২০২৬ সালে সাহিত্যে নোবেল পুরস্কার পেয়েছেন কানাডীয় কবি ও প্রাবন্ধিক অ্যান কারসন। বৃহস্পতিবার সুইডিশ একাডেমি বিশ্বের অত্যন্ত মর্যাদাপূর্ণ এই সাহিত্য পুরস্কারের জন্য তাঁর নাম ঘোষণা করে। ‘অটোবায়োগ্রাফি অব রেড’ সহ বিভিন্ন ঘরানা-অতিক্রমী বা জনরা-ক্রসিং সাহিত্যকর্মের জন্য তিনি বিশ্বজুড়ে সমাদৃত।
সুইডিশ একাডেমি তাদের ঘোষণায় জানিয়েছে, অ্যান কারসনের সাহসী ও উদ্ভাবনী সাহিত্যকর্ম ধ্রুপদি ঐতিহ্যের সঙ্গে এক কৌতুকপূর্ণ সংলাপের মধ্য দিয়ে সমসাময়িক সাহিত্যের জন্য নতুন রূপ তৈরি করেছে।
১৯৫০ সালে কানাডার টরন্টোতে জন্মগ্রহণ করেন ৭৬ বছর বয়সী এই লেখক। কবিতা, গদ্য এবং অনুবাদের জগতে তাঁর অবাধ বিচরণ। তাঁর লেখায় প্রাচীন গ্রিক সাহিত্য ও পুরাণের গভীর প্রভাব লক্ষ করা যায়।
কারসনের প্রথম বই ‘ইরোস দ্য বিটারসুইট’ প্রকাশিত হয় ১৯৮৬ সালে। সেখানে সাহিত্য সমালোচনার সঙ্গে আকাঙ্ক্ষা ও প্রাচীন গ্রিক ঐতিহ্যের অন্বেষণ ফুটে ওঠে। তবে তাঁর সবচেয়ে বিখ্যাত কাজ হলো ১৯৯৮ সালে প্রকাশিত পদ্যে লেখা উপন্যাস ‘অটোবায়োগ্রাফি অব রেড’। প্রাচীন গ্রিক কবি স্টেসিকোরাসের লেখার খণ্ডিতাংশ থেকে অনুপ্রাণিত হয়ে এটি রচিত। এখানে গেরিয়ন নামের এক পৌরাণিক ডানাওয়ালা দানবকে আধুনিক যুগের এক কিশোর হিসেবে উপস্থাপন করা হয়েছে, যে তার প্রেম ও হৃদয়ভাঙার গল্প নিয়ে এগিয়ে যায়।
২০০১ সালে ‘দ্য বিউটি অব দ্য হাজব্যান্ড’ কাব্যগ্রন্থের জন্য প্রথম নারী হিসেবে টিএস এলিয়ট পুরস্কার জেতেন তিনি। এ ছাড়া গুগেনহেইম ও ম্যাকআর্থার ফেলোশিপের মতো সম্মাননাও অর্জন করেছেন তিনি।
কারসনের বইগুলো নানা আঙ্গিকে রচিত হয়েছে। তাঁর অন্যান্য উল্লেখযোগ্য গ্রন্থের মধ্যে রয়েছে ‘মেন ইন দ্য অফ আওয়ার্স’, ‘ডিক্রিয়েশন’, ‘নক্স’, ‘রেড ডক>’ এবং ‘ফ্লোট’। প্রখ্যাত লেখক সুসান সনট্যাগ তাঁর সাহিত্যকর্মের ভূয়সী প্রশংসা করে একবার বলেছিলেন, ইংরেজিতে লেখা হাতেগোনা কয়েকজন লেখকের মধ্যে কারসন এমন একজন, যাঁর যেকোনো লেখাই তিনি বিনা দ্বিধায় কেনেন এবং পড়েন।
১৯০১ সাল থেকে এ পর্যন্ত ১১৮ বার সাহিত্যে নোবেল পুরস্কার দেওয়া হয়েছে। সাম্প্রতিক বিজয়ীদের মধ্যে রয়েছেন অ্যানি এরনো, বব ডিলান, আবদুলরাজাক গুরনাহ, লুইস গ্লুক, পিটার হ্যান্ডকে এবং ওলগা তোকারচুক। গত বছর এই পুরস্কার পেয়েছিলেন হাঙ্গেরীয় লেখক লাজলো ক্রাসনাহোরকাই।
আগামী ডিসেম্বরে সুইডেনের স্টকহোমে এক আনুষ্ঠানিকতার মধ্য দিয়ে অ্যান কারসনের হাতে নোবেল পদক ও সনদ তুলে দেওয়া হবে।
শুভ্র/
