শিরোনাম:
Network News BD
বুধবার, ৭ অক্টোবর ২০২৬
মেনু
প্রচ্ছদ

© 2026 Network News BD

দ্রোহ ও ভালোবাসার কবি হেলাল হাফিজের জন্মদিন আজ

শব্দশৈলী ডেস্ক

প্রকাশিত: ৭ অক্টোবর ২০২৬, ৯:৫৩ AM ১৯ বার পঠিত
দ্রোহ ও ভালোবাসার কবি হেলাল হাফিজের জন্মদিন আজ

ছবি: সংগৃহীত

‘এখন যৌবন যার, মিছিলে যাবার তার শ্রেষ্ঠ সময়’—বাংলাদেশের রাজনৈতিক ও সাংস্কৃতিক ইতিহাসে বহুল উচ্চারিত এই পঙক্তির কবি হেলাল হাফিজ। প্রেম, দ্রোহ, তারুণ্য আর দেশপ্রেমকে নিজের কবিতায় একসূত্রে বেঁধেছিলেন তিনি। আজ ৭ অক্টোবর, বাংলা কবিতার এই জনপ্রিয় কবির জন্মদিন।

১৯৪৮ সালের ৭ অক্টোবর নেত্রকোনার আটপাড়া উপজেলার বড়তলী গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন হেলাল হাফিজ। বাবা খোরশেদ আলী তালুকদার ছিলেন স্কুলশিক্ষক, মা কোকিলা বেগম ছিলেন গৃহিণী। শৈশব, কৈশোর ও তারুণ্যের বড় একটি সময় কেটেছে নেত্রকোনায়। পরে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলা বিভাগে পড়াশোনা করেন তিনি।

ষাটের দশকের উত্তাল রাজনৈতিক সময়েই হেলাল হাফিজের লেখালেখির শুরু। ১৯৬৯ সালের গণঅভ্যুত্থানের সময় লেখা ‘নিষিদ্ধ সম্পাদকীয়’ কবিতার পঙক্তি দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে মানুষের মুখে মুখে। ‘এখন যৌবন যার, মিছিলে যাবার তার শ্রেষ্ঠ সময়’ কিংবা ‘এখন যৌবন যার, যুদ্ধে যাবার তার শ্রেষ্ঠ সময়’—এই উচ্চারণ শুধু একটি সময়ের রাজনৈতিক আবেগকে ধারণ করেনি, পরবর্তী বিভিন্ন গণতান্ত্রিক আন্দোলনেও নতুন প্রজন্মকে অনুপ্রাণিত করেছে।

তবে হেলাল হাফিজের কবিতা কেবল রাজপথের দ্রোহে সীমাবদ্ধ ছিল না। তাঁর কবিতায় পাশাপাশি জায়গা পেয়েছে প্রেম, বিচ্ছেদ, একাকিত্ব, ব্যক্তিগত বেদনা ও জীবনের নানা টানাপোড়েন। এ কারণেই একদিকে তাঁর কবিতা মিছিলে উচ্চারিত হয়েছে, অন্যদিকে প্রেমিকের চিঠি কিংবা ব্যক্তিগত অনুভূতির ভাষা হিসেবেও পাঠকের কাছে জায়গা করে নিয়েছে।

দীর্ঘ সময় লেখালেখির সঙ্গে যুক্ত থাকলেও হেলাল হাফিজের প্রকাশিত কাব্যগ্রন্থের সংখ্যা তুলনামূলকভাবে কম। ১৯৮৬ সালে প্রকাশিত হয় তাঁর প্রথম কাব্যগ্রন্থ ‘যে জলে আগুন জ্বলে’। বইটি প্রকাশের পর তিনি বাংলা কবিতার পাঠকদের মধ্যে ব্যাপক জনপ্রিয়তা অর্জন করেন। এরপর দীর্ঘ বিরতির পর ২০১২ সালে প্রকাশিত হয় ‘কবিতা একাত্তর’। পরে প্রকাশিত হয় ‘বেদনাকে বলেছি কেঁদো না’।

‘নিষিদ্ধ সম্পাদকীয়’, ‘দুঃসময়ে আমার যৌবন’, ‘অস্ত্র সমর্পণ’, ‘বেদনা বোনের মতো’, ‘ইচ্ছে ছিল’, ‘দুঃখের আরেক নাম’, ‘একটি পতাকা পেলে’, ‘ফেরিওয়ালা’ ও ‘অমীমাংসিত’সহ তাঁর বেশ কিছু কবিতা বাংলা সাহিত্যে পাঠকের কাছে বিশেষভাবে পরিচিত। তাঁর কবিতার ভাষা ছিল সহজ, কিন্তু অনুভূতির গভীরতা ছিল তীব্র।

কবিতার পাশাপাশি সাংবাদিকতাকেও পেশা হিসেবে নিয়েছিলেন হেলাল হাফিজ। বিভিন্ন সংবাদপত্রে সাংবাদিকতা ও সাহিত্য সম্পাদনার সঙ্গে যুক্ত ছিলেন তিনি। নিজের জীবনযাপনেও ছিলেন অনেকটাই প্রচলিত ছকের বাইরে। কবিতার প্রতি গভীর অনুরাগ এবং ব্যক্তিজীবনের নিঃসঙ্গতা তাঁর জীবন ও সৃষ্টিকে আলাদা এক মাত্রা দিয়েছে।

কবিতায় অসামান্য অবদানের স্বীকৃতি হিসেবে ২০১৩ সালে বাংলা একাডেমি পুরস্কার পান হেলাল হাফিজ। এ ছাড়া যশোর সাহিত্য পরিষদ পুরস্কার, আবুল মনসুর আহমদ সাহিত্য পুরস্কার এবং নেত্রকোনা সাহিত্য পরিষদের কবি খালেকদাদ চৌধুরী পুরস্কার ও সম্মাননাসহ বিভিন্ন স্বীকৃতি পেয়েছেন। ২০২৫ সালে তাঁকে মরণোত্তর একুশে পদকও দেওয়া হয়।

২০২৪ সালের ১৩ ডিসেম্বর ঢাকায় মারা যান হেলাল হাফিজ। মৃত্যুর পরও তাঁর কবিতা থেমে যায়নি। বরং তারুণ্যের স্বপ্ন, প্রতিবাদের ভাষা, প্রেমের আকুলতা আর ব্যক্তিগত বেদনার সঙ্গে মিশে তাঁর কবিতা এখনো ফিরে আসে নতুন প্রজন্মের কাছে। তাই একজন কবির জন্মদিন কেবল তাঁর জন্মের দিন নয়, তাঁর সৃষ্টিকে নতুন করে মনে করারও দিন। হেলাল হাফিজের জন্মদিনে বাংলা কবিতার পাঠকের কাছে সেই স্মরণ আরও গভীর হয়ে ওঠে।

মন্তব্য করুন

আজকের নামাজের সময়সূচি (ঢাকা)

সময় লোড হচ্ছে...

ADVERTISEMENT

ফেসবুকে আমরা

প্রতিদিনের খবর ইমেইলে

লিংক কপি হয়েছে!