাগ করে নেওয়ার নতুন একটি পরিসর।

এরপর অনুষ্ঠানে যোগ দেন সংগঠনের সাবেক দায়িত্বশীলরা। ক্যাম্পাসজীবনের শেষ প্রান্তে চাকরির প্রস্তুতি, সনদ উত্তোলনসহ নানা ব্যস্ততার মধ্যেও তাঁরা ছুটে আসেন নবীনদের কাছে। তাঁদের এই উপস্থিতি শুধু একটি অনুষ্ঠানে যোগ দেওয়া ছিল না, বরং নিজেদের অভিজ্ঞতা পরবর্তী প্রজন্মের হাতে তুলে দেওয়ার এক আন্তরিক প্রয়াস ছিল। সাবেকরা নবীনদের সঙ্গে নিজেদের পথচলার গল্প ভাগ করে নেন। লেখালেখির শুরুতে কী ধরনের বাধা এসেছে, কীভাবে নিয়মিত লেখার অভ্যাস তৈরি করতে হয় এবং সংগঠনের সঙ্গে যুক্ত থেকে কীভাবে শেখা যায়, এসব অভিজ্ঞতার কথা তুলে ধরে তাঁরা নবীনদের উৎসাহিত করেন। তাঁদের কথায় বারবার ফিরে আসে একটি বিষয়, লেখালেখিতে প্রতিভার চেয়ে ধারাবাহিকতা অনেক বেশি গুরুত্বপূর্ণ।

কিছু সময় পর অনুষ্ঠানে যোগ দেন বাংলাদেশ তরুণ কলাম লেখক ফোরামের কেন্দ্রীয় সভাপতি রুহুল আমিন। ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় শাখা যে পাঁচবারের বর্ষসেরা শাখা, সেই সাফল্যের প্রসঙ্গ তুলে ধরে তিনি নবীনদের সামনে সম্ভাবনার একটি বড় পরিসর উন্মোচন করেন। তিনি নবীনদের লেখালেখিতে সক্রিয় থাকার পাশাপাশি সংগঠনের কার্যক্রমে সম্পৃক্ত হওয়ার এবং ধারাবাহিকতা বজায় রাখার আহ্বান জানান। একটি সংগঠনের সাফল্য কেবল পুরস্কার বা স্বীকৃতিতে নয়, বরং তার পরবর্তী প্রজন্ম কতটা এগিয়ে যেতে পারছে, তার মধ্যেই সাফল্যের প্রকৃত মূল্য নিহিত থাকে বলে তিনি উল্লেখ করেন।

এরপর আসে সেই প্রতীক্ষিত মাহেন্দ্রক্ষণ, নবীনদের আনুষ্ঠানিকভাবে বরণ করে নেওয়ার পালা। কাগজে মোড়ানো ছোট্ট ফিতায় বাঁধা চিরকুট, চকলেট ও মিষ্টি একে একে তুলে দেওয়া হয় নবীন লেখকদের হাতে। ছোট্ট এই উপহারের সঙ্গে জড়িয়ে ছিল বড় এক বার্তা। চিরকুটে লেখা ছিল, বাংলাদেশ তরুণ কলাম লেখক ফোরাম ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় শাখার সৃজনশীল পরিবারে আপনাকে জানাই উষ্ণ অভ্যর্থনা ও আন্তরিক অভিনন্দন। সঙ্গে ছিল চিন্তার দীপ্তি, মননের গভীরতা এবং কলমের শাণিত শক্তিতে সময়ের সচেতন কণ্ঠস্বর হয়ে ওঠার আহ্বান। প্রতিটি শব্দে নতুন ভাবনা, প্রতিটি লেখায় সত্য, সৌন্দর্য ও মানবিকতার অনুরণন ছড়িয়ে দেওয়ার প্রত্যাশাও জানানো হয়। নতুন পথচলাকে জ্ঞান, সৃজনশীলতা ও সম্ভাবনার এক দীপ্ত অভিযাত্রায় পরিণত করার শুভকামনা ছিল সেই ছোট্ট শুভেচ্ছাবার্তায়। এরপর নবীনদের হাতে তুলে দেওয়া হয় লেখক ফোরাম ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় শাখার দ্বিমাসিক ম্যাগাজিন ডাকঘর। একটি ম্যাগাজিন যেন নবীনদের হাতে তুলে দেয় লেখালেখির বাস্তব এক দরজা, যেখানে অন্যের লেখা পড়ার পাশাপাশি এক দিন নিজের লেখাও জায়গা করে নিতে পারে।

শেষ পর্বে সবাই এক ফ্রেমে বন্দী হন গ্রুপ ছবিতে। সবুজ মাঠের পটভূমিতে দুই শতাধিক নবীন লেখক, দায়িত্বশীল ও সাবেকদের সেই সম্মিলিত উপস্থিতি যেন এক নতুন অধ্যায়ের দৃশ্যমান দলিল হয়ে থাকে। এরপর একসঙ্গে উচ্চারিত হয় বাংলাদেশ তরুণ কলাম লেখক ফোরামের প্রত্যয়বাক্য সুপ্ত প্রতিভা বিকশিত হোক লেখনীর ধারায়। দুই শ তরুণের কণ্ঠে উচ্চারিত সেই স্লোগানে মুখর হয়ে ওঠে চারপাশ। মুহূর্তটি যেন শুধু একটি আয়োজনের সমাপ্তি নয়, বরং নতুন এক যাত্রার প্রতিশ্রুতি। সেদিন ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের সবুজ মাঠে শুধু নবীনদের বরণ করা হয়নি, বরণ করা হয়েছে তাদের ভেতরে লুকিয়ে থাকা অগণিত ভাবনা, স্বপ্ন ও সম্ভাবনাকে। আজ যাঁরা নবীন লেখক হিসেবে পরিচিত হলেন, তাঁদের কারও কলম হয়তো এক দিন ক্যাম্পাস পেরিয়ে পৌঁছে যাবে বৃহত্তর সমাজে। কেউ লিখবেন মানুষের কথা, কেউ তুলে ধরবেন সময়ের সংকট, কেউ প্রশ্ন তুলবেন অন্যায়ের বিরুদ্ধে। আর সেই যাত্রার প্রথম পাতায় লেখা থাকবে একটি দিনের কথা, যেদিন ইবি লেখক ফোরামের ছায়ায় দুই শ নবীন লেখক একসঙ্গে শুরু করেছিলেন তাঁদের কলমযাত্রা।

 শিক্ষার্থী, আল-কুরআন অ্যান্ড ইসলামিক স্টাডিজ বিভাগ ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়, কুষ্টিয়া।

মন্তব্য করুন

আজকের নামাজের সময়সূচি (ঢাকা)

সময় লোড হচ্ছে...

ADVERTISEMENT

ফেসবুকে আমরা

প্রতিদিনের খবর ইমেইলে

লিংক কপি হয়েছে!