সনাতন ধর্মাবলম্বীদের অন্যতম প্রধান ধর্মীয় উৎসব শারদীয় দুর্গোৎসবের আজ শনিবার ছিল মহাসপ্তমী পূজা। এবছর ছয় দিনব্যাপী শারদীয় দুর্গাপূজার আজ ছিল দ্বিতীয় দিন। তবে তিথি অনুযায়ী এবার মহাসপ্তমী দুই দিন ধরে পালিত হবে।
বাংলা পঞ্জিকা অনুযায়ী, শনি ও রোববার এই দুই দিন জুড়ে ‘মহাসপ্তমী’ তিথি থাকায় এ বছর দুইদিনব্যাপী মহা সপ্তমী পূজা অনুষ্ঠিত হবে। তবে সপ্তমী পূজার মূল অনুষ্ঠিকতা আজ সকালে অনুষ্ঠিত হয়েছে। এইদিন সকাল থেকে দূর্গাভক্তরা দেবীর আরাধনায় পূজামণ্ডপগুলোতে দিনভর ভিড় জমায়। সারা দেশের মন্দিরগুলোতে সপ্তমী পূজার পর ভক্তরা পুষ্পাঞ্জলি প্রদান করছেন।
সপ্তমীর সকালে পূজার শুরুতেই দেবী দূর্গার প্রতিবিম্ব আয়নায় ফেলে বিশেষ ধর্মীয় রীতিতে স্নান করানো হয়। এরপর করা হয় নবপত্রিকা স্থাপন। নবপত্রিকার আরেক নাম হলো কলা বৌ স্নান। এছাড়া দেবীর চক্ষুদানের মাধ্যমে দেবী দূর্গার প্রাণ প্রতিষ্ঠা করা হয়। পূজা শেষে হাতের মুঠোয় ফুল, বেলপাতা নিয়ে ভক্তরা মন্ত্র উচ্চারণের মধ্য দিয়ে এবারের পূজার প্রথম অঞ্জলি দেন দেবীর পায়ে। করজোড়ে কাতর কণ্ঠে জগজ্জননীর কাছে নিজের শাস্তি কামনায় প্রার্থনা করেন ভক্তরা। ঢাকের বাদ্য, কাসর ঘন্টা কিংবা শঙ্খধ্বনিতে দেবীর আরাধনার পাশাপাশি সবেতেই যেনো ছিলো একই আর্তি।
মহাষষ্ঠী পূজার মধ্যদিয়ে শুক্রবার শুরু হয় সার্বজনীন শারদীয় দুর্গোৎসব। বিজয়া দশমীতে দেবী বিসর্জনের মধ্যদিয়ে আগামী ২১ অক্টোবর দূর্গোৎসব শেষ হবে।
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নির্দেশনায় দুর্গাপূজার মণ্ডপগুলোর জন্য সরকারি অনুদান ৪ কোটি টাকা থেকে বাড়িয়ে ৫ কোটি টাকা করা হয়েছে।
পঞ্জিকা মতে, জগতের মঙ্গল কামনায় এবার দেবী দুর্গা ঘোড়ায় চড়ে স্বর্গলোক থেকে মর্ত্যে আগমন করবেন। অন্যদিকে, দেবী নৌকায় চড়ে স্বর্গলোকে গমন করবেন।
বাংলাদেশ পূজা উদযাপন পরিষদের তথ্য অনুযায়ী, এ বছর সারা দেশে মোট ৩৩ হাজার ৮৫১টি পূজা মণ্ডপ স্থাপন করা হয়েছে, যার মধ্যে ২৫৮টি রয়েছে রাজধানীতে। গত বছরের তুলনায় এবার মণ্ডপের সংখ্যা প্রায় ১ হাজার ৫০০টি বেড়েছে।
গুলশান-বনানী পূজা ফাউন্ডেশন বনানীর কামাল আতাতুর্ক পার্কে অন্যতম জমকালো উদযাপনের আয়োজন করছে। এবারের আয়োজনের মূলভাব বা থিম হলো ‘জলজ’, যা জীবন, সৃষ্টি ও দিব্য শক্তির উৎস হিসেবে জল থেকে অনুপ্রেরণা গ্রহণ করেছে।
এ বছরও শান্তিপূর্ণ পরিবেশে দূর্গা পুজা উদযাপনের জন্য রাজধানীসহ সারাদেশে বিশেষ নিরাপত্তা ব্যবস্থা গড়ে তোলা হয়েছে। পূজামন্ডপগুলোতে আনসার, পুলিশ ও র্যাবসহ আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর অতিরিক্ত সদস্য মোতায়েন করা হয়েছে। পুলিশ ও র্যাবের পাশাপাশি প্রায় প্রতিটি মন্ডপে স্বেচ্ছাসেবক বাহিনী দায়িত্ব পালন করছে। ঢাকেশ্বরী মন্দির মেলাঙ্গণে মহানগর সার্বজনীন পূজা কমিটির উদ্যোগে কেন্দ্রীয় নিয়ন্ত্রণ কক্ষ খোলা হয়েছে।
হিন্দু সম্প্রদায়ের দীর্ঘদিনের দাবির প্রেক্ষিতে সরকার এ বছর নির্বাহী আদেশের মাধ্যমে দুর্গাপূজার ছুটি তিন দিন পর্যন্ত বর্ধিত করেছে। শুক্র ও শনিবারের সাপ্তাহিক ছুটির সঙ্গে এই বর্ধিত ছুটি যুক্ত হয়ে ২০ থেকে ২৪ অক্টোবর পর্যন্ত মোট পাঁচ দিনের ছুটি পাওয়া যাবে।
বাংলাদেশ পূজা উদযাপন পরিষদের সভাপতি বাসুদেব ধর বাসস’কে বলেন, ‘এটি সত্যিই একটি ইতিবাচক সিদ্ধান্ত। এমন সিদ্ধান্তের জন্য আমরা প্রধানমন্ত্রীকে ধন্যবাদ জানাই।’ দুর্গাপূজা কেবল একটি প্রধান ধর্মীয় উৎসব হিসেবেই নয়, বরং বাংলাদেশের সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যের একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ হিসেবেও উদযাপিত হয়।
এই উৎসব হিন্দু সম্প্রদায় ও অন্যান্য ধর্মের মানুষকে একত্রিত করে, যা দেশের সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি ও শান্তিপূর্ণ সহাবস্থানের ঐতিহ্যকেই তুলে ধরে।
