শিরোনাম:
Network News BD
বৃহস্পতিবার, ২৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬
মেনু
প্রচ্ছদ

© 2026 Network News BD

রোহিঙ্গাদের জন্য ৫০ লাখ ডলার সহায়তা দিয়েছে দক্ষিণ কোরিয়া

ডেস্ক রিপোর্ট

প্রকাশিত: ২১ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৮:৪৮ PM ৩৪ বার পঠিত
রোহিঙ্গাদের জন্য ৫০ লাখ ডলার সহায়তা দিয়েছে দক্ষিণ কোরিয়া

ছবি: সংগৃহীত

বাংলাদেশে আশ্রয় নেওয়া রোহিঙ্গা শরণার্থীদের খাদ্য সহায়তা, পুষ্টি সেবা এবং স্কুল ফিডিং কার্যক্রম অব্যাহত রাখতে জাতিসংঘের বিশ্ব খাদ্য কর্মসূচি (ডব্লিউএফপি)-কে ৫০ লাখ মার্কিন ডলার দিয়েছে দক্ষিণ কোরিয়া।

ডব্লিউএফপির এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে আজ বলা হয়েছে, এই অর্থায়নের মাধ্যমে ডব্লিউএফপি ৪ লাখ ৬২ হাজারেরও বেশি রোহিঙ্গাকে সহায়তা দিতে পারবে। এর আওতায় রয়েছে ঝুঁকিপূর্ণ পরিবার, গর্ভবতী ও স্তন্যদানকারী নারী এবং লার্নিং সেন্টারে অধ্যয়নরত শিশুরা।

দক্ষিণ কোরিয়ার পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় গত জুলাইয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে এ অর্থায়নের ঘোষণা দেয়। কক্সবাজার ও ভাসানচরে প্রায় ১২ লাখ রোহিঙ্গা আন্তর্জাতিক অর্থায়নের ওপর ক্রমবর্ধমান চাপের মধ্যেও মানবিক সহায়তার ওপর নির্ভরশীল থাকায়, এই অর্থায়ন দেওয়া হলো।

এই সহায়তার আওতায় ৩৬ হাজারের বেশি গর্ভবতী ও স্তন্যদানকারী নারী পুষ্টি সহায়তা পাবেন। এছাড়া লার্নিং সেন্টারে অধ্যয়নরত ২ লাখ ৬০ হাজার শিশু স্কুল ফিডিং কর্মসূচির আওতায় আসবে।

এই অর্থায়ন দক্ষিণ কোরিয়ার পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের একটি গুরুত্বপূর্ণ মানবিক উদ্যোগ ‘রেসপন্ডিং উইথ ইমার্জেন্সি অ্যাসিস্ট্যান্স ফর কনফ্লিক্ট-অ্যাফেক্টেড হাউসহোল্ডস’ (রিচ)-এর দ্বিতীয় পর্যায়েও সহায়তা করবে। ডব্লিউএফপির অংশীদারত্বে এ উদ্যোগ বাস্তবায়ন করা হচ্ছে।

বাংলাদেশে এই উদ্যোগের আওতায় সংঘাত ও বাস্তুচ্যুতির কারণে ক্ষতিগ্রস্ত ঝুঁকিপূর্ণ জনগোষ্ঠীর জন্য মানবিক সহায়তা দেওয়া হয়।

ডব্লিউএফপির ই-ভাউচার ব্যবস্থার মাধ্যমে রোহিঙ্গা পরিবারগুলো তাদের প্রয়োজন অনুযায়ী খাবার বেছে নিতে পারে। আর পুষ্টি সেবার আওতায় অপুষ্টি শনাক্ত হলে গর্ভবতী ও স্তন্যদানকারী নারীদের পুষ্টিকর খাবার ও চিকিৎসা দেওয়া হয়।

স্কুল ফিডিং কর্মসূচির আওতায় স্কুলের দিনগুলোতে শিশুদের পুষ্টিসমৃদ্ধ খাবার দেওয়া হয়। এর মাধ্যমে তাদের পুষ্টির চাহিদা পূরণ এবং লার্নিং সেন্টারে নিয়মিত উপস্থিতিতে উৎসাহিত করা হয়।

বাংলাদেশে নিযুক্ত দক্ষিণ কোরিয়ার রাষ্ট্রদূত কিম জি-জুন বলেন, ঝুঁকিপূর্ণ জনগোষ্ঠীর সুরক্ষা এবং বৈশ্বিক মানবিক প্রচেষ্টায় অবদান রাখার বিষয়ে তার দেশ প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।

তিনি বলেন, ‘একসময় আন্তর্জাতিক সহায়তা পাওয়া কোরিয়া প্রজাতন্ত্র এখন বিশ্বের বিভিন্ন স্থানে মানবিক সংকটে ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের পাশে দাঁড়াতে ডব্লিউএফপির সঙ্গে কাজ করতে পেরে গর্বিত। এর মধ্যে বাংলাদেশে আশ্রয় নেওয়া রোহিঙ্গা শরণার্থীরাও রয়েছেন।’

বাংলাদেশে ডব্লিউএফপির প্রতিনিধি ও কান্ট্রি ডিরেক্টর কোকো উশিয়ামা রোহিঙ্গা সংকট দশম বছরে পদার্পণের প্রাক্কালে আন্তর্জাতিক সহায়তা অব্যাহত রাখার প্রয়োজনীয়তার ওপর গুরুত্বারোপ করেন।

তিনি বলেন, ‘জীবন রক্ষা, মর্যাদা সমুন্নত রাখা এবং শিশু ও পরিবারগুলো যাতে তাদের মৌলিক খাদ্য ও পুষ্টির চাহিদা পূরণ করতে পারে, তা নিশ্চিত করতে অব্যাহত আন্তর্জাতিক সহায়তা অপরিহার্য।’

সংকটের এই গুরুত্বপূর্ণ সময়ে রোহিঙ্গাদের পাশে অব্যাহতভাবে থাকার জন্য দক্ষিণ কোরিয়া সরকার ও দেশটির জনগণের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন উশিয়ামা।

দক্ষিণ কোরিয়া ও ডব্লিউএফপি ছয় দশকেরও বেশি সময় ধরে অংশীদার হিসেবে কাজ করছে। ১৯৬৪ সাল থেকে তাদের সহযোগিতা শুরু হয়।

বাংলাদেশে ডব্লিউএফপির মানবিক কার্যক্রমে নগদ অর্থ ও পণ্য সহায়তা উভয়ই দিয়ে আসছে সিউল।
সর্বশেষ ৫০ লাখ মার্কিন ডলারের অবদানের ফলে বাংলাদেশে মানবিক কার্যক্রমে ডব্লিউএফপির ই-ভাউচার ব্যবস্থার মাধ্যমে দক্ষিণ কোরিয়ার নগদ সহায়তার পরিমাণ বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১ কোটি ১৯ লাখ মার্কিন ডলার।

মন্তব্য করুন

আজকের নামাজের সময়সূচি (ঢাকা)

সময় লোড হচ্ছে...

ADVERTISEMENT

ফেসবুকে আমরা

প্রতিদিনের খবর ইমেইলে

লিংক কপি হয়েছে!