শিরোনাম:
Network News BD
বুধবার, ১৪ অক্টোবর ২০২৬
মেনু
প্রচ্ছদ

© 2026 Network News BD

গরুর মাংস রান্নায় ‘মন্দিরের ইট’—জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ে আসলে কী হয়েছে?

ক্যাম্পাস প্রতিনিধি

ক্যাম্পাস প্রতিনিধি

প্রকাশিত: ১৪ অক্টোবর ২০২৬, ৯:২০ PM ১৮ বার পঠিত
গরুর মাংস রান্নায় ‘মন্দিরের ইট’—জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ে আসলে কী হয়েছে?

ফাইল ছবি

জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের (জবি) মুক্তমঞ্চে গরুর মাংস রান্নায় ‘মন্দিরের ইট’ ব্যবহারের অভিযোগকে কেন্দ্র করে ক্যাম্পাসে উত্তেজনা ও বিতর্কের সৃষ্টি হয়েছে। এ ঘটনাকে ঘিরে মানববন্ধন ও বিক্ষোভ করেছেন সনাতন ধর্মাবলম্বী শিক্ষার্থীরা।

অন্যদিকে সংশ্লিষ্ট শিক্ষার্থীদের দাবি, রান্নার সময় আশপাশে থাকা কয়েকটি ইট ব্যবহার করা হলেও সেগুলো মন্দিরের বলে জানার পর আর ব্যবহার করা হয়নি। এ পরিস্থিতিতে ক্যাম্পাসে যেকোনো ধরনের পশু জবাই নিষিদ্ধ করে বিজ্ঞপ্তি দিয়েছে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন। বুধবার (১৪ অক্টোবর) বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর (অতিরিক্ত দায়িত্ব) অধ্যাপক ড. মো. আজম খান স্বাক্ষরিত এক বিজ্ঞপ্তিতে এ নির্দেশনা দেওয়া হয়।

বিজ্ঞপ্তিতে বিশ্ববিদ্যালয়ের সব শিক্ষক, শিক্ষার্থী, কর্মকর্তা ও কর্মচারীকে ক্যাম্পাসে পশু জবাই থেকে বিরত থাকার অনুরোধ জানানো হয়েছে। নির্দেশনা অমান্য করলে ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের (ডিএসসিসি) প্রকাশিত গণবিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলেও উল্লেখ করা হয়েছে। এ ক্ষেত্রে ডিএসসিসির বিজ্ঞপ্তির স্মারক নম্বর জিএসসিসি/পিআরডি/৭৯/২০২৬-২০২৭ উল্লেখ করা হয়।

ঘটনার সূত্রপাত গত ১২ অক্টোবর। ওই দিন জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের ইসলামের ইতিহাস ও সংস্কৃতি বিভাগের ১৭তম ব্যাচের শিক্ষার্থীরা গরুর মাংসের ভুনা খিচুড়ি দিয়ে একটি ফিস্ট পার্টির আয়োজন করেন। গ্যাস সংকটের কারণে ক্যাফেটেরিয়ায় রান্না করা সম্ভব না হওয়ায় বিকল্প হিসেবে তাঁরা মুক্তমঞ্চের সামনে রান্নার ব্যবস্থা করেন। তবে সেখানে সনাতন ধর্মাবলম্বী শিক্ষার্থীদের বাধার মুখে পড়লে পরবর্তীতে রান্নার স্থান পরিবর্তন করে রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগের সামনে নিয়ে যাওয়া হয়। এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে সনাতন ধর্মাবলম্বী শিক্ষার্থীরা ধর্ম অবমাননার অভিযোগ তোলেন।

আয়োজক শিক্ষার্থীরা জানান, তাদের এ আয়োজনের সঙ্গে ধর্ম অবমাননা কিংবা কারও ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাত করার বিন্দুমাত্র উদ্দেশ্য ছিল না। এটি ছিল শুধুই বিশ্ববিদ্যালয়জীবনের শেষ স্মৃতিকে ঘিরে শিক্ষার্থীদের একটি সাধারণ আয়োজন।
তারা বলেন, আমরা সব ধর্মের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনায় কেউ কষ্ট পেয়ে থাকলে আন্তরিকভাবে দুঃখ প্রকাশ করছি। তবে প্রকৃত ঘটনা ও আমাদের উদ্দেশ্য বিবেচনা না করে ধর্ম অবমাননার অভিযোগ তোলা দুঃখজনক। আমরা চাই, ভুল বোঝাবুঝির অবসান ঘটুক এবং বিশ্ববিদ্যালয়ে সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি ও পারস্পরিক শ্রদ্ধা অটুট থাকুক।

পরবর্তীতে ঘটনাটি নিয়ে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের অভ্যন্তরীণ বিভিন্ন গ্রুপে লেখালেখি শুরু হলে ভারতের বিভিন্ন গণমাধ্যম ও অনলাইন পোর্টালেও ধর্ম অবমাননার অভিযোগ তুলে সংবাদ প্রকাশিত হয়। এ ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন ক্যাম্পাসে সব ধরনের পশু জবাই নিষিদ্ধ করে।

মন্তব্য করুন

আজকের নামাজের সময়সূচি (ঢাকা)

সময় লোড হচ্ছে...

ADVERTISEMENT

ফেসবুকে আমরা

প্রতিদিনের খবর ইমেইলে

লিংক কপি হয়েছে!